সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

পিছু হটলেন হিমন্ত, মাদ্রাসা বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আলোচনা করা হবে



পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক :  মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যত পিছু হটল অসমের বিজেপি সরকার। মাদ্রাসা বন্ধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ধর্মের পণ্ডিতদের সঙ্গে আলোচনা ও সহমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে গতকাল শনিবার রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা মন্তব্য করেছেন।   


অসমের শিক্ষামন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা গত ফেব্রুয়ারিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চলা মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে তিনি অবশ্য টোল বন্ধের কথাও জানিয়েছিলেন। চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুতেও  রাজ্য বিধানসভাতেও তিনি অত্যন্ত জোরের সঙ্গে একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন।     


সংস্কৃত টোলগুলো শিক্ষার্থীর অভাবে ধুঁকলেও মাদ্রাসায় প্রচুরসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। রাজ্যে প্রাদেশিকৃত মাদ্রাসা রয়েছে ৪২৩ টি। অন্যদিকে, সংস্কৃত টোলের সংখ্যা মাত্র ৯৭।     


মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অসমের বিশিষ্ট আইনজীবী হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেছিলেন, ‘কেবলমাত্র ভোটের সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের জন্যই হিমন্ত এটা বলেছেন। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, মাদ্রাসা বন্ধ করে দেখান তিনি। প্রয়োজনে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হবে।’   


চলতি সেপ্টেম্বরের বিধানসভায় মাদ্রাসার প্রাদেশিকরণের দাবি উঠলে শিক্ষামন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা সাফ বলেন, ‘মাদ্রাসার প্রাদেশিকীকরণ!  কথাটা ওঠে কীভাবে? সরকারি স্তরের প্রতিটি মাদ্রাসাই তো বন্ধ  হয়ে যাচ্ছে এবং সেটা আগামী নভেম্বরের মধ্যেই।’  ওই ঘোষণার পরেই রাজ্যে মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়।   


ওই ইস্যুতে গতকাল শনিবার শিলচর সার্কিট হাউসে শিক্ষামন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার সঙ্গে আলোচনায় বসেন অসমের বিশিষ্ট আলেম ও মুসলিম সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তারা এসময়ে মন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়ে জানান, মাদ্রাসায় কেবলমাত্র আরবি শিক্ষা দেওয়া হয় না। আরবির পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার মধ্যদিয়ে জীবন গড়ার শিক্ষা দেওয়া হয়। তাছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকবারই সংস্কার করে তা আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। সেজন্য শিক্ষামন্ত্রীকে মাদ্রাসা বন্ধের  সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, জামায়াতে ইসলামী হিন্দ, নিজামুল মুসলেমিন ও নদওয়াতুত তামিরের প্রতিনিধিরা।  


পরে আমীরে শরীয়া মাওলানা ইউসুফ আলী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান প্রমুখ গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর কথায় মনে হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ করা হবে না। এ ব্যাপারে তারা বেশ আশাবাদী। উনি আশ্বাস দিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় পণ্ডিতদের সঙ্গে আলোচনা না করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের আবেদনে সাড়া দিয়েছেন বলেও মুসলিম নেতৃবৃন্দ মন্তব্য করেছেন। ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করেছেন। বলেছেন, বিজেপি আমলে কার্যত মাদ্রাসার কোনও ক্ষতিসাধন হয়নি। শিক্ষামন্ত্রীর এহেন অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মুসলিম নেতৃবৃন্দ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only