বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০

এক নজরে অযোধ্যা মামলার পঞ্জিক্রম



বাবরি মসজিদের জায়গায় যে বিশাল রাম মন্দির নির্মাণ করা হচ্ছে, আজ সেটির ‘ভূমিপূজন’। দীর্ঘ দিনের ২.৭৭ একর ভূমিকে নিয়ে যে ঘটনাবলী ঘটে গিয়েছে, একঝলকে তা দেখে নেওয়া যাক

১৫২৮ঃ মুঘল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মীর বাকি বাবরি মসজিদ নির্মান করেন।

১৮৮৫ঃবিতর্কিত কাঠামোর বাইরে ছাউনি তৈরির অনুমতি চেয়ে ফৈজাবাদ জেলা আদালতে মহন্ত রঘুবীর দাস আবেদন করেন। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে দেয়।

১৯৪৯ঃ বিতর্কিত কাঠামোর বাইরে, কেন্দ্রীয় গম্বুজের নীচে রাতের অন্ধকারে রামলালার মূর্তি স্থাপন করা হয়।

১৯৫০ঃ ফের ফৈজাবাদ জেলা আদালতে রামলালার মূর্তির পুজোর অধিকার চেয়ে গোপাল সিমলা বিশারদ আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই বছরেই পরমহংস রামচন্দ্র দাস রামলালার মূর্তির পুজো অব্যাহত রাখতে এবং সেটির রক্ষা জন্য মামলা করেন। 

১৯৫৯ঃ নির্মোহী আখড়া ওই ভূমি দখল করার জন্য মামলা দায়ের করে। 

১৯৬১ঃ উত্তর প্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকাফ বোর্ড ওই ভূমি নিয়ে পালটা একটি মামলা করে। 

১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬ঃ স্থানীয় আদালত সরকারকে ওই ভূমিতে হিন্দুদের পুজো করার জন্য খুলে দিতে বলে।

১৪ আগস্ট, ১৯৮৯ঃ এলাহাবাদ হাইকোর্ট বিতর্কিত কাঠামোর ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা রক্ষার নির্দেশ দেয়।

৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২ঃ বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

৩ এপ্রিল, ১৯৯৩ঃ বিতর্কিত অঞ্চলে কেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণের জন্য ‘অ্যাকুইজিশন অফ সেন্ট্রাল এরিয়া অ্যাট অযোধ্য অ্যাক্ট’ পাস হয়। একই বছরে এই আইনের বিভিন্ন বিষয়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে সেটির বিরুদ্ধে একাধিক রিট পিটিশন জমা পড়ে। ইসমাইল ফারুকিও বিষয়টি নিয়ে রিট পিটিশন জমা দিয়েছিলেন। এর পর এলাহাবাদ হাইকোর্ট ১৩৯এ ধারা অনুযায়ী সমস্ত রিট পিটিশনগুলিকে সুপ্রিমকোর্টে স্থানান্তরিত করে। 

২৪ অক্টোবর ১৯৯৪ঃ ইসমাইল ফারুকির রিট পিটিশনের ওপর সুপ্রিম কোর্ট জানায় এই মসজিদ ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়। 

এপ্রিল ২০০২ঃ বিতর্কিত ভূমির মালিকানা নির্ধারণ করতে সুপ্রিম কোর্ট শুনানি শুরু করে।  

১৩ মার্চ,২০০৩ঃ সুপ্রিম কোর্ট বলে,আসলাম ওরফে ভুরে মামলায় অধিগৃহীত জমিতে কোনও ধরনের ধর্মীয় কাজকর্ম করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরের দিন অর্থাৎ ১৪ মার্চ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট আরও বলে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এলাহাবাদ উচ্চ আদালতে নাগরিক মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ কার্যকর থাকবে।
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১০ঃ হাইকোর্ট দুয়ের একাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ত্রিমুখী উপায়ে সুন্নি ওয়াকাফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া এবং রামলালার মধ্যে বিতর্কিত ভূমি বিভাজন করে। 

