শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মামলা জমে রয়েছে আদালতেঃ সুপ্রিম কোর্ট

 


পুবের কলম প্রতিবেদকঃ সারাদেশে প্রাক্তন বিধায়ক ও সাংসদদের বিরুদ্ধে করা প্রায় প্রায় সাড়ে চার হাজার ফৌজদারি মামলা জমে রয়েছে। যে তথ্য দেখে বিস্ময় প্রকাশ করতে বাধ্য হল সুপ্রিম কোর্ট। গোটা দেশের ২৪টি হাইকোর্টে এই সব ফৌজদারি মামলা জমে রয়েছে। রাজনীতিবিদরা প্রভাব খাটিয়েই যে তাঁদের বিরুদ্ধে অধিকাংশ মামলার তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়া আটকে রেখেছেন তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানি চলাকালীনই এই মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ।

বিচারপতি এন ভি রামানা বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি  রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে প্রাক্তন ও বর্তমান বিধায়ক বা সাংসদদের মতো আইন প্রণেতাদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা ৪৪৪২টি মামলার মধ্যে এমন ১৭৪টি মামলা রয়েছে যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন জেলের শাস্তি হতে পারে। আবার ৩৫২টি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টই বিচার প্রক্রিয়ার উপরই স্থগিতাদেশ জারি করেছে। দেশের মোট ২৪টি হাইকোর্টের তথ্য খতিয়ে দেখেই এই পরিসংখ্যান হাতে পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা।

আইনজীবী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলাতেই এই তথ্যগুলি উঠে এসেছে। সাজাপ্রাপ্ত রাজনীতিবিদদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার উপর আজীবন নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়ে মামলা করেছেন তিনি। বর্তমান সাজাপ্রাপ্ত রাজনীতিবিদরা ৬ বছর নির্বাচনে লড়তে পারেন না। আবেদন খতিয়ে দেখার পর শীর্ষ আদালত দেশের ২৪টি হাইকোর্ট থেকে বর্তমান ও প্রাক্তন সমস্ত বিধায়ক এবং সাংসদদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা সব ফৌজদারি মামলার তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছিল। এর পাশাপাশি রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার মতো যে মামলাগুলি চলছে তারও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যদিও সেই তথ্যও এখনও হাইকোর্টগুলির তরফে সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়েনি।

এই মামলায় আদালতের পরামর্শদাতা হিসেবে সিনিয়র আইনজীবী বিজয় হনসারিয়াকে দায়িত্ব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তাঁর কাছেই এই সমস্ত তথ্য জমা পড়ার কথা। হাইকোর্টগুলির থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শীর্ষ আদালতকে তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন বিধায়ক এবং সাংসদদের বিরুদ্ধে জমে থাকা ফৌজদারি মামলাগুলির দ্রুত শুনানির জন্য প্রতিটি জেলায় বিশেষ আদালত তৈরি করা হোক। প্রয়োজনে সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ থেকে সাক্ষীদের নিরাপত্তা দেওয়ার বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের নজরদারিতেই বিশেষ আদালতের বিচার প্রক্রিয়া চলতে পারে বলে প্রস্তাব দিয়েছেন বিজয় হনসারিয়া। তাঁর এই প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখে শীর্ষ আদালত আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানিতে নিজেদের মতামত জানাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only