বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০

এ বছর ৫ শতাংশ মুসলিম ইউপিএসসিতে সফল, প্রথম ১০০-র মধ্যে স্থান মুসলিম তরুণী সাফনা


নয়াদিল্লি:  সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ইউপিএসসি-তে ২০১৯ ব্যাচে সফল হয়েছেন ৮২৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে রয়েছে ৪২ জন মুসলিমও। গতবছরের তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে। আর ২০১৬ সালে রেকর্ড ৫০ জন  মুসলিম ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল হয়েছিলেন। এটাই ছিল ইউপিএসসি-তে মুসলিমদের সর্বাধিক পাশের সংখ্যা। সে বছর সেরা  ১০০ জনের তালিকায় ১০ জন মুসলিম প্রার্থী স্থান পেয়েছিলেন। 

৪৫তম স্থানে থাকা সাফনা নাজারুদ্দিন মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে শীর্ষ স্থানে রয়েছেন। তিনি একমাত্র মুসলিম– যিনি এই বছর সেরা ১০০-র তালিকায় রয়েছেন।

জীবনের প্রথমবার ইউপিএসসিতে বসেই সাফল্য এল এই মুসলিম তরুণীর। তালিকায় ৪৫ নম্বরে আছেন সাফনা। মাত্র ২২ বছর বয়সে ইউপিএসসি তালিকায় স্থান করে নিয়ে এ বছর সর্বকনিষ্ঠ আইএএস হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন সাফনা। সাফনার বাবা নাজারুদ্দিন কেরল পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সাব ইন্সপেক্টর। ৩৫ বছর ধরে তিনি কেরল পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সাফনার মা রমলা ও বাবা নাজারুদ্দিন তাই বেজায় খুশি। আল্লাহ্কে ধন্যবাদ দিয়ে চলেছেন সাফনার সঙ্গে তাঁরাও। 

পড়াশোনায় প্রথম থেকেই সাফনা মেধাবী। সিবিএসসির দ্বাদশ শ্রেণির সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন সাফনা। তারপর ইকোনমিকস নিয়ে ভর্তি হন তিরুবনন্তপুরমের প্রখ্যাত মার ইভানিওস বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। ইচ্ছা ছিল আইএএস হওয়ার। তাই ইউপিএসসিতে বসেছিলেন। আর প্রথমবার বসেই উতরে গেলেন সাফনা।  

মুসলিম ছেলেদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন শেখ মুহাম্মদ জাইব জাকির। তাঁর স্থান ১৫৩।  গতবছর ইউপিএসসিতে তিনি আইপিএস হয়েছিলেন। এবার আইএএস হলেন।

মুসলিম ছেলেদের মধ্যে দ্বিতীয় হয়েছেন, জিতিন রহমান। তাঁর স্থান ১৭৬। গতবছরও জিতিন রহমান সিভিল সার্ভিসে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি যাকাত ফাউন্ডেশন থেকে কোচিং নিয়েছিলেন।

যাকাত ফাউন্ডেশনের জাফর মাহমুদ বলেছেন, ২০১৬ সালের পর থেকে মুসলিম প্রার্থীদের সাফল্য ৫ শতাংশের কাছাকাছি। যা একটি বড় কৃতিত্ব। স্বাধীনতার পর থেকে এই সংখ্যা প্রায় ২.৫ শতাংশ ছিল।

জাফর মাহমুদ বলেছেন, এ বছর ৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জন যাকাত ফাউন্ডেশনের।ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা ইউপিএসসি আয়োজিত এই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন প্রদীপ সিং। দ্বিতীয় হয়েছেন যতীন কিশোর। আর তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন প্রতিভা শর্মা। 

২০০৬ সালে সাচার কমিটির রিপোর্ট বেরোনোর পর মুসলিম সম্প্রদায় উপলব্ধি করে যে, তাদেরকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সাফল্যের জন্য আরও বেশি প্রচেষ্টা ও বিনিয়োগ করতে হবে। সাচার কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ভারতে আইএএসদের মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ হচ্ছে মুসলিম। মাত্র ১.৮ শতাংশ মুসলিম রয়েছে আইএফএস-দের মধ্যে। আর আইপিএস-দের মধ্যে ৪ শতাংশ হচ্ছে মুসলিম। অথচ ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ভারতের জনসংখ্যার মধ্যে ১৪.২ শতাংশ মুসলিম রয়েছে। সাচার কমিটির রিপোর্টের পর ভারতীয় মুসলিমরা আইএএস, আইপিএস, আইএফএস তৈরি করার জন্য বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এদের ভেতরে রয়েছে যাকাত ফাউন্ডেশন, হামদর্দ স্টাডি সার্কল, আগাজ ফাউন্ডেশন, লার্কসপুর ফাউন্ডেশন ইত্যাদি। 

আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কাশ্মীরের মেয়ে নাজিয়া বেগ ৩৫০তম স্থান পেয়ে এই পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করেছেন। অনেকে বলছেন, কাশ্মীরে অশান্তি, এক বছর লকডাউন ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তাঁর এই সাফল্য প্রশংনীয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only