বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০

এক মাস অন্তর একটা করে পরমাণু বোমা বানায় কোরিয়া, আরও কি বলছে মার্কিন রিপোর্ট

 




পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মার্কিন সেনাবাহিনীর এক গোপন রিপোর্ট বলছে, উত্তর কোরিয়ার কাছে রয়েছে অন্তত ৬০টা নিউক্লিয়ার বোমা ও ৫ হাজার টন রাসায়নিক অস্ত্র। গতমাসে তৈরি ‘নর্থ কোরিয়ান ট্যাক্টিকস’ নামে রিপোর্টটিতে বলা হয়, প্রতি একমাস অন্তর অর্থাৎ বছরে অন্তত ৬-৭টা পরমাণু বোমা বানায় উত্তর কোরিয়া। এও বলা হয়েছে, চলতি বছরের শেষে কিমের হাতে থাকা পরমাণু বোমার সংখ্যা বেড়ে ১০০ হবে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ধারণা,বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম রাসায়নিক অস্ত্র সমৃদ্ধ দেশ উত্তর কোরিয়া। কারণ, তাদের কাছে ২৫০০ থেকে ৫ হাজার টন রাসায়নিক অস্ত্র মজুদ রয়েছে। তাই ছোট্ট দেশটিকে ট্রাম্পের আমেরিকা এখনও হুমকি বলেই মনে করছে। 

যদিও বছর দুয়েক আগে সিঙ্গাপুরে কিমের সঙ্গে বৈঠকের পরই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, বিশ্ববাসী এখন থেকে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারবে। কারণ, উত্তর কোরিয়া এখন থেকে আর পরমাণু অস্ত্রধর দেশ নয়। কোরীয় উপদ্বীপকে পুরোপুরি পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে কিমের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেছি বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু পরে পরে জানা যায়, কোনও চুক্তিতেই সই করেননি ধূর্ত কিম। বরং মুখেমুখি বসে চিনের স্নেহধন্য উদীয়মান রাষ্ট্রনেতা কিম মেপে নিয়েছেন ট্রাম্পের উচ্চতা। ট্রাম্পকে বোকা বানিয়ে কয়েক কোটি ডলার খরচ করে সিঙ্গাপুরে বিলাসবহুল বৈঠক করে বিশ্বজুড়ে নাম কামিয়ে নিয়েছেন কিম। আর খালি হাতে দেশে ফিরে ফাঁকা ডায়ালগ দেওয়ায় ট্রাম্পকে তুলোধনা করেন আমেরিকার বিরোধী দল ও বিশেষজ্ঞরা। 

এদিকে মার্কিন রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, কিমের দেশে রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে ভয়ঙ্কর সব জীবাণু রয়েছে। স্মলপক্স, অ্যানথ্রাক্সের মতো জীবাণু ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারে দেশটি। পাশাপাশি তাদের সাইবার যুদ্ধ করার সবরকম বন্দোবস্তও না কি রয়েছে। এ জন্য ৬ হাজার হ্যাকারকে মোটা মাইনে দিচ্ছে পিয়ংইয়ং। এই বিস্ফোরক রিপোর্টটি পর্যালোচনার জন্য ইউএস সিকিওরিটি কাউন্সিলের নর্থ কোরিয়া সায়েন্সেস কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, এ রকম কোনও কিছু না থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা গোয়েন্দা রিপোর্টকে অজুহাত করে ইরাককে ধ্বংস করে, অগণিত নিরীহ মানুষকে হত্যা করে, প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেনকে পর্যন্ত প্রহসনের মামলায় ফাঁসিতে ঝোলানো হল। অথচ উত্তর কোরিয়ার কাছে এত বিপুল বিধ্বংসী অস্ত্রসম্ভার থাকলেও কিমকে এখনও তোয়াজ করা হচ্ছে। দেশটি মুসলিম প্রধান হলে পরিণাম নিশ্চয় অন্যরকম হত। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only