বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০

কোনও বার্তা ছাড়ায় ঢাকায় বিদেশ সচিব শ্রিংলা, বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সঙ্গে

আহমদ হাসান ইমরান

হঠাৎই ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় উপস্থিত হয়েছেন। পূর্বনির্ধারিত কোনও ঘোষণা কিংবা কর্মসূচি ছাড়াই ভারতের বিদেশ সচিবের দু’দিনের সফরে ঢাকায় আগমন নিয়ে বেশ খানিকটা কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। 

ইদানীং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে খানিকটা হলেও চিড় ধরেছে বলে ওয়াকিফহাল মহল মনে করছেন। অবশ্য ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন, প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গেই ভারতের সবথেকে ভালো সম্পর্ক। 


ইদানীং চিন, পাকিস্তান, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক ভালো নেই। শ্রীলঙ্কায় বর্তমানে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব চিনের সঙ্গেই বেশি দহরম-মহরমের পক্ষপাতী। 


প্রধানমন্ত্রী হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার কিন্তু ভারতের দাবিগুলোর বেশিরভাগই মেনে নিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার থেকে শুরু করে ট্রানজিট প্রদান সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ভারতকে সুবিধা প্রদান করেছে। অন্যান্য বিষয়েও বাংলাদেশ নয়াদিল্লির সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতায় রাজি। 


কিন্তু এখন বাংলাদেশে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে পরিবর্তে বাংলাদেশ ভারতের কাছে কী ধরনের সুবিধা পেয়েছে। তিস্তার পানি  বাংলাদেশকে দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ভারত অভ্যন্তরীণ কারণে বাংলাদেশকে তা দেয়নি। ভবিষ্যতেও দেওয়া সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়েও সংশয় রয়েছে। 


ভারতের অসম, পশ্চিমবাংলা প্রভৃতি স্থান থেকে এনআরসি-এর মাধ্যমে কথিত বাংলাদেশিকে শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর যে কথা বলা হচ্ছে, তাতেও বাংলাদেশ খুশি নয়। এ ছাড়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র মাধ্যমে ভারত যেভাবে বাংলাদেশি হিন্দু নাগরিকদের ভারতে চলে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে, তা নিয়েও বাংলাদেশে অসন্তুষ্টি রয়েছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক কিছু বিষয়েও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গুরুতর মতভেদ রয়েছে। 


বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ভারতবন্ধু বলে পরিচিত। কিন্তু ভারত প্রতিদানে তাঁকে কিছুই দেননি বলে বাংলাদেশের একটি বড় মহল ইদানীং মনে করে। 


আর এই পরিস্থিতিতে চিন বাংলাদেশের সঙ্গে বিশেষভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে। আর সেই জন্য তারা ঢালাওভাবে হাসিনা সরকারকে আর্থিক সহায়তা দিতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, ভারত বাংলাদেশকে আর্থিক ক্ষেত্রে প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতিমতো খুব একটা সহায়তা করছে না বলেই বাংলাদেশে অনেকে মনে করছে। অন্যদিকে, চিন ছাড়াও পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে পুরনো মতপার্থক্য ভুলে কাছাকাছি আসতে চাইছে। বহু বছর পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সেখ হাসিনা টেলিফোনে বার্তালাপ করেছেন। 


এই বিষয়গুলিও ভারতীয় বিদেশ দফতরের কর্মকর্তাদের নজর এড়িয়ে যায়নি। এর মধ্যে চিনের কার্যকলাপ ভারতীয় কর্মকর্তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ভ্যাকসিন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক বৃদ্ধি, এ ছাড়া চিন ঘোষণা করেছে তারা তিস্তা নদী প্রকল্পে বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ডলার প্রদান করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ভারত তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে একটি অচলাবস্থায় ফেলে রাখার কারণেই বাংলাদেশ তিস্তা নিয়ে চিনের দিকে ঝুঁকেছে। 


বাংলাদেশের সঙ্গে যেভাবে চিন সংযোগ বৃদ্ধির চেষ্টা করছে তার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা হঠাৎই ঢাকায় পদার্পণ করেছেন। আশা করা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিদেশমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিদেশ সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গেও হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার দু’দেশের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only