শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মান‍ুষের লোভের কারণেই বিশ্বের সমস্ত উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণী বিপন্ন!



বিশেষ প্রতিবেদনঃ নানা অচেনা মহামারির আরও বড় বড় ঢেউ আসছে অদূর ভবিষ্যতে। কারণ বিশ্বের সমস্ত উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণী আজ মানুষের লোভের সামনে বিপন্ন। ঘন অরণ্যই তাদের একমাত্র বাসস্থান। কিন্তু অরণ্য কোথায়? এই গ্রহে সমগ্র জমির যে পরিমাণ, তার তিন ভাগের এক ভাগ এখন মানুষের খাদ্য উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত। এই খাদ্য বাক্সবন্দি হয়ে চলে যায় বাজারে বাজারে। প্রাণীদের পেটে যায় না। 


সারা পৃথিবীর সমস্ত মিষ্টি জলের চার ভাগের তিন ভাগে ভোজনবিলাসী মানুষের জন্য মাছ চাষ হয়। সমুদ্রের ৭৫ শতাংশ মাছের অনুপাত ভয়ংকরভাবে নিম্নমুখী। মানুষ তাদের মাত্রাতিরিক্ত খেয়েই চলেছে। মাছের সংখ্যা আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। মাত্র ৫০ বছর আগেও অবস্থাটা এই রকম ছিল না। কেন? কারণ, তখনও পর্যন্ত মানুষ যতটা প্রকৃতি নষ্ট করেছিল, সেই ক্ষতিপূরণ করার মতো যথেষ্ট প্রাণশক্তি লুকোনো ছিল প্রকৃতির নিজের মধ্যেই। 


কিন্তু প্রকৃতিকে ধ্বংস করার মাত্রা ও গতি অনেকটাই বেড়ে গেছে গত ৫০ বছরে। এতই দ্রুত এই ধ্বংসের গতি, যে সেই দুরন্ত গতির সঙ্গে তাল রেখে প্রকৃতি আর ক্ষতি পূরণ করতে পারছে না। অর্থাৎ অরণ্যকে নতুন করে গজিয়ে ওঠার কোনও সুযোগই দিচ্ছে না আগ্রাসী মানুষ। প্যারিসে এই সতর্ক বার্তা ঘোষণা করেছে ‘দ্য লিভিং প্ল্যানেট’ ও বিশ্ব বন্যপ্রাণ সংস্থা ‘ডব্লিউডব্লিউএফ’। 


এই দু’টি সংস্থার যৌথ রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রকৃতি যেহেতু ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত, তাই অদূর ভবিষ্যতে আরও ভয়ঙ্কর সব মারণ ভাইরাস বেরিয়ে আসবে মাটির নীচ থেকে। শুরু হবে ব্যাপক মহামারি। মানুষ যদি নিজের লোভ ও আগ্রাসী চরিত্রকে এই মুহূর্তে সংযত না করে, তাহলে অন্যান্য বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষও লুপ্ত হয়ে যাবে। সমস্যা একটাই। সবার মাথার উপর বসে যে মানুষগুলো সিদ্ধান্ত নেন, এই ভয়ংকর ভবিষ্যতের কথা কল্পনা করার মতো বিদ্যাবুদ্ধি তাঁদের নেই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only