সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

জেএনইউয়ের সাবেক ছাত্র নেতা ওমর খালিদ গ্রেফতার হওয়ায়, নিন্দার ঝড়



পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:  দিল্লিতে গত ফেব্রুয়ারির দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা ও সমাজকর্মী ওমর খালিদকে গ্রেফতার করেছে। দীর্ঘ  ১১ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসবাদ শেষে গতকাল রবিবার রাত ১১ টায়  পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। দিল্লির শাহীনবাগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন, সেখানে তিনি উস্কানিমূলক ভাষণ দিয়েছিলেন বলেও পুলিশের অভিযোগ। তাঁকে আজ ১০ দিনের জন্য পুলিশি রিমান্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    

ওমর খালিদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিএ) মামলা দায়ের হয়েছে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্নমহল থেকে সরকার ও পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।   


এদিন রাতেই ওমর খালিদের বাবা সাইয়্যেদ কাশিম রসুল ইলিয়াস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, ‘স্পেশাল সেল রাত ১১ টায় আমার ছেলে উমর খালিদকে গ্রেপ্তার করেছে। দুপুর ১ টা থেকে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। তাকে দিল্লির দাঙ্গা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।’   


অধ্যাপক অপূর্বানন্দ এবং সমাজকর্মী হর্ষ মন্দারের মতো ১২ জন সেলিব্রিটি ওমর খালিদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে এক যৌথবিবৃতি দিয়েছেন। এবং যারা দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলেন সেইসব সাহসী তরুণ কণ্ঠস্বরের মধ্যে ওমর খালিদকে অন্যতম বলে আখ্যায়িত করেছেন। 


বিশিষ্ট সমাজকর্মী হর্ষ মন্দার বলেন, ওমর খালিদ সেই হাজার হাজার  কণ্ঠের মধ্যে একজন, যারা বিশেষত শান্তিপূর্ণ, অহিংস এবং গণতান্ত্রিক  উপায়ে দেশজুড়ে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী বিক্ষোভে সংবিধানের পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন।


অধ্যাপক অপূর্বানন্দ এবং সমাজকর্মী হর্ষ মন্দারের মতো ১২ জন সেলিব্রিটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ ‘সিএএ’ বিরোধী বিক্ষোভকারীদের টার্গেট  করে একটি বিদ্বেষপূর্ণ তদন্তের অংশ হিসেবে ওমর খালিদকে গ্রেপ্তার করা  হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইউএপিএ, রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গভীর দুঃখের সাথে আমাদের বলতে কোনও সন্দেহ নেই যে ওই তদন্তটি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় রাজধানীতে সহিংসতা নিয়ে নয়, বরং অসাংবিধানিক ‘সিএএ’র বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বিক্ষোভের বিষয়ে হয়েছে।’


‘ইউনাইটেড এগেনস্ট হেট’  সংগঠন এক বিবৃতিতে বলেছে, দিল্লি পুলিশ দাঙ্গার তদন্তের ছদ্মবেশে বিক্ষোভকে অপরাধীকরণ করার চেষ্টা করছে।  বিবৃতিতে বলা হয়,  ‘ভীতি প্রদর্শনের এই সমস্ত পদ্ধতি সত্ত্বেও,  ‘সিএএ’ এবং ‘ইউএপিএ’র মতো নিষ্ঠুর আইনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে।’ 


‘স্বরাজ অভিযান’-এর নেতা ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, ওমর  খালিদের গ্রেপ্তারে অবাক হয়েছেন। শ্রী যাদব বলেন, আমি অবাক হয়েছি যে ওমর খালিদের মতো একজন তরুণ, ভাল চিন্তাভাবনা এবং আদর্শবাদী  সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে ‘ইউএপিএ’  প্রয়োগ করা হয়েছে! খালিদ সবসময়  সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা করেছেন। দিল্লি পুলিশ ভারতের ভবিষ্যতকে বেশিদিন থামাতে পারবে না বলেও যোগেন্দ্র যাদব মন্তব্য করেন। 


সমাজকর্মী ও জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেত্রী শেহলা রশিদ কটাক্ষ করে বলেছেন,  ওই মামলাটি মোদির শিক্ষামূলক শংসাপত্র ও বৈবাহিক অবস্থানের মতোই ভুয়া।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only