মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২০

আরও কাছাকাছি পাকিস্তান-বাংলাদেশ নেপথ্যে চিন? চোয়াল শক্ত হচ্ছে নয়াদিল্লির


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চিন ক্রমেই তাদের প্রভাববলয় বিস্তার করে চলেছে। স্বভাবতই পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, বাংলাদেশ, মালদ্বীপের মতো দেশগুলোকে নিয়ে চিন-ভারত দড়ি টানাটানি লেগেই রয়েছে। এবার নেপথ্য থেকে চিনের কলকাঠি নাড়ানোর আরও এক প্রমাণ পাওয়া গেল। সেটা হল পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক দূরত্ব ইদানিংকালে কমছে। অর্থাৎ দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চিন এবং ভারত উভয়ের জন্যই বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই উভয়পক্ষই এইসব প্রতিবেশি দেশগুলোকে কাছে টানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অনুন্নত বা ধীরলয়ে উন্নয়নশীল হওয়ায় এইসব দেশগুলোতে চিন এতবেশি বিনিয়োগ করছে বা বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে সহজ শর্তে এতবেশি ঋণ দিচ্ছে যে, ভারত সেই দৌত্যে পিছিয়ে পড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়– বন্ধু জোটানোর ক্ষেত্রে ভারত ক্রমেই চিনের তুলনায় শ্লথগতিসম্পন্ন হয়ে পড়ছে।

অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক নানান বিষয়ে টেলিকথন হয়েছে। ইমরান খান এবং শেখ হাসিনার ফোনালাপে আঞ্চলিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের র*পরেখা ছাড়াও আর্থিক এবং সাংস্কৃতিক আদান প্রদানে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ইসলামাবাদ এবং ঢাকা প্রশাসনের তরফে স্বীকারও করা হয়েছে যে, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে কথোপকথন নতুন মাইলস্টোন হয়ে থাকবে। যদিও ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এখনও সেভাবে শোধরানো সম্ভবপর হয়নি। তারওপর ২০১৬ সালে যুদ্ধাপরাধী অভিযোগে বেশ কয়েকজন জামায়াতে ইসলামির নেতাকে মৃতু্যদণ্ড দেওয়ায় পাক-বাংলাদেশ সম্পর্কে ফাটল আরও বাড়ে। পাকিস্তান সরাসরি অভিযোগ করেছিল, শুধুমাত্র সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থেই ইসলামি আন্দোলনের নেতাদেরকে ফাঁসিতে ঝোলাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু ৪ বছর আগের সেই পর্ব এখন ইতিহাস। ইমরান-হাসিনার টেলিকথনে বরফ গলতে শুরু করেছে বলেই অনুমান বিশ্লেষকদের। তাঁদের অভিমত, চিনকে কোণঠাসা করতে হলে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক মসৃণ করতেই হবে ভারতকে। কিন্তু সেটা হওয়ার লক্ষণ তেমন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে বাংলাদেশ যেহেতু জন্মলগ্ন থেকেই নয়াদিল্লির খুব কাছের। সেহেতু গঙ্গা ও পদ্মাপারের মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় হওয়া উচিত ছিল।

কিন্তু ইদানিংকালে দেখা যাচ্ছে,কূটনৈতিক দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। স্বভাবতই এতে করে চিনের ফায়দা হচ্ছে। বাংলাদেশকে ভারত নিকট অতীতে যেসব আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, হয়ত কূটনৈতিক জটিলতার কারণে সেগুলো পূরণ করতে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা যাচ্ছে। ফলে শূন্যস্থান পূরণে এই সুযোগে চিন দ্রুত বাংলাদেশকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে কাছে টানছে। তবে এরইমধ্যে আশার কথা হল, কাশ্মীর ইস্যুতে ইমরানের সঙ্গে না কি সহমত পোষণ করেননি হাসিনা। তিনি সাফ বলে দিয়েছেন, ভারতের অভ্যন্তরীন ইস্যু কাশ্মীর নিয়ে বাংলাদেশ বাইরে থেকে নাক গলাতে রাজি নয়। যদিও মাত্র ক’দিন আগেই নয়াদিল্লিকে ঢাকা বলেছে, বিতর্কিত অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ করা হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কুপ্রভাব পড়বে। এই বলে ভারতকে সতর্কবার্তাও দিয়েছে হাসিনার দেশ।

অন্যদিকে, ২৭ জুলাই পাকিস্তান, নেপাল এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক করে চিন। বেজিং বলে– করোনা সঙ্কটের জেরে পড়তি অর্থনীতির গতিবৃদ্ধির লক্ষ্যেই না কি এই বৈঠক। চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এবং বলেন, যৌথ আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তোলাই এই ৪ দেশীয় জোটের লক্ষ্য। বৈঠকে অংশ নেন সংশ্লিষ্ট ৪ দেশের বিদেশমন্ত্রী। তবে চিনের অজুহাতকে ভারত মোটেই ভালোভাবে দেখছে না। চিন এভাবে লাগাতার প্রতিবেশিদেরকে ভাঙানোর নোংরা খেলায় মেতে রয়েছে। ২৬ জুলাই কার্গিল বিজয় দিবসেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ অভিযোগ করেন, নয়াদিল্লি যখন বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছিল, পাকিস্তান তখন পিছন থেকে ছুরি মেরেছে। তারপরেও কাশ্মীরের হুরিয়াত কনফারেন্স নেতা সাঈয়েদ আলি শাহ গিলানিকে সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করে নতুন করে বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছে পাকিস্তান।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only