মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ইন্দোনেশীয় উপকূল থেকে উদ্ধার শ’তিনেক রোহিঙ্গা



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ ইন্দোনেশিয়ার আচেহ উপকূল থেকে প্রায় শ’তিনেক রোহিঙ্গা মুসলিমকে উদ্ধার করল স্থানীয়রা। তাদের মধ্যে ১০২জন পুরুষ ১৮১জন নারী এবং ১৪ শিশু ছিল। সোমবার এ খবর জানিয়ে আল-জাজিরা লিখেছে ৫ বছর পর এটা ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্র উপকূল থেকে রোহিঙ্গা উদ্ধারের বড় ঘটনা। অথৈ পানিতে ভাসছিল রোহিঙ্গা বোঝাই বোটটা। আচেহ উপকূলের লোকসিউমাউত এলাকা থেকে তাদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে। উদ্ধারকারী টিমের প্রধান তথা উজাংবালাং গ্রামের মোড়ল মুনিরকাত আলি বলেন সকালেই দেখতে পাই একটা মাঝারি মাপের বোটে ঠাসা বোঝাই লোকজন বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছে। তাদের আহাজারি শুনে হাত নেড়ে বোটটাকে তীরে ভিড়তে অনুরোধ করা হয়। সেই মতো বোটটা উপকূলের তীরে এলে সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তবে তারা কতদিন ধরে সমুদ্রের পানিতে ভাসছিল তা বলতে পারেননি তিনি। 
এর আগে জুনে এই আচেহ উপকূলে ভিড়েছিল শতাধিক রোহিঙ্গা বোঝাই একটা নৌকা। তারা ৪ মাস ধরে সমুদ্রের পানিতে ভাসছিল। সেনাকর্তা রুনি মহেন্দ্র বলেন  কয়েকজন অসুস্থ থাকায় তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সকলেই ভীষণ ক্ষুধার্ত অবস্থায় ছিল। অনেকদিন দরে খেতে না পেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারও কারও শরীর এতটাই দুর্বল হয়ে গিয়েছে যে বোট থেকে নিজ পায়ে হেঁটে নামতে পারছিলেন না। তবে সবাই এখনও বেঁচে আছেন। 
রেডক্রশের প্রধান জুনাইদি ইয়াহা বলেন " ৩ বছর কেটে গেলেও কোনও সুরাহা হল না। রোহিঙ্গাদের কী হবে  কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। ১০ লক্ষাধিক মানুষকে তাদের নিজ দেশ বার্মা থেকে বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গণধর্ষণ ও গণহত্যার শিকার হয়ে কত মানুষ নিহত হয়েছেন তার কোনও হিসেব নেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সিরীয় এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী সবথেকে বড় সংকট। অথচ গোটা বিশ্ব নীরব দর্শক হয়ে রয়েছে। আবার প্রতিবেশিদের মধ্যে সবথেকে বড় দুই দেশ চিন ও ভারত রোহিঙ্গাদের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক ও অমানবিক আচরণ করছে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের এই দুরবস্থার জন্য দায়ী যে মায়ানমার সরকার তাদেরকেই সহায়তা দিচ্ছে চিন ও ভারত।" 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only