সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মেলার মাঠে ফেন্সিংয়ের কাজ, ক্ষোভের আঁচ শান্তি নিকেতনে



দেবশ্রী মজুমদার, শান্তিনিকেতন:  পৌষ মেলার মাঠে প্রাচীর দেওয়া নিয়ে তোড়জোড় শুরু হতেই ফের অশান্তির আশঙ্কায় শান্তি নিকেতন।  চলতি বছরের ১৭ অগাস্ট মেলার মাঠে পাঁচিল দিয়ে ঘেরা নিয়ে উত্তপ্ত হয় শান্তিনিকেতন৷ মাঠের পাঁচিল, ক্যাম্প অফিস, পৌষ মেলার গেট ভেঙে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চলে রাজনৈতিক মদতে, বলে বিশ্বভারতী তরফে অভিযোগ ওঠে৷ ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কলকাতা হাইকোর্ট৷ তার ৪০ দিন পর সেই মেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়ার কাজ শুরু হওয়ায়, ফের বিতর্ক দেখা দিল ৷


সূত্রের খবর,  উঁচু পাঁচিল তৈরি না হলেও, ছোটো পাঁচিলের উপর কাঁটাতার দিয়ে ফেন্সিং করা হবে৷ চার সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করার আদালতের নির্দেশ রয়েছে, এমনটাও শোনা যাচ্ছে৷ নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয়েছে পাঁচিল তৈরির কাজ। এব্যাপারে একাধারে আশ্রমিক থেকে ব্যবসায়ী সমিতির মধ্যে শুরু হয়েছে ক্ষোভ। বোলপুর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুনীল সিং বলেন, আমি কোলকাতায় আছি বিশেষ কাজে। আমি খবর পেয়েছি। মেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় ফের আগের মত আন্দোলন শুরু হবে। আমরা এই অন্যায় কিছুতেই মেনে নেব না। 


শান্তি নিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিক সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। তবে সবিশেষ জানি না। যদি, এই ধরণের ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে তা হবে অনভিপ্রেত। আমরা বিস্মিত এই কারণে যে গোটা বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে আছে এবং তা উচ্চ আদালতের নির্দেশে। আদালত নিয়োজিত কমিটির সাথে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে আমি মেলার মাঠ, আশ্রম বন্ধ থাকা এবং অন্যান্য পাঁচিল দিয়ে ঘেরা প্রসঙ্গে লিখিত বক্তব্য আকারে পেশ করেছি। 


পাশাপাশি, কোভিডের কারণে বহু প্রবীণ আশ্রমিকদের পরিবার আছেন যাঁরা কেন্দ্রীয় বিশ্ব বিদ্যালয় হওয়ার আগে থেকে কেউ কেউ ১৯১০ সাল থেকে আছেন, তাঁরা অনেকেই আলোচনায় অংশ নিতে পারেননি। তাঁদের সাথে আলোচনা করা দরকার, বলেছিলাম। আমাদের সাথে সম্ভবতঃ তৃতীয় দফায় আলোচনা ও স্পট ভিজিট করার কথা ছিল। তারপর রিপোর্ট জমা দিয়ে তো আদালতের রায় হবে! তাই গোটা ঘটনায় বিস্মিত। 


১৭ অগাস্ট বোলপুর-শান্তিনিকেতন এলাকার কয়েকশো বাসিন্দা চড়াও হয়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালায়। নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক -কাউন্সিলরদের একাংশ।এমনকী শান্তিনিকেতন থানার অদূরে এই ঘটনা ঘটলেও পুলিশকর্মীদের দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ করেছিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তাণ্ডবের সময় ভেঙে দেওয়া হয়েছিল বিশ্বভারতীর অস্থায়ী ক্যাম্প অফিস ও পৌষ মেলার গেট। বিশ্বভারতীর ঐতিহ্য রক্ষা করতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে কলকাতা হাইকোর্ট। 


জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা এস আর ডি এ চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডলকে এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাই কোন কথা তিনি বলবেন না। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only