মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২০

তিন ভাষা নীতি মানব না, জানিয়ে দিল এই রাজ্য



পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ  কেন্দ্রের নয়া শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে এবার সরব হল তামিলনাড়ু সরকার। খোদ এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় সুর চড়িয়েছেন। এমনিতেই তামিলনাড়ুর সরকার বিজেপি ঘনিষ্ঠ বলে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তারপরও তারা যেভাবে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তা জাতীয় রাজনীতিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রের এই নয়া শিক্ষানীতি তারা রাজ্যে মোটেই লাগু করবেন না। কেন্দ্র যেভাবে জোর করে হিন্দি ও সংস্কৃত দক্ষিণী রাজ্যগুলির উপর লাগু করার চেষ্টা করছে তা মেনে নেওয়া হবে না। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তামিলরা নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক। তাই কেন্দ্রের এভাবে জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার ঘোর বিরোধী তারা। জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়াকে তারা মেনে নেবে না। আর তামিলদের ভাষা-সংস্কৃতি ও জাত্যাভিমানের প্রশ্নে রাজ্যের শাসক দল ও বিরোধীরা একজোট। এইসব ক্ষেত্রে তারা নিজেদের মধ্যে সব রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে এক ছাতার নীচে চলে আসে। তামিলনাড়ুর সব রাজনৈতিক দল একজোট হয়ে যায়। কেন্দ্রের এই নয়া শিক্ষানীতির সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী কে পালানিস্বামী বলেছেন– ‘নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে এই তিন ভাষার ফর্মূলা অত্যন্ত বেদনার ও দুঃখজনক।’ উল্লেখ্য, এর আগে তামিলনাড়ুর প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আন্না দুরাই, এম জি রামচন্দ্রন (এমজিআর) ও জয়ললিতা জোর করে হিন্দি চাপানোর প্রবল বিরোধী ছিলেন। সেই পথে এবার হাঁটলেন পালানিস্বামীও। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন, এই তিন শিক্ষানীতি ফর্মূলা ‘পুনর্বিবেচনা’ করার জন্য। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়– ‘তামিলনাড়ু কখনও কেন্দ্রীয় সরকারের তিনি ভাষা নীতিকে অনুমতি দেবে না। নয়া শিক্ষা ব্যবস্থায় এই তিন ভাষা নীতি যন্ত্রণাদায়ক ও দুঃখজনক। কেন্দ্রীয় সরকার প্রবর্তিত জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০’তে তিন ভাষা তত্ত্বের অন্তর্ভূক্তি দেখে আমরা দুঃখিত। কয়েক দশক ধরে আমাদের রাজ্য দ্বি-ভাষা তত্ত্ব অনুসরণ করে চলেছে। এক্ষেত্রে তার কোনও বদল হবে না। তিন ভাষা নীতি রাজ্যে লাগু করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচিত এই তিন ভাষা নীতির পুনর্বিবেচনা করা। তামিলনাড়ুর মানুষের সর্বসম্মত দাবির বিবেচনা করা এবং রাজ্যগুলিকেতাদের নিজস্ব শিক্ষানীতি মালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওযার অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।’ কেন্দ্রের সমালোচনা করার পাশাপাশি এদিন মুখ্যমন্ত্রী ১৯৬৫ সালের তামিল আন্দোলনের প্রসঙ্গ উপস্থাপন করে বলেন, তৎকালীন কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকার জোর করে হিন্দিকে সরকারি ভাষা করার চেষ্টা করেছিল। তার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল গোটা তামিলনাড়ু। যদিও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক বলেছেন, কোনও রাজ্যের উপরই জোর করে কোনও ভাষা শিক্ষা চাপিয়ে দিচ্ছে না কেন্দ্র। তামিলনাড়ুর প্রধান বিরোধী দল ডিএমকে প্রধান স্ট্যালিনও কেন্দ্রের শিক্ষানীতির বিরোধিতা করে জানিয়েছেন– কেন্দ্র জোর করে হিন্দি ও সংস্কৃত চাপানোর চেষ্টা করলে সমমনোভাবাপন্ন দলগুলিকে নিয়ে জোটবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে।   

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only