সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

শারদ উৎসবের আগেই ইলিশ বোঝাই ট্রাক ঢুকল বাংলাদেশ থেকে ভারতে

 


এম এ হাকিম, বনগাঁ : ভোজন রসিক বাঙালিদের জন্য সুখবর। আসন্ন শারদ উৎসবের আগেই পদ্মার ইলিশ বোঝাই ট্রাক ঢুকল বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দর থেকে ভারতের পেট্রাপোল স্থল বন্দরে। সোমবার সন্ধ্যায় দু’টি ট্রাক ১২ টন ইলিশ নিয়ে পেট্রাপোল বন্দরে ঢোকে। গতবছর অক্টোবরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা ইলিশের সর্বশেষ চালান ভারতে এসেছিল। বাংলাদেশ সরকার এ বছর ১ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ ভারতে রফতানি করার অনুমতি দিয়েছে।



২০১৫ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বাংলাদেশ সফরে যান তখন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘গণভবন’-এ ইলিশের বিভিন্ন পদ দিয়ে মমতাকে ভুরিভোজে আপ্যায়ন করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা সেসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হালকা সুরে বলেছিলেন, ‘ইলিশ মাছ পাঠানো আটকে রেখেছেন কেন? আমরা খেতে পাচ্ছি না!’    পাল্টা জবাবে, শেখ হাসিনা টিপ্পনি কেটে বলেন, ‘তিস্তার পানি আটকে দিলে কীভাবেই বা ইলিশ মাছ ভেসে আপনাদের ওখানে যাবে! পানি দেন,  ইলিশও যাবে।’ যদিও সেসব আজ অতীত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের কাছে তিস্তার পানির দাবি থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে উৎসবের মরশুমে পদ্মার ইলিশ মাছ পাঠাতে ভুলছেন না শেখ হাসিনা।



মৎস্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ডফিশের চলতি মাসের হিসাবে বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬ শতাংশই এখন বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে। দেশটিতে চলতি বছরে সাড়ে পাঁচলাখ টনের বেশি পরিমাণে ইলিশ উৎপাদিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইলিশের ভরা মরশুমে ইলিশ–অধ্যুষিত ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা,  চাঁদপুর, বরিশাল,পটুয়াখালি প্রভৃতি জেলার মৎসজীবিরা বর্তমানে ইলিশ ধরার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।

বাংলাদেশের পদ্মার সুস্বাদু ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।  বিশেষকরে শারদ উৎসবের সময়ে এই চাহিদা আরও অনেকগুণ বেড়ে  যায়। গতবছরও বাংলাদেশ সরকার শারদ শুভেচ্ছা হিসেবে ভারতে ৫০০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ২০১২ সালের আগস্টে ইলিশ–সহ সবধরণের মাছ রফতানি নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ। পরে ইলিশ ছাড়া অন্য সব মাছ রফতানিতে অনুমতি দেওয়া হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only