রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ম‍ুর্শিদাবাদে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার রহস্য খতিয়ে দেখতে সরেজমিন তদন্ত মানবাধিকার সংগঠনের



ছয় সদস্যের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম মুর্শিদাবাদ পরিদর্শন করেছে সম্প্রতি। তারা একটি মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি সন্ত্রাসী সন্দেহে ৯ দরিদ্র মুসলিম তরুণকে ