সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০

তবলিগ নিয়ে বম্বে হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত মুসলিম নেতৃবৃন্দের, বিস্তারিত পড়ুন


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: তবলিগ জামাত নিয়ে বম্বে হাইকোর্টের রায়কে ঐতিহাসিক এবং সতেজ বাতাসের সঙ্গে তুলনা করে দেশের নেতৃত্ব স্থানীয় মুসলিম সংগঠনগুলি দৃঢ়ভাবে দাবি তুলেছে, তবলিগ সদস্যদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত মামলাগুলি রয়েছে সেগুলি তুলে নিতে হবে। তারা আরও দাবি জানিয়েছে, প্রশাসনের বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য বিদেশি তবলিগিরা যেভাবে হেনস্থা হয়েছেন এবং তাদেরকে বারবার যেভাবে অপমান করা হয়েছে তার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে প্রশাসনকে। যেসব ইসলামোফোবিক মিডিয়া মুসলিম সম্প্রদায়কে হেনস্থা করে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে যাচ্ছিল তাদের কেও ক্ষমা চাইতে হবে বলে তারা দাবি তুলেছে। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের উভয় পক্ষ, অল ইন্ডিয়া মিল্লি কাউন্সিল, পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিম পার্টি অফ ইন্ডিয়া সহ অন্যান্য মুসলিম সংগঠনগুলির মত,বিচারপতি টিভি নালাওয়াড়ে ও বিচারপতি এম জি সেউলিকারের ডিভিশন বেঞ্চ যে রায় দিয়েছে তা ঐতিহাসিক। 

এটা মুসলিমবিদ্বেষী মিডিয়ার গালে কষে একটা থাপ্পড় মেরেছে এবং যে সব সাম্প্রদায়িক শক্তি ও রাজনৈতিক দল তবলিগি জমায়েতকে একটা ইস্যু বানিয়ে এই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর চেষ্টায় রত ছিল, তাদের গালে সপাটে থাপ্পড় মেরেছে বম্বে হাইকোর্টের রায়।  বেঞ্চ জানিয়েছে,বিদেশি তাবলিগিদের আসলে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে। ২৯ বিদেশি তাবলিগির বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআরগুলিকেও খারিজ করে দেয় কোর্ট।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ মাদানি বলেন, তবলিগ জামাতের উপর বম্বে হাইকোর্টের রায়ে দেশের সরকারের জন্য একটা বড় শিক্ষণীয় বিষয়, যারা জাতীয় প্রয়োজনীয়তার কথা না ভেবে শুধুই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে যাচ্ছে। তাঁর মতে,এটি সাম্প্রদায়িক শক্তির পরাজয় এবং নিরপরাধ ভিকটিমদের ইনসাফ পাইয়ে দিল। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলিও তাদের নোংরা মুখটা এই রায়ের আয়নায় খুব ভালোভাবে দেখতে পেল। 

 মাওলানা মাহমুদ মাদানী দেশের তবলিগি সদস্যদের বিরুদ্ধে যে মামলাগুলি রয়েছে তা প্রত্যাহার করার দাবি নিয়ে জানান যে সরকারের উচিত অনুতপ্ত হওয়া। তারা যেভাবে হেনস্থা করল বিদেশিদের তার জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত এবং এর ক্ষতিপূরণের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার এর মাধ্যমে একটা ভালো শিক্ষা পেল। কারণ বিদেশি তাবলীগিদের প্রতি তারা খুবই খারাপ ব্যবহার করেছে। চরম হেনস্থা করেছে এবং তাদেরকে সন্ত্রাসি আখ্যা দিতেও পিছুপা হয়নি। 

এফআইআরগুলি খারিজ করার আগে জাস্টিস নালাওয়াড়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনা থেকে এটা স্পষ্ট এবং মুসলমানদের জন্য সতর্কবার্তা, যে কোনও পদক্ষেপ তাদের বিরুদ্ধে নেওয় হতে পারে। এমনকি তারা যদি অন্য দেশের মুসলিমদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে,তাহলেও তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একটা গভীর ষড়যন্ত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  আমরা ভারতীয়রা বলি ‘অতিথি দেব ভব’। বিজেপি সরকার কি আমাদের সেই ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি বজায় রেখে তাদের সঙ্গে আচরণ করেছে? কোভিড-১৯ এর অতিমারির সময় আমাদের আরও সহিষ্ণু হওয়া উচিত ছিল এবং আরও স্পর্শ কাতরভাবে আমাদের এইসব অতিথিদের সঙ্গে আচরণ করা উচিত ছিল।  কিন্তু তা না করে বিজেপি সরকার তাদের সঙ্গে খুবই খারাপ আচরণ করেছে। 

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি জানান, আদালতের এই রায় জমিয়তের অবস্থানকে প্রামাণ্যতা দিয়েছে। জমিয়ত আগেই জানিয়েছিল যে প্রশাসন এবং মিডিয়া তবলিগ জামাতের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, যদি সরকারের ন্যূনতম নৈতিক মূল্যবোধ অবশিষ্ট থাকে তাহলে তারা অবশ্যই নিরপরাধ ভিকটিমদের ক্ষতিপূরণ দেবে। পপুলার ফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও এম এ সালাম বলেন, যখন ভারতীয় বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে, তখন এই ধরনের রায় আমাদের কাছে আসবার সতেজ বাতাস। এসডিপিআই-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শফি বলেন,ইসলামোফোবিক কেন্দ্র সরকার,যারা আরএসএস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, এই অসহায় বিদেশি মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোভিড-১৯ ছাড়ানোর অভিযোগ এনে অবমাননা করার চেষ্টা করেছে। মোদিআরএসএস সমর্থনকারী মিডিয়া দায়িত্ব সহকারে ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের অবমাননা করেছে। অল ইন্ডিয়া মিল্লি কাউন্সিল জানিয়েছে,একটা রাজনৈতিক সরকার বরাবরই বলির পাঠা খোঁজার চেষ্টা করেছে যখন দেশে মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে এই রায় দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট। ভারত সম্বন্ধে খুব খারাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাবে বিদেশি মেহমানরা, আক্ষেপের সুরে বলেন মিল্লি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ড. মঞ্জুর আলম।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only