শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

টিভিতে সমান্তরাল তদন্ত, অর্ণব গোস্বামীকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

 


পুবের কলম প্রতিবেদক: ‘রিপাবলিক টিভি’র প্রধান অর্ণব গোস্বামীকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করল দিল্লি হাইকোর্ট। বলা ভালো তাঁর সাংবাদিকতার পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেছে উচ্চ আদালত। সুনন্দা পুষ্কর মৃতু্য রহস্য মামলায় ভর্ৎসিত হয়েছেন অর্ণব। বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট বিজেপি পন্থী ‘রিপাবলিক টিভি’র সর্বেসর্বাকে কড়া ধমক দিয়ে বলেছে– পুলিশ যখন কোনও মামলার তদন্ত করছে তখন কোনও সংবাদমাধ্যম কীভাবে সেই মামলার সমান্তরাল তদন্ত চালাতে পারে। এটা কখনও হতে পারে না। এজন্য অর্ণবের থেকে জবাবদিহিও তলব করে আদালত। এরপরই অর্ণবকে আদালতের নির্দেশ– সুনন্দা পুষ্কর মৃতু্য রহস্যের সংবাদ পরিবেশন করতে হবে সংযমের সঙ্গে। হাইকোর্টের বিচারপতি মুক্তা গুপ্তার নির্দেশ– এই মামলায় সম্প্রচারে সংযম দেখাতে হবে অর্ণবের চ্যানেলকে এবং বাগাড়ম্বর এড়িয়ে চলার লিখিত প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে হবে। এরপরই অর্ণবের উদ্দেশ্যে বিচারপতির প্রশ্ন– ‘কোনও তদন্তকারী সংস্থার দায়ের করা চার্জশিটের বিরুদ্ধে কি কোনও সংবাদমাধ্যম আবেদনের শুনানি করতে পারে? তদন্তের নিয়ম মেনে চলা উচিত।’ এরপরই অর্ণবকে ভর্ৎসনা করে আদালত বলে– কোনও ফৌজদারি মামলার তদন্তের তথ্য-প্রমাণের ন্যায়বিচার করা আদালতের কাজ। এ দিন অর্ণবকে বেশ কিছু চোখাচোখা প্রশ্ন করেন বিচারপতি গুপ্তা। অর্ণবের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন– ‘আপনি কি সেইসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন? আপনি কি একজন প্রত্যক্ষদর্শী?’ উল্লেখ্য– দিল্লি হাইকোর্টে সুনন্দা পুষ্করের স্বামী শশী থারুরের দায়ের করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঠিক এই ভাষাতেই এ দিন অর্ণবের সমালোচনা করে আদালত। নিজের আবেদনে শশী বলেছেন– রিপাবলিক টিভির কর্ণধার অর্ণব গোস্বামী ক্রমাগত আদালতের তথ্যের কাটাছেঁড়া করছেন। এমনকী অর্ণব এই হুমকিও দিয়েছেন যে– শশীকে তিনি খুনি হিসেবে প্রমাণ করেই ছাড়বেন। আগামী শুনানি পর্যন্ত দু’পক্ষকেই আদালতের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। উল্লেখ্য– মামলার পরবর্তী শুনানি ২০ নভেম্বর। এ দিন কেন্দ্রীয় সরকারেরও সমালোচনা করেছে হাইকোর্ট। বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলির উপর সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ না থাকাটা বিস্ময়কর বলে আখ্যা দিয়েছে আদালত। সুশান্ত সিং রাজপুত সংক্রান্ত খবর সম্প্রচার মামলায় টিভি চ্যানেলগুলির ভূমিকা নিয়ে বম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত প্রশ্ন তোলেন– গুরুতর কোনও বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এমন খবর সম্প্রচারের ক্ষেত্রে কেন টিভি চ্যানেলগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করবে না সরকার? এর উত্তরে অবশ্য কেন্দ্রের তরফের আইনজীবী বলেন– চ্যানেলগুলির বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে আদালতের পরিবর্তে প্রেস কাউন্সিল ও ‘নিউজ ব্রডকাস্ট স্যটান্ডার্ড অথরিটি’র (এনবিএসএ) দ্বারস্থ হওয়াই উচিত। এরপরই বিচারপতির পালটা মন্তব্য– এনবিএসএ কোনও বিধিবদ্ধ সংস্থা নয়। তাই গুরুতর বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এমন খবরের সম্প্রচারû নিয়ন্ত্রণে সরকারের ক্ষমতা কতটা তা নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক রিপোর্ট জমা দিক আদালতের কাছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only