সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০

অযোধ্যা ও রামমন্দির নিয়ে পোস্ট,উত্তপ্ত আলিপুরদুয়ার


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: অযোধ্যা রামমন্দির নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টকে কেন্দ্র করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ ' দ্বিতীয় বর্ষের বিদিশা চন্দ নামে এক পড়ুয়া নিগ্রহের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠলো উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাটের শিশুবাড়ি এলাকা।এমনকি পরিস্থিতি এতটাই নাগালের বাইরে চলে যায় যে পুলিশ ক্যাম্প বসে ওই এলাকায়। 

ঘটনার সূত্রপাত হয়  অগাস্ট। অযোধ্যার রাম মন্দির,অমিত শাহ নিয়ে একটি পোস্ট করেন ফেসবুকে বিদিশা চন্দ।এরপরেই পরবর্তী সময়ে প্রায় সন্ধ্যে সাড়ে ৭টা নাগাদ পাড়ার কিছু বিজেপির নেতা এবং কিছু উগ্র হিন্দুত্ববাদী বাহিনী তার বাড়িতে চড়াও হয় বলে জানা যায়। চলে লাগাতার আত্মীয় পরিজনদের হুমকি। এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই পড়ুয়ার দাদা এবং মেসোমশাই তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। বিদিশাকেও পোস্ট করার জন্য সকলের সামনে ক্ষমা চাইতে চাপ দেওয়া হয়।।পরিবারের নিরাপত্তার খাতিরে তিনি ক্ষমা চাইতেও যান বিজেপি বাহিনীর কাছে।

বিদিশা জানান, "কিন্তু সেইসময়  প্রায় ২০০জন বিজেপি বাহিনীর পুরুষ, আমার উপর চড়াও হয় এবং হামলা চালাতে চেষ্টা করে। আমাকে এবং আমার মাকে অকথ্য নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করে সকলের সামনে।আর এই সময়ই মাদারীহাট থানার পুলিশ আসে এবং আমাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাবার সময় বিজেপির একজন আমার কোমড়ে লাথি এবং মাথায় ঘুষি মারে। তারপর পুলিশ কোনও রকম সামাল দিয়ে আমাকে গাড়িতে তোলে। গাড়িতে ওঠার সাথে সাথেই আমার ফোন কেড়ে নিয়ে নেয় পুলিশ রাত সাড়ে ৮ টা থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমায় থানায় বসে থাকতে হয় 

তারপর আমার বাড়ির লোকজন থানায় যায় এবং লিখিত ভাবে আমার দায়িত্ব নিয়ে বাড়ি নিয়ে আসে।" এই পর্যন্ত সব ঠিক থাকলেও তারিখে ফের কিছু বিজেপির লোক তাদের বাড়িতে আসে এবং  যাতে কোথাও কোনো রকম অভিযোগ না জানানো হয় তার হুমকি দেয় এবং তাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়ে যায় বলে জানান তিনি।এই ঘটনার পর নিগৃহীতা ছাত্রী বাড়ি থেকে পালিয়ে আবার থানায় যায় অভিযোগ জানাতে এবং নিজের ফোনটি ফেরত আনতে। কিন্তু থানার অফিসার ইন-চার্জ সেইসময় অনুপস্থিত থাকায় অভিযোগ না করেই ফেরেন এবং বাড়ি না ফিরে ভয়ে মামার বাড়িতে আশ্রয় নেন বলে জানা 

ঠিক তার একদিন পর তারিখ, বিজেপির লোকজন এলাকায় খাপ পঞ্চায়েতের আয়োজন করে। যেখানে বিদিশাকে এবং তার পরিবারকে রাম,অযোধ্যা, বিজেপি বিরোধী পোষ্টের জন্য ক্ষমা, লিখিত মুচলেকা এবং থুথু চাটার আবেদন জানায়।বিদিশা বলেন, আমি বাধ্য হয়ে প্রায় ১৫০ জনের তৈরি খাপের মাঝখানে দাঁড়িয়ে নানান রকম গালিগালাজ মাটির দিকে তাকিয়ে থেকে শুধু সহ্য করি।"

অন্যদিকে এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সহ প্রচুর পড়ুয়া,আর্টস ফ্যাকাল্টি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের পাশাপাশি প্রতিবাদ জানায় আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ রায়। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল হতেই পুলিশও নড়েচড়ে বসে।শিশুবাড়িতে বসানো হয় পুলিশ ক্যাম্প।

তারিখ ওই নিগৃহীতা ছাত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলে যান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।এই ঘটনাটি নিয়ে বিজেপির ১৮ নম্বর মন্ডলের সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ রায় বলেন"মেয়েটি অযোধ্যা ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছিল।তাই ওকে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে বলা হয়।কোনও নিগ্রহ করা হয়নি"অন্যদিকে ব্লক তৃণমূল থেকে জানানো হয় "আমরা সবরকম সাহায্যে বিদিশার পাশে আছি।"

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only