মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চাকরিতে বাধা হিজাব, এবার বিতর্ক সিঙ্গাপুরে



সিঙ্গাপুর, ২৯ সেপ্টেম্বরঃ চাকরি না কি হিজাব। এই বিতর্ক বিভিন্ন দেশেই চলছে। সবথেকে বেশি দেখা যায় পশ্চিমা বিশ্বে। এবার সেই বিতর্ক দেখা দিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুরেও। কর্মক্ষেত্রে হিজাব পরা যাবে কি না, কিংবা হিজাব পরে থাকলে চাকরি পাওয়া যাবে কি না, মূলত এসব নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। 


হাসপাতালে কর্মরত ফারাহ অনেক আগে থেকেই হিজাব পরেন। কিন্তু তাঁর কর্মক্ষেত্র হাসপাতালে হিজাব পরা নিষিদ্ধ। তাই ডিউটি শুরুর আগে হিজাব খুলে ফেলতে হয় এই মুসলিম তরুণীকে। ফারহা জানান, বছর দুয়েক আগে যখন ইন্টারভিউ দিতে যাই তখনই কর্তৃপক্ষ বলেছিলেন, হিজাব পরে হাসপাতালে নার্সের কাজ করা যাবে না। কিন্তু সংসারের প্রয়োজনে চাকরিটা তার খুবই দরকার ছিল। তাই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন ফারহা। ঠিক করেন, হিজাব না পরলেও শালীন পোশাক পরেই কাজটা করবেন। তাছাড়া নার্সদের পোশাক তো এমনিতে অনেকখানি হিজাবের মতোই। তাই খুব একটা অসুবিধে হবে না। 


কিন্তু অন্য পেশার ক্ষেত্রে কী হবে। গত মাসে এক রেস্টুরেন্টের মহিলা কর্মীকে হিজাব খুলতে বলেন কর্তৃপক্ষ। দেশজুড়ে তখন তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। সিঙ্গাপুরের হিজাব পরিহিতা প্রেসিডেন্ট হালিমা ইয়াকুব পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায়। তিনি তখন বলেছিলেন, হিজাব নিয়ে অকারণ কিছু কোম্পানি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। এর কোনও যুক্তি সংগত কারণ নেই। 


প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং বলেন, কর্মক্ষেত্রে পারফর্ম্যান্সটাই বড় কথা। হিজাব নিয়ে বৈষম্য চলে না। এমন আচরণ মানুষের জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাঁর কথায়, এতে মুসলিমরা কর্মোদ্যোগ হতে পিছিয়ে পড়েন। যার কুপ্রভাব সমগ্র দেশে পড়বে। এশিয়া মহাদেশের ঝাঁ চকচকে এই দেশটির জনসংখ্যা ৫৮ লক্ষ ৬২ হাজার। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ মুসলিম। তাই সম্প্রতি হিজাবে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দেশটির মুসলিমরা আন্দোলন শুরু করেছেন। অনলাইন পিটিশনে সই করেছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। ১ লক্ষ সই সংগ্রহ হলে মুসলিমরা বিষয়টিকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যেতে চান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only