মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২০

নরেন্দ্র মোদির অযোধ্যা যাওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন নানা মহলে


পুবের  কলম প্রতিবেদক: যেদিন রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিশাল রামমন্দির নির্মাণের জন্য অযোধ্যায় ভূমিপুজো ও শিল্যান্যাসে যাওয়ার আমমন্ত্রণ পাঠিয়েছিল এবং মোদি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন, সেদিন থেকেই কিন্তু কোনও কোনও মহলে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়। কেউ প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন করোনার সংক্রমণের আবহে এই ভূমিপুজনের বিরোধিতা করে, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের মর্যাদার কথা তুলে। 

এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার বলেছিলেন, মোদির সামনে প্রাথমিকতা হল করোনার বেড়ে যাওয়ার আতঙ্ক থেকে মানুষকে পরিত্রাণের পথ দেখানো। সেখানে সরকার ভাবছে দেশে রামমন্দির গড়ে উঠলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সিপিআই নেতা ডি রাজা প্রধানমন্ত্রীর অযোধ্যা যাওয়ার বিরোধিতা করে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবিধানিক মর্যাদার। 

তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানে পরিস্কার লেখা আছে প্রত্যেক ধর্মের প্রতি সামান শ্রদ্ধাশীল হতে হবে সরকারকে এবং কোনও বিশিষ্ট ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরকারের তরফে কেউ যোগদান করবে না। প্রধানমন্ত্রী কোনও বিশেষ ধর্মের সঙ্গে নিজের পরিচিতি চিহ্নিত করতে পারবেন না। এখনও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের সংবিধান বহাল রয়েছে দেশে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে কোনও ধর্মে বিশ্বাস করতে পারেন কিন্তু সেটা তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি কোনও বিশেষ ধর্মের সঙ্গে নিজেকে জড়াতে পারেন না। 

বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মোদি কোনও দিন অযোধ্যায় যাননি, তবে এখন কেন? তিনি আরও প্রশ্নও তুলেছেন যে, মোদি রামজন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে কোনও দিন জড়িয়ে ছিলেন না। 
রাজনৈতিক নেতাদের ছাড়াও কতিপয় হিন্দু ধর্মীয় গুরুও নাম না লেখার শর্তে বলেছেন যে তিনটি কারনে প্রধানমন্ত্রীর অযোধ্যায় ভূমিপুজন ও শিল্যান্যাস অনুষ্ঠানে যাওয়া উচিৎ নয়। প্রথমত হিন্দুশাস্ত্র মতে কোনও পবিত্র কাজ হিন্দুরা ভাদ্র মাসে করে না।

এমনকী, হিন্দুদের এই মাসে বিয়ে হয় না। তাহলে ভাদ্রমাসে কী করে রামমন্দিরের শিল্যান্যাস হয়। দ্বিতীয়ত, কংগ্রেস আমলে রামজন্মভূমির বিতর্কিত জমিতে আগেই শিল্যান্যাস সম্পন্ন হয়েছে। একই মন্দিরের জন্য দু’দুবার শিল্যান্যাস যথোচিত নয়। তৃতীয়ত, শিল্যান্যাস করতে হলে কিংবা ভূমিপুজো করতে গেলে নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর স্ত্রীকে ও সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে এবং এটাই হিন্দুধর্মে শাস্ত্রসম্মত। তারা রামায়ণ থেকে দৃষ্টান্ত তুলে দিয়েছেন যে রামচন্দ্র যখন অশ্বমেধযজ্ঞ করতে চাইলেন তখন তাঁর পত্নি সীতা দেবী বনবাসে। যজ্ঞের জন্য তাঁকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তখন পুরোহিতরা রামচন্দ্রকে দ্বিতীয় বিবাহ করার পরামর্শ দেন কিন্তু রামচন্দ্র রাজি হননি। অতঃপর সীতা দেবীর একটি সোনার মূর্তি গড়ে যজ্ঞের সময় রামচন্দ্রের পাশে স্থাপন করা হল সীতার সেই মূর্তিকে। নরেন্দ্র মোদির ক্ষেত্রে শাস্ত্রের এই বিধান মানা হবে কী? প্রশ্ন হিন্দু তাত্ত্বিক নেতাদের।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only