শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০

জার্মান চার্চগুলোর মাথায় যৌন অভিযোগের পাহাড়, বিশপের পাশবিকতার শিকার মহিলা ও শিশু-কিশোর! জানতে বিস্তারিত পড়ুন



পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: জার্মানির কয়েকশো ক্যাথলিক চার্চের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ ৬ দশক ধরে এইসব খ্রিস্টান চার্চের দায়িত্বে থাকা যাজক ও বিশপদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের পাহাড় জমে রয়েছে। এসব অভিযোগ মহিলা ছাড়াও শিশু-কিশোরদেরকে কেন্দ্র করে। অর্থাৎ ওইসব যাজক ও বিশপদের বিরুদ্ধে বহুগামিতার পাশাপাশি সমকামিতারও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে তদন্তে। উল্লেখ্য, শুধু জার্মানিই নয়, আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, পোল্যান্ড সহ পশ্চিমা বিশ্বের প্রায় সব দেশেই চার্চ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে, এখনও উঠছে। যার মধ্যে অনেককেই দোষী সাব্যস্ত করে সাজাও দিয়েছে ভ্যাটিকান। 

অনেক ক্ষেত্রে আবার দেখা গিয়েছে,প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে অপরাধ প্রমাণ হওয়া সত্ত্বেও দোষীদের কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারেনি ভ্যাটিকান। এ ব্যাপারে দুর্বলতার কথা স্বীকার করে নিয়ে একাধিকবার দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। আক্ষেপ করে তিনি এও বলেছেন, চার্চগুলোকে কবজা করে ফেলেছে কিছু অশুভশক্তি। যারা অবাধে যৌনতা চালাচ্ছে। কিন্তু শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে গেলেই বোঝা যায়, তাদের মাথায় কোনও অদৃশ্য হাত রয়েছে। তারা আমাকে আপদ বলে মনে করেন। তারা চান,আমি কত তাড়াতাড়ি পোপের পদ থেকে বিদায় নিই। এ প্রসঙ্গে বছর দেড়েক আগেই যাজক ও বিশপদের কাম প্রবৃত্তি লাঘব করতে বিবাহিতদেরকেও পদে বসানোর প্রস্তাব দেয় সংশ্লিষ্ট কমিটি। এমনকী বেশ কয়েকটি দেশে মহিলাদেরকেও চার্চে নিয়োগের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তাতেও খুব একটা সুবিধে হচ্ছে না। অনেকের মতে– বিশপদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার, ভুক্তভোগী, ক্ষতিগ্রস্তরা সামাজিক লজ্জার খাতিরে ঘটনাগুলো চেপে রাখেন। যেগুলো অভিযোগ হিসেবে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে দায়ের হয়, তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। 

সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, জার্মানির বিভিন্ন চার্চে নারী, শিশু ও কিশোরদের অনিচ্ছার বিরুদ্ধে, তাদেরকে ভয় ও প্রলোভন দেখিয়ে যাজক ও বিশপরা যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। বিগত ৬ দশকে এমন অভিযোগ জমা পড়েছে ১৪১২টি। অভিযোগকারীর ৮০ শতাংশ পুরুষ, ২০ শতাংশ মহিলা। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে ৬৫৪ যাজক-যাজিকা এবং বাকিরা চার্চ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা। 

বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানায় দেশটির খ্রিস্টান ক্যাথলিক ধর্মনেতাদের সংগঠন ডিওকে। এই স্পর্শকাতর ইস্যুটির মোকাবিলায় তারা ব্যর্থ হয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন। রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, অভিযোগকারীদের ৮০ শতাংশই জীবিত নেই। এদের মধ্যে অনেকে গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন। সেক্ষেত্রেও অভিযোগের তির সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত যাজক ও বিশপদের দিকে। চার্চ ছাড়াও অভিযোগ রয়েছে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের পরিচালিত স্কুল-কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও। উল্লেখ্য, জার্মানির চার্চগুলোর ৭০ শতাংশ সদস্যই মহিলা।   

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only