শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০

চিকিৎসা পেতে আউটডোরই ভরসা রোগীদের

সেখ কুতুবউদ্দিন

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও থেমে নেই। সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা পরিষেবা। প্রায় সবক’টি সরকারি হাসপাতালে পৃথক করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। সেই কোভিড ইউনিটের আশপাশে রয়েছে কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনী। তবে যথারীতি চালু রয়েছে আউটডোর। কোনও কোনও হাসপাতালে চিকিৎসক নার্স এবং স্বাস্থ্য কর্মীর সংখ্যা কম থাকায় আগের মতো ভিড়েঠাসা আউটডোরের চিত্রটা এখন আর নেই। তবে রোগীর আনাগোনাও নিতান্ত কম না। 

কেমন চলেছে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা, তা খোঁজ করতে বুধবার এই প্রতিবেদক গিয়েছিলেন শিয়ালদার কাছে এনআরএস হাসপাতালে। পাঁচ মাস আগের লম্বা লাইন আউটডোরে আর নেই। তবে অনেকটাই স্বাভাবিক ছন্দে রয়েছে আউটডোরের চিকিৎসা পরিষেবা। আউটডোরের এক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, ট্রেন না চলায় এবং বাস চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় দূর-দূরান্তের গ্রামের মানুষ এখন ভীষণ সমস্যায় না পড়লে হাসপাতালে আসছেন না। তবে প্রতিদিন কয়েকশো রোগী চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন। অবশ্য কোভিড পরীক্ষা না করিয়ে কোনও রোগীকে সাধারণ বিভাগে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। 


উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট, থেকে এসেছেন জাফরুল হক, সমীরণ সাহা, রহিমা বিবিরা সকলেই আউটডোরে দেখাতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। ডাক্তার দেখিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কোথায় করাবেন, তাই নিয়েও ছুটোছুটি করতে হচ্ছে তাঁদের। এ দিকে হাসপাতাল চত্বর ঘুরে হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের তৎপরতাও দেখা গেল। তবে এনআরএস হাসপাতালে আতঙ্কের পরিবেশও রয়েছে। করোনা রোগীর জন্য কোনও কোনও গেট বা বিল্ডিংয়ের উপরে ওঠার সিঁড়িও আটকে দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ রোগীদের উপর তলায় উঠতে অনেকটাই অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। হাসপাতাল চত্বরের আউটডোরের টিকিট কাটার লাইনে গিয়ে দেখা গেল, হেমাটোলজি বিভাগের সাধারণ রোগীদের টিকিট দেওয়া হলেও পরিজনদের কিছুটা হয়রানির শিকারও হতে হচ্ছে। 


টিকিট কাউন্টারে থাকা কর্তব্যরত কর্মীরা প্রশ্ন করছেন, কারওর রেকমেন্ডেশন আছে কি? এক রোগী কোনও ‘রেকমেন্ডেশন’ না নিয়েই হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগে দেখানোর জন্য হাজির হন। কিন্তু টিকিট দিচ্ছেন না কর্মীরা। তাই হেমাটোলজি বিভাগে দেখাবেন কীভাবে? এই নিয়ে সমস্যা পরিজনদের। অবশেষে তিনি কোনও টিকিট ছাড়াই হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান ড. তুফান কান্তি দলুইয়ের অ্যাকাডেমিক দফতরে গিয়ে হাজির হন। 


তবে ডা. তুফানকান্তি রোগীর অসহায়তার কথা বুঝে আউট ডোরে টিকিট কাটার জন্য ‘চিরকুট’ লিখে দেন। কাউন্টারে তা নিয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ টিকিট পেপার না দিয়ে একটি ছেঁড়া কাগজেই লিখে দেন হেমাটোলজি কাউন্টারের ওই কর্তব্যরত কর্মী। তা দেখিয়ে ওই অসহায় রোগী-পরিবার ডাক্তার দোলুইয়ের কাছে যেতেই সবরকম ব্যবস্থা করে দেন।


হাসপাতালের ডেপুটি সুপার দ্বৈপায়ন দত্ত বলেন, এনআরএস হাসপাতালে কোভিড সেকশন তোলা হয়েছে। সেইসঙ্গে সব বিভাগের চিকিৎসাও চলছে। আউটডোর, ইমারজেন্সি, করোনা রোগী, প্রসূতি সহ একাধিক বিভাগের চিকিৎসা পরিষেবাও স্বতস্ফূর্তভাবে চলছে। রোগীদের যাতে কোনও অসুবিধায় পড়তে না হয়, তার জন্য সহযোগিতা কেন্দ্রও খোলা হয়েছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only