৯ মে, ২০১১ ঃ অযোধ্যা বির্তকিত জমির ওপর হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ঃ সুব্রক্ষন্যাম স্বামী সুপ্রিম কোর্টের কাছে বির্তকিত জমিতে রামমন্দির নির্মাণের আবেদন জানান।

২১ মার্চ, ২০১৭ ঃ তৎকালীন ভারতের প্রধান বিচারপতি জে এস খের সমস্ত বিরোধী পক্ষকে আদালতের বাইরে বিষয়টি মিটমাট করে নেওয়ার পরামর্শ দেন। 

৭ আগস্ট, ২০১৭ঃ সুপ্রিম কোর্ট তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চ গঠন করে এবং ১৯৯৪ সালের এলাহাবাদ হাইকোর্টে রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যে আবেদন জমা পড়ে ছিল তার ওপর শুনানি শুরু করে।

৮ আগস্ট, ২০১৭ঃ উত্তরপ্রদেশ শিয়া ওয়াকাফ বোর্ডের তরফ থেকে সুপ্রিমকোর্টকে জানানো হয় মসজিদটি মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে অবস্থিত এবং সেটি বিতর্কিত ভূমি থেকে বেশ দূরেই নির্মিত।

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ঃ তৎকালীন সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নির্দেশ দেন, যে বিতর্কিত স্থানটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষক হিসাবে দশ দিনের মধ্যে দুটি অতিরিক্ত জেলা জজকে মনোনীত করতে হবে। 

২০ নভেম্বর ২০১৭ঃ  উত্তরপ্রদেশ শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, যে অযোধ্যায় মন্দির গড়া যেতে পারে এবং লখনউয়ে মসজিদ স্থানান্তরিত করা যেতে পারে।

১ ডিসেম্বর ২০১৭ঃ ৭২জন নাগরিক অধিকার কর্মীরা এলাহাবাদ হাইকোর্টের ২০১০ সালের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আবেদন করেন।

৫ ডিসেম্বর ২০১৭ঃ ভারতের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র– বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং এস আবদুল নজিরের একটি বেঞ্চের সামনে অযোধ্যা আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়।

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ঃ সুপ্রিমকোর্ট নাগরিকদের আবেদনের শুনানি শুরু করে।

১৪ মার্চ, ২০১৮ঃ সুব্রক্ষন্যম মান্যম স্বামীসহ অন্তর্বর্তীকালীন সকল আবেদন প্রত্যাখ্যান করে সুপ্রিমকোর্ট।

৬ এপ্রিল, ২০১৮ঃ রাজীব ধাওয়ান সুপ্রিমকোর্টের কাছে ১৯৯৪ সালের রায় পর্যবেক্ষণের পুনর্বিবেচনার বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চের কাছে উল্লেখ করার জন্য আবেদন করেন। ওই দিনই উত্তরপ্রদেশ সরকার সুপ্রিম কোর্টকে বলে– যে ১৯৯৪ সালের রায়ে কিছু মুসলিম গোষ্ঠী একটি পর্যবেক্ষণের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা চেয়ে শুনানি বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে।

২০ জুলাই, ২০১৮ঃ সুপ্রিম কোর্ট রায় ধরে রাখে।

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ঃ সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি পাঁচ বিচারপতির সংবিধানিক বেঞ্চের কাছে উল্লেখ করতে অস্বীকার করে। মামলার শুনানি হয় ২৯ অক্টোবর নতুন গঠিত তিন বিচারপতির বেঞ্চে।

২৯ অক্টোবর, ২০১৮ঃ তৎকালীন সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ ডিসপুট আপিল বা বিতর্কিত আবেদনের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেয়। 

৪ জানুয়ারি ২০১৯ঃ সুপ্রিমকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ আবার বলে, যে একটি উপযুক্ত বেঞ্চ ১০ জানুয়ারিতে ওই আপিল গ্রহণ করবে।

