মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২০

নিশ্চয় প্রসন যোজনা প্রকল্পে বীরভূম শীর্ষে

দেবশ্রী মজুমদার, বীরভূম: করোনা আবহের মধ্যেও সঙ্ক্রামক রোগ যক্ষ্মা প্রতিরোধে নিশ্চয় প্রসন যোজনা প্রকল্পে উপভোক্তাদের খাতে ৫০০ টাকা  সহায়তা প্রদানে রাজ্যের মধ্যে বীরভূম জেলা শীর্ষে। তবে অন্যান্য জেলা হাসপাতালের ক্ষেত্রে রিপোর্ট খুব একটা স্বস্তির নয়, বলে জানা গেছে। সেই তালিকার মধ্যে রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলাও আছে। 

জানা গেছে, যক্ষ্মার মত সঙ্ক্রামক রোগের ক্ষেত্রে রোগীরা দিন দিন শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। ওজন কমতে থাকে। তাই তাঁদের পুষ্টি সহয়তা দেওয়া হয়। কিন্তু রাজ্য জুড়ে সেই সহয়তা প্রদানে সব জেলাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বীরভূম স্বাস্থ্য জেলা। যদিও রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলা পিছিয়ে। সিএমওএইচ হিমাদ্রি আড়ি বলেন, সহয়তা প্রদানে আমরা এক নম্বরে থাকলেও উপভোক্তাদের আধারকার্ড ও অনলাইনের কিছু সমস্যার কারনে ১০০ শতাংশ  রোগীকে সুবিধা দেওয়া যায়নি। বিষয়টি রাজ্য ও দিল্লিকে জানিয়েছি। ওখান থেকে সমস্যার সমাধান না হলে সকলকে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।  

রাজ্য থেকে পাঠানো রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত বীরভূম জেলার ১৩১১ জন যক্ষ্মা রোগীর মধ্যে ১০৩১ জন সহয়তা পেয়েছেন। রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলা ৭১৪ জনের মধ্যে ২২৫ জন। সব থেকে খারাপ অবস্থা হুগলি, কালিম্পং ও মুর্শিদাবাদ জেলার। হুগলির ২৪৫৯ জনের মধ্যে মাত্র ৬৭, কালিম্পং-এর ২১৫ জনের মধ্যে ১৭, মুর্শিদাবাদের ৩৭৪০ জনের মধ্যে ৩৩৪ জন সহয়তা পেয়েছেন। হাওড়ার ২২৩৯ জন যক্ষ্মা রোগী রয়েছেন। সহয়তা পেয়েছেন ৩০৩ জন। পূর্ব বর্ধমানের ২৩৪৫ জনের মধ্যে ৪৩৩, পশ্চিম বর্ধমানে ১৩৭০ এর মধ্যে ৬৩০, উত্তর দিনাজপুরে ১৬৩৫ এর মধ্যে ৩৮৪, দক্ষিণ দিনাজপুরে ১৩৪৩ এর মধ্যে ৯৪১,  দার্জিলিং ১৪৩৭ এর মধ্যে ৪২১, দক্ষিণ ২৪ পরগণা ১৫৮৯ এর মধ্যে ৪৭৩, উত্তর ২৪ পরগণায় ২৭৮৯ এর মধ্যে ১৫৮৬, খাস কলকাতায় ৪৪৯০ জনের মধ্যে ১৪০৩, বাঁকুড়ায় ১২৬২ জনের মধ্যে ৪১৩ জন, পুরুলিয়ায় ১৪৩৮ এর মধ্যে ৬০৭, আলিপুরদুয়ারে ১৪৭৭ এর মধ্যে ৬৩৭, ঝাড়গ্রামে ৭১৫ এর মধ্যে ৩৩৯, কোচবিহারে ১১৪৯ জনের মধ্যে পুষ্টি সহয়তা পেয়েছেন ৬০০ জন, পূর্ব মেদনিপুরে ৬৭১ এর মধ্যে ৪৪৩, পশ্চিম মেদনিপুরে ২৫৬১ এর মধ্যে ১৩৭৮, নদিয়ায় ২১৪৯ জনের মধ্যে ১২৬১, জলপাইগুড়িতে ১৫১৫ জনের ৮৭৩ এবং মালদায় ২৫২২ এর মধ্যে ১৬১০ জন আর্থিক অনুদান পেয়েছেন। 
 
চিকিৎসকদের একাংশের অভিমত, অনেকে অনুদান না পেলে মনে করতে পারে তাঁরা সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। যেটা ভয়ঙ্কর হবে। উল্লেখ্য, গত বছর শেষ ছয় মাসে রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলায় ষাটের অধিক মানুষ যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

রাজ্যের রিপোর্টে উল্লেখ করা রয়েছে, পুষ্টি সহয়তা প্রদানের স্থিতির বর্তমান পরিস্থিতি খুবই দুর্বল। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা দরকার। পিছিয়ে পড়া প্রসঙ্গে রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার সিএমওএইচ পার্থ দে বলেন, অনেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে না পারায় সহয়তা দেওয়া যায়নি। আবার অনেকের কাগজপত্র ঠিক থাকলেও অনুদান পাননি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only