শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০

রাজারহাট নিউটাউনের রাজনীতির হাওয়া উঠে এল তাপসের ড্রয়িংরুমে



পুবের কলম প্রতিবেদকঃএকুশে বিধানসভা নির্বাচন। পারদ চড়ছে  রাজ্য রাজনীতিতে। তৃণমূল এবং বিজেপির রাজনৈতিক তর্জা তুঙ্গে। কিন্তু কি হবে রাজারহাট নিউটাউনের রাজনৈতিক ভবিষ্যত,  তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। যদিও, তৃণমূলে থাকাকালীন অতীতে রাজারহাট নিউটাউনের মাটিতে ঝড় তুলতেন সব্যসাচী দত্ত। কিন্তু এখন সব্য বিদায় নিয়েছেন তৃণমূল থেকে। সেই মাটি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বিধাননগর পৌরনিগমের ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়। সকাল হতেই মানুষ ভিড় করছেন তাঁর বাড়িতে। কেউ বা সাহায্যের জন্য আবার কেউ বা সাক্ষাৎ করতে। ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও তাঁর ড্রয়িংরুমে ঘন্টাখানেক আড্ডা দিলেন পুবের কলম পত্রিকার সাংবাদিক মহঃ আসিফ আহমেদের সঙ্গে। 

সকাল হতেই কয়েকশো মানুষ ভিড় করেছেন আপনার বাড়িতে। এটা কি ব্যাক্তি তাপসের জনপ্রিয়তা না রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা? 

আমি ৩৭ বছর ধরে একজন জনপ্রতিনিধি। মানুষ যেমন ভগবানের ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না। তেমনি জনপ্রতিনিধিরাও কখোনোই মানুষের ঋণ শোধ করতে পারেন না। রাজারহাটের মানুষ আমাকে ক্ষমতা দিয়েছেন। সেহেতু মানুষ আমার বাড়িতে অবশ্যই আসবেন। আর আমার বাড়ির হলই জনসংযোগের মন্দির, মসজিদ, গির্জা। মানুষ কাজের মধ্যে দিয়ে সবকিছুকে মনে রাখেন। ৪০০ বছরের রাজারহাট আমার কাছে নস্টালজিয়া। তাই মমতা দিদিকে বলেছিলাম, বিধাননগর পৌরনিগম নামের সঙ্গে রাজারহাট নাম সংযুক্ত করতে। দিদি বলেছিলেন, আমি বোর্ডে প্রস্তাব দিয়েছি। 

সমালোচকেরা বলেন, তাপস চট্টোপাধ্যায় হার্মাদ। সত্যিই কি আপনি হার্মাদ? 

অন্যায়ের প্রতিবাদে আমি বিভিন্ন সময় রুখে দাঁড়িয়েছি। রাজারহাটে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির ঐক্য রক্ষা করতে গিয়ে মাঝখানে ইট খেয়েছি। কিন্তু সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে দিইনি। যার জন্য নিন্দুকেরা আমাকে সহ্য করতে পারেননা। আমি রাজারহাটে ১৭০০ মানুষকে চাকরি দিয়েছি। অ্যাম্বুলেন্স, হসপিটাল, স্কুল-কলেজে তৈরি করেছি। এটা যদি আমার হার্মাদ আচরণ হয়, সেই সমালোচনা সহ্য করতে আমি কুন্ঠিত বোধ করিনা। 

আপনার একসময়ের সহযোদ্ধা সব্যসাচী দত্ত সম্পর্কে কি বলবেন?
সব্যসাচী দত্ত ক্ষমতা অহঙ্কারী। তিনি অহঙ্কারকে ভালোবাসেন। মেয়র থাকাকালীন ওনার ঘরের সামনে গরিব মানুষ ভিড় করতে পারতেন না। তিনি গরিব মানুষকে সম্মান দিতে জানেন না। শুধু মস্তানি করেন। কথায় আছে, রতনে রতন চেনে। তেমনি সব্যসাচী বিজেপিকে চেনে। 

আপনার ঘরের পাশে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জমিয়ে সভা করছেন। মনে হচ্ছেনা তৃণমূল ভেঙে যাচ্ছে? 

দিলীপ ঘোষ একজন রংবাজ। উনি সবসময় ভুলভাল কথাবার্তা বলেন। একদিন ওনাকে আমরা ভাষার শিক্ষা দেব। তবেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা উপযুক্ত উপহার তুলে দিতে পারব। 

বিজেপি কি পারবে একুশের নির্বাচনে রাজারহাট নিউটাউন বিধানসভা দখল করতে? 

বিজেপির সাম্প্রদায়িক মানসিকতা দেশের শত্রু। আগামীর শত্রু। মানবতার শত্রু। ভারতীয় জনতা পার্টির রাজত্বে আমরা এখন সংকটময় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। ভারতে যেমন হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার মানসিকতা। পাকিস্তানে তেমনি মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার মানসিকতা। ভারতবর্ষে বিজেপির ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রধান বিপদ। এ আচরণ অবিলম্বে ত্যাগ হওয়া দরকার। তবে একুশে রাজারহাট নিউটাউনের মাটি থেকে বিজেপিকে উৎখাত করব দৃঢ় প্রত্যাশা নিয়ে। 

একুশে তাপস চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নির্বাচনী টিকিট পাওয়ার প্রত্যাশা আছে? 
আমি মনে করি বামপন্থাই মতাদর্শের দর্শন। আমি তৃণমূলে গিয়ে সেই বামপন্থাই রক্ষা করে চলেছি। কিন্তু আমরা সবাই রাজা, রাজার রাজত্বে। একুশের লড়াই হবে সম্প্রীতি রক্ষার লড়াই। আর আমরা সবাই মিলে সম্প্রীতি রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাব। তবে দল আমাকে টিকিট দিলে আমি বিধায়ক ফাটাকেষ্ট হয়ে দেখাব। সব্যসাচী দত্তের মতো হাতে বালা পড়ে নয়। তবে বলে রাখি, সূর্য যেমন পূর্ব দিকে ওঠে, পশ্চিমে অস্ত যায় এটা সত্য। তেমনি একুশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন এটাও সত্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only