৮ জানুয়ারি,২০১৯ঃ সুপ্রিমকোর্ট বিজ্ঞপ্তি দেয়, যে সুপ্রিমকোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এবং প্রবীণ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভারতের ভবিষ্যতের চারজন প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি এস এ ববদে,এন ভি রমন, ইউ ইউ ললিত এবং ডি ওয়াই চন্দ্রচুর ১০ জানুয়ারি অযোধ্যা শিরোনাম বিরোধের আপিল শুনবে।

১০ জানুয়ারি, ২০১৯ঃ তবে ওই দিনও শোনানি হয়নি। কারণ বিচারপতি ইউ ইউ ললিত বেঞ্চ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।

২৯ জানুয়ারি, ২০১৯ঃ বিচারপতি বোবদে মেডিকেল ছুটিতে যাওয়ায় শুনানি পিছিয়ে যায়। বিচারপতি এন ভি রমন এবং ইউ ইউ ললিত-এর জায়গায় বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং এস আবদুল নাজিরকে আনা হয় ।

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ঃ সুপ্রিম কোর্টের একটি বিজ্ঞপ্তি জানিয়েছে যে ২ ফেব্রুয়ারি অযোধ্যা মামলার জন্য বেঞ্চ একত্রিত হবে।

২৬ ফেব্রুয়ারি,২০১৯ঃ সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যা বিরোধকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম দলগুলির মধ্যে  আদালতের পর্যবেক্ষণে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তাব দেয়। অযোধ্যা মামলার রেকর্ডগুলির সরকারি অনুবাদ পরীক্ষা করে দেখার জন্য মুসলিম আবেদনকারীদের আট সপ্তাহ সময় দেয়।

৮ মার্চ,  ২০১৯ঃ  বেঞ্চ অযোধ্যা বিরোধের মধ্যস্থতার জন্য মধ্যস্থকারী আইনবেত্তাদের হাতে দেয়। মধ্যস্থতাকারীরা ছিলেন সাবেক শীর্ষ আদালতের বিচারপতি এফ এম আই কালীফুল্লা, (চেয়ারম্যান), আধ্যাত্মিক নেতা শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট শ্রীরাম পাঁচু।

২ আগস্ট, ২০১৯ঃ অযোধ্যা বিতর্ক মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বী হিন্দু ও মুসলিম দলগুলির মধ্যে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, বেঞ্চে প্রত্যেক দিনের ভিত্তিতে ৬ আগস্ট থেকে আপিল শুনানি হবে। অযোধ্যা মধ্যস্থতা একটি নিষ্পত্তির কাছাকাছি ছিল।

৬ আগস্ট, ২০১৯ঃ রামলালা, নির্মোহী আখড়া এবং সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের মধ্যে রামজন্মভূমি-বাবরি মসজিদ ২.৭৭ একর জমির ত্রিপক্ষীয় বিভাজনকে দ্বিপক্ষীয় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হিন্দু ও মুসলিম পক্ষের করা আপস আপিল শুনানি শুরু করে সংবিধানিক বেঞ্চ। সেখানে নির্মোহী আখড়া, ওই জমিকে রাম জন্মভূমি দাবি করে।

৪ অক্টোবর, ২০১৯ঃ শুনানি শেষের পর্যায় পৌঁছয়। এর ১৭ নভেম্বর রায়ের দিন ধার্য্য করে সুপ্রিমকোর্টের সংবিধানিক বেঞ্চ। পাশাপাশি স্টেট ওয়াকাফ বোর্ডের চেয়ারপার্সনে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দেয় সুপ্রিমকোর্ট।

১৬ অক্টোবর ২০১৯ঃ শুনানি শেষ হয়। রায় ধরে রাখা হয়। 

৯ নভেম্বর, ২০১৯ঃ সুপ্রিমকোর্ট আযোধ্যার ২.৭৭ একর জমি  রামলালার বলে ঘোষণা করে, তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে রাখা হয় ওই জমির দেখভাল। এছাড়া মসজিদ নির্মাণের জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকারকে অযোধ্যার বাইরে ৫ একর জমি আলাদা করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় সুপ্রিমকোর্ট। এভাবেই চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only