বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

‘রোজ গোমূত্র পান করি’, এমনটাই দাবি অভিনেতা অক্ষয় কুমারের

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক ফোঁটা টাটকা গোমূত্র পানের পরামর্শ দিয়ে আসছেন  বিশ্ব হিন্দু পরিষদ থেকে বিজেপির অনেক নেতা-কর্মী ।অনেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে সেই গোমূত্র পান করেন । গোমূত্র পান নিয়ে অনেকে অনুষ্ঠানও করছেন । এবার বলিউঠ অভিনেতা অক্ষয় কুমারও প্রতিদিন গোমূত্র পানের কথা জানালেন । দড়িতে ঝুলে কুমিরে ভরা নদী পার হওয়া হোক, বা গ্রিলসের সঙ্গে হাতির পায়খানার তৈরি চা খাওয়া। কী করেননি অক্ষয়! তবে তিনি যে রোজ গোমূত্র পান করতেন সেটা কারোর জানা ছিলনা । তাঁর সঙ্গে বিজেপি নেতা, বিশেষত প্রধানমন্ত্রী মোদির সম্পর্ক সর্বজনবিদিত। বারবার বিজেপি সরকারের প্রচারের মুখ হয়েছেন তিনি। করোনা মোকাবিলায় তৈরি পিএম কেয়ারস ফান্ডেও ২৫ কোটি টাকা দিয়েছিলেন। এবার অনেক বিজেপি নেতাদের মতোই বললেন, রোজ নাকি গোমূত্র পান করেন। এমনটাই দাবি করলেন অভিনেতা অক্ষয় কুমার।
সম্প্রতি অক্ষয় এবং তাঁর সহঅভিনেতা হুমা কুরেশির সঙ্গে ইনস্টাগ্রাম লাইভ সেশনে যোগ দেন বেয়ার গ্রিলস। ‘‌ইনটু দ্য ওয়াইল্ড’‌ খ্যাত গ্রিলস পরিচিত নাম। অক্ষয়ের সঙ্গেও একটি এপিসোড করেছেন তিনি। দু’‌জনে বান্দিপুর ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড টাইগার রিজার্ভে দিন কাটিয়েছেন। ১১ সেপ্টেম্বর সেই এপিসোড সম্প্রচার হবে। সেসব নিয়েই আড্ডা দিচ্ছিলেন তিনজন। 
উল্লেখ্য, হুমার সঙ্গে একটি ছবি আসছে অক্ষয়ের। নাম ‘‌বেল বটম’‌। এই আড্ডার ফাঁকেই হুমা জিজ্ঞেস করেন ‘‌হাতির মলের চা’‌–এর কথা। প্রোমোতে দেখা গেছে অক্ষয় এবং বেয়ার ওই চা পান করছেন। এই প্রসঙ্গেই অক্ষয় বলেন, ওই চা পান করতে তাঁর খুব একটা অসুবিধা হয়নি। কারণ তিনি রোজ গোমূত্র পান করেন। আয়ুর্বেদিক কারণে। 
 ‘‌ইনটু দ্য ওয়াইল্ড উইথ বেয়ার গ্রিলস’‌ সিরিজে দেখানো হয়, কীভাবে প্রতিকূল বন্য পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিচ্ছেন গ্রিলস। মাঝেমধ্যেই তাঁর সঙ্গে থাকেন কোনও সেলেব। একটি এপিসোডে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও। বান্দিপুরে তাঁর সঙ্গে দিন কাটিয়েছেন অক্ষয়। কীভাবে বন্য পরিবেশে মানিয়ে নিলেন তাঁরা, সেসবই দেখানো হবে। ইনস্টাগ্রামে ওই লাইভ সেশনে অক্ষয়ের রীতিমতো প্রশংসা করেছেন গ্রিলস। বিশেষত অক্ষয়ের ফিটনেসে তিনি মুগ্ধ। বললেন, ‘‌এত বছর যত জন অতিথি এসেছেন, তাঁদের মধ্যে অক্ষয় টায়ার–১’‌। আর এই সফরে আরও আনন্দ পেয়েছেন তিনি, কারণ অক্ষয়ও তাঁর মতোই অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়। তবে অক্ষয়কুমার কী কারণে গোমূত্র পান করেন তা জানাননি ।করোনা সারানোর কথা বলেন নি।তবে অক্ষয় কুমারের কথা শুনে গোমূত্র পান ভারতে বেড়ে না যায় সে আশঙ্কা অনেক চিকিৎসকের ।

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে করোনা রুখতে গোমূত্র পানের ফেস্টিভ্যাল করেছিল হিন্দু মহাসভা। ভাঁড় ভরা গোমূত্র পান করেন নেতা-কর্মীরা। আর সেই ফেস্টিভ্যাল থেকে ঠিক হয়ে গিয়েছিল আগামী পদক্ষেপ। জায়গায় জায়গায় গোমূত্রের ঠেক খুলবে তারা। শিশি ভর্তি করে পাঠানো হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। করোনা রুখতে এমনই দাওয়াই দিয়েছিল হিন্দু মহাসভা।

উত্তরপ্রদেশে গোমূত্র্ পানের ওই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। হাতে গোমূত্রের ভাঁড় নিয়ে হিন্দু মহাসভার জাতীয় স্তরের নেতা চক্রপাণি মহারাজ বলেছিলেন, “সরকারের উচিত সমস্ত বিমানবন্দরে মদের কাউন্টার বন্ধ করে গোমূত্রের কাউন্টার চালু করা। যে বিদেশিরা বিমানবন্দরে নামবেন তাঁদের গোবর মাখিয়ে শুদ্ধ করার পর গোমূত্র পান করানো হোক।” বলেই চক্রপাণি মহারাজ স্লোগান দিলেন, “করোনা শান্ত হও।” পাশে থাকা হিন্দুত্ববাদীরা সেই স্লোগানে কোরাস দিল, “শান্ত হও…শান্ত হও।”

তবে গো-মূত্র পান নিয়ে বিজেপিতে কোন্দলও আছে। স্বয়ং বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ বাবু গো-মূত্রে অমৃত দেখলেও তা পানের পথে নেই  কেন্দ্রীয় বাবুল সুপ্রিয়। প্রকাশ্যেই নিজের মনের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

প্রত্যেকটি ঘটনার প্রেক্ষিতেই চিকিত্সকরা বারবার বলছেন, গোমূত্র কখনওই করোনার ওষুধ নয়। করোনা নিয়ে একেই ভয়ে কাঁটা মানুষ। মিলছে না ওষুধ। তার মধ্যেই ভাইরাসের মত ছড়াচ্ছে কুসংস্কার ।অক্ষয়কুমারাও বাদ যান না !

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only