বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

শান্তিনিকেতনে পুলিশ সুপারের ভূমিকায় প্রসংশা মুখ্যমন্ত্রীর গলায় ! পড়ুন কেন ?

 


পুবের কলম প্রতিবেদক,শান্তিনিকেতন,২৬ অগাস্ট: শান্তি নিকেতনে শান্তি রক্ষা চাই। নবান্নে ভার্চুয়াল মিটিংয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় করে তুলবে নিঃসন্দেহে। কিন্তু এই প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপারের সাইকেল চালিয়ে পাজামা পাঞ্জাবী পরে শান্তি নিকেতন ঘরাণায় আশ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের খোঁজ খবর নেওয়া, অভাব অভিযোগ শোনা, তার নোট নেওয়া এবং সর্বোপরি তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া যে মুখ্যমন্ত্রীর খুব পছন্দ হয়েছে, তা স্পষ্ট। কারণ এর একটি মানবিক দিক হলো আশ্রমিকদের বেশিরভাগ দেশের সিনিয়র সিটিজেন এবং তাঁরা অনেকেই একলা থাকেন। কেউ কেউ তো পাঁচিল দিয়ে ঘেরার কারণে অসুস্থ হলে কিভাবে হাসপাতালে পৌঁছাতে পারবেন, কিভাবে আপদকালীন এ্যাম্বুলেন্স বা দমকল গাড়ি পৌঁছুতে পারবে, তাঁদের বাড়ির কাছে, সেই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন, জেলা সুপারের কাছে। জেলা সুপার তাঁদের সব সময় পাশে থাকার বার্তা দেন। তাঁরাও জানান, তাঁরা অভিভূত। দীর্ঘ জীবনে এই অভিজ্ঞতা তাঁদের হয় নি।  

মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে বীরভূমের প্রশাসনিক আধিকারিকদের খোঁজ নেওয়ার সময়ই বলেন, “বীরভূম জেলার এসপি, তুমি আবার পাজামা পাঞ্জাবী পরে সাইকেল চালিয়েছো । ভেরি গুড। কনগ্রাচুলেশন। ভেরি গুড। শান্তি রক্ষা করতে হবে, এটাই আমাদের কাজ”। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ সুপারের আশ্রমিকদের বাড়ি যাবার প্রশংসার পাশাপাশি শান্তি রক্ষার বার্তরা থেকে পরিস্কার যে বিশ্বভারতীর পাঁচিল ইস্যুতে সক্রিয় হতে হবে।রাজনৈতিক মহলের মতে নাম না করে বিশ্বভারতীতে শান্তি রক্ষারই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।


জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী প্রশংসা করেছেন এটা আনন্দের। এই কৃতিত্ব জেলার সমগ্র পুলিশ পরিবারের। আমরা বীরভূমের  প্রশাসন করোনা পরিস্থিতির মাঝে একজোট হয়ে কাজ করছি।"

  বিশ্বভারতীর পাঁচিল কান্ডে নাম না করে শান্তিনিকেতন এলাকায় শান্তি রক্ষার জন্য সক্রিয় হবার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে জন সংযোগে  সাইকেল চালিয়ে পাঞ্জাবি পরে জেলা পুলিশ সুপারের আশ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সমস্যার কথা শোনার ভূযষী প্রশংসাও করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।   


 করোনা পরিস্থিতিতে জেলার কর্তাদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মঙ্গলবার বীরভূম,  বর্ধমান,  সহ পাঁচ জেলার প্রশাসনিক কর্তা দের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এদিন ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দিতে সিউড়িতে জেলা প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা, পুলিশ সুপার শ্যাম সিং, এসআরডিএর চেয়ারম্যান অনুব্রত মন্ডল।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে বিশ্বভারতীর পৌষমেলার মাঠে উপাচার্যের নির্দেশে পাঁচিলের কাজ শুরু হয়ছিল৷ তার প্রতিবাদে বোলপুর-শান্তিনিকেতন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ জমায়েত হয়ে বিশ্বভারতী জুড়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালায়। ভাঙচুর করা হয়  বিশ্বভারতীর অস্থায়ী ক্যাম্প অফিস ও পৌষমেলার গেট।  ঘটনায় নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় তৃণমূল বিধায়ক, কাউন্সিলরদের বলে অভিযোগ করে বিশ্বভারতী। এমনকি ঘটনাটি শান্তিনিকেতন থানার কাছাকাছি ঘটলেও পুলিশের দেখা মেলেনি বলে অভিযোগও তোলে বিশ্বভারতী৷এই  ঘটনার পর তোলপাড় হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা শাসক জরুরী বৈঠক ডাকলেও সেই বৈঠকে যোগ দেননি বিশ্বভারতী। তবে ঐ বৈঠকে উপস্থিত হয়ে শান্তিনিকেতন এলাকার বাসিন্দা তথা প্রবীন আশ্রমিকরা বিশ্বভারতীর পাঁচিল দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। একই সঙ্গে পাঁচিল দেবার কারনে স্থানীয়রা কতটা সমস্যায পেরেছেন তা ব্যক্ত করেন। এরপরই রবিবার শান্তিনিকেতনে সাইকেল চালিয়ে আশ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি যান পাজামা পাঞ্জাবী পরিহিত বীরভূমের পুলিশ সুপার শ্যাম সিং সহ পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা।  এসপি আশ্রমিকদের কাছে থেকে শোনের তাদের সমস্যার কথা। যা নজর কারে সবার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only