মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২০

জাতীয় শিক্ষা নীতি নিয়ে আপত্তি রয়েছে বাংলারঃ পার্থ


পুবের কলম প্রতিবেদকঃ­ তামিলনাড়ুর পথে হেঁটে মোদি সরকারের নয়া শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে সরব হল রাজ্য। সোমবার দুপুরে বেহালায় রাখীবন্ধন উৎসবে যোগ দিয়ে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় শিক্ষা নীতি নিয়ে আপত্তি রয়েছে। এ বিষয়ে পর্যালোচনার জন্য একটি ছয় সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে। মূলত কেন্দ্রের কাছে নিজেদের আপত্তি তুলে ধরতেই এই কমিটি গঠন বলে খবর। ছয় সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরি এবং সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান অভীক মজুমদার, শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি, সাংসদ তথা প্রাক্তন অধ্যাপক সৌগত রায়। জাতীয় শিক্ষানীতি সম্পর্কে কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করবে রাজ্য। আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে এই কমিটি রিপোর্ট জমা দেবে রাজ্যকে। ওই রিপোর্ট পাঠানো হবে কেন্দ্রকেও। পাশাপাশি, একাধিক শিক্ষক সংগঠনের থেকেও চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

এ দিন পার্থ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নয়া শিক্ষানীতি নিয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। আমরা লিখিত আকারে তা কেন্দ্রকে জানিয়েছিলাম। শিক্ষানীতি চালু করতে গেলে আগে অনেক কিছু করতে হবে। পাঁচ বছরে এই শিক্ষানীতি চালু করা সম্ভব নয়। পড়াশোনার কোনও নিয়মনীতি পরিবর্তন হল না, আলাপ-আলোচনা হল না। পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য যে খরচ হবে, তা বহন করবে কারা? এসব কিছু না করেই হঠাৎ করে বলে দেওয়া হল নয়া শিক্ষানীতি কার্যকর করতে হবে। এইভাবে জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করা যায় না। 

নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রিসভার সিলমোহর দেওয়া নয়া শিক্ষানীতির যে প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকার এনেছে, তাতে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর সব স্তরেই আমূল বদল ঘটতে চলেছে। এই বদলের পক্ষে বা বিপক্ষে অনেক রকম বিতর্কও উঠছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও এর বিরোধিতা শোনা যাচ্ছে। নয়া জাতীয় শিক্ষানীতির বিরোধিতায় সরব হয়েছে তামিলনাড়ুও। তবে দ্রাবিড়ভূমের মূল আপত্তি ‘হিন্দি আগ্রাসনে’র বিরুদ্ধে। সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ই কে পলানীস্বামী এ দিন সকালে জানিয়ে দিয়েছেন, নয়া জাতীয় শিক্ষানীতিতে যেন ‘তিন ভাষা ফর্মুলা’র কথা বলা হয়েছে, তা মেনে নেওয়ার প্রশ্নই নেই। তাঁর কথায়, তিন ভাষার এই ফর্মুলা দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। প্রয়াত আন্নাদুরাই, এম জি রামচন্দ্রন এবং জয়ললিতার আদর্শ অনুসরণ করে আমরা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আবেদন জানাব।

ষাটের দশকে কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকারের যখন হিন্দিকে বাধ্যতামূলক সরকারি ভাষার তকমা দিতে সক্রিয় হওয়ায় তামিরনাড়ু কীভাবে প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছিল, সে প্রসঙ্গও তুলেছেন পলানীস্বামী। বস্তুত, মোদি সরকারের বাধ্যতামূলক হিন্দির প্রতিবাদে গতবছরও অশান্ত হয়েছিল তামিলনাড়ু। চাপের মুখে কেন্দ্র সেই সময় জানিয়েছিল, স্কুল শিক্ষায় ‘তিন ভাষা নীতি’ (ইংরেজি, হিন্দি এবং স্থানীয় একটি ভাষা) বলবৎ করা হবে না। কিন্তু নয়া জাতীয় শিক্ষানীতিতে সেই প্রতিশ্রুতি মানা হয়নি বলে তামিলনাড়ুর শাসকদল এডিএমকে সোমবার অভিযোগ তুলেছে। ঘটনাচক্রে, মুখ্যমন্ত্রী পলানীস্বামীর দল বিজেপির অন্যতম জোটসঙ্গী।

শিক্ষামহলের একাংশ  মনে করছেন, রাজ্যের অপত্তি যথাযথ। এ দিন সেই কথাই তুলে ধরেছেন বাংলার শিক্ষামন্ত্রী। তাঁদের মতে, গতবছর মার্চ মাস থেকেই বিভিন্ন আলোচনায় রাজ্য সরকারের তরফে স্পষ্টভাষা কেন্দ্রকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল--- তারা পাশ-ফেল তুলে দেওয়ার বিপক্ষে। কারণ এই ব্যবস্থায় রাজ্য সরকার মনে করে ছাত্রছাত্রীদের মেধা বিকাশের জন্য সঠিক মূল্যায়ন হয় না। যদি পাশ-ফেল না থাকে, তাহলে অধ্যয়নকে সেভাবে গুরুত্বই দেবে না পড়ুয়ারা। তাই রাজ্য সরকার চায়, ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়নের জন্য পাশ-ফেল ব্যবস্থাটা থাকুক। এখানেই শেষ নয়, তাঁরা এও বলছেন, শিক্ষা যুগ্ম তালিকাভুক্ত। এমতাবস্থায় সংসদের দুই কক্ষে অলোচনা ছাড়া শুধু মন্ত্রিসভার সম্মতিতে তৈরি শিক্ষানীতি জাতীয় শিক্ষানীতি হতে পারে না। তাছাড়া রাজ্যের তরফে খসড়া প্রস্তাবের উপর স্কুল ও উচ্চশিক্ষা দফতর নিয়ে পয়েন্ট ভিত্তি যে আপত্তি জানিয়েছিল, তাও উপেক্ষা করা হয়েছে এখানে। ফলে রাজ্যের বক্তব্যের প্রতিফলন যেখানে নেই, তা নিয়ে তো আপত্তি থাকবেই। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only