শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০

রিয়া ,সুশান্ত,অঙ্কিতাদের সুখ কোথায় !


এ হাসানঃ ভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত এবং অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী এখন  সারা ভারতে রসালো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন। এর মধ্যে একজন আর পৃথিবীতে নেই। তিনি হয় আত্মহত্যা করেছেন কিংবা তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা হয়েছে। অথবা সুশান্ত সিং রাজপুতকে তাঁর চেনা পরিচয়ের পরিমণ্ডলের এক বা একাধিক ব্যক্তি খুন করেছে। এই রহস্য উন্মোচনে দেশের তিন তিনটি নামজাদা তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করেছে। এগুলি হচ্ছে সিবিআই, ইডি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো বা এনসিবি। দেশের টিভি চ্যানেলগুলি প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে– রিয়া চক্রবর্তীর স্বল্পবসনা বা প্রায় নগ্ন ছবিও ভিডিয়ো কে কতটা বেশি প্রচার করতে পারে। সঙ্গে রয়েছে রসালো নানা তথ্য। এর কিছুটা সত্য আবার কিছুটা হয়তো প্রমাণ সাপেক্ষ। তবে একটা কথা সত্য। বর্তমানে আমাদের শহুরে ও পাশ্চাত্যমুখী উচ্চবিত্ত সমাজে মূল্যবোধ ও জীবনাচরণ কতটা পালটে গেছে তার একটি জলজ্যান্ত নিদর্শন হচ্ছে সুশান্ত সিং রাজপুত, রিয়া চক্রবর্তী এবং তাঁদের সাঙ্গোপাঙ্গদের উদাহরণ।হলিউডে যৌন কেলেঙ্কারি ও বিখ্যাত অভিনেত্রীদের ধর্ষক হার্ভে ওয়াইনস্টাইনের নাম এখন সকলেই জানেন। ইচ্ছায় অনিচ্ছায় এই সব গণ্ডাগণ্ডা বি্যূাত অভিনেত্রীকে হার্ভে ওয়াইনস্টাইনের শয্যাসঙ্গী হতে হয়েছিল। নইলে হলিউডের মতো স্থানে নায়িকা হিসেবে তাদের উত্থান সম্ভব হত না। কিছুদিন আগে বলিউডে যখন ‘মি-টু’ আন্দোলনের এক টুকরো সামনে এসেছিল তখনই পরিষ্কার বুঝতে পারা গিয়েছিল  অভিনেত্রীদের কাজের সুযোগ ও সাফল্যের লোভ দেখিয়ে যৌনশোষণ করতে নায়ক ,খলনায়ক ,পরিচালক, প্রযোজক ,ক্যামেরাম্যান কেউই পিছিয়ে নেই। আর সাফল্যের জন্য এটা অবশ্যম্ভাব জেনে কিছু সম্মানীয় ব্যতিক্রম ছাড়া অনেকেই এই সিস্টেমের কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য হন। শুধু অভিনেত্রী নয় মডেলংয়ের পেশাতেও একই ছবি লক্ষ্য করা যায়। বর্তমান মামলাটিতে রিয়া, সুশান্ত,অঙ্কিতা এদের জীবনাচরণ তাদের নীতি-আদর্শ প্রভৃতির দিকে দৃষ্টিপাত করলেও যা সামনে আসে তা হল যে স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রী রামকৃষ্ণ, মা সারদা এদের বাণী, ভারতীয় সভ্যতার নৈতিকতা-আদর্শ আধুনিক জীবনে কোনও মানে রাখেনি।না এখানে ফ্রান্স, সুইডেন বা যুক্তরাষ্টের মিয়ামির কথা বলা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে আমাদের প্রিয় ভারতবর্ষের কথা। যেসব তথ্য ও মিডিয়া স্বীকারোক্তি সামনে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে সুশান্তের অন্যতম গার্লফ্রেন্ড অঙ্কিতা সুশান্তের সঙ্গে ৬ বছর লিভ টুগেদার করেছেন। আর তারপর সুশান্তের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর আরেক জনের সঙ্গে এখন লিভ টুগেদারে রত হয়েছেন। রিয়া চক্রবর্তীও গর্বের সঙ্গে বলেছেন যে আমি তো সুশান্তের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো থাকতাম। কাজেই আমার জন্য ও খরচ করবে না তো কার জন্য করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আর কারও জন্য মারাত্মক ড্রাগ মারিজুয়ানা সংগ্রহ এবং ড্রাগ ডিলারদের কাছ থেকে নয়া নয়া সব ড্রাগ নেশাদ্রব্য সংগ্রহ এবং তা প্রিয়জনকে জানিয়ে বা না জানিয়ে সেবন করানো, একে অপরের টাকা আত্মসাৎ, ‘পার্টনার’ থাকা সত্ত্বেও মহেশ ভাট জাতীয় বৃদ্ধের সঙ্গে প্রেম এগুলো এখন সমাজের বি্যূাত শ্রেণির মধ্যে সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের জীবনযাত্রার অর্থ হচ্ছে নাকি জীবনকে ‘পরিপূর্ণভাবে’ উপভোগ করা। অবশ্য তাদের পরিবার পিতা-মাতা সকলেই এই অতি আধুনিকদের জীবনযাত্রাকে পুরোপুরি মেনে নিয়েছেন শুধু নয় সমর্থনও দিচ্ছেন। তাই হয়তো উর্দুতে একটি প্রবাদ রয়েছে যে‘মিয়া বিবি রাজি তো, কেয়া কারেগা কাজী।’ তবে শেষ কথা হচ্ছে এই জীবনযাত্রা সাময়িক সুূ যদিও দেয়, কিন্তু শান্তি দেয় না। সুশান্ত– রিয়া ও তাঁদের সহযোগীদের যে পরিণতি সামনে আসছে তা খুব দুঃখের। দুঃখ ঘটনার নট-নটি এবং বলতে গেলে সংশ্লিষ্ট সবার জন্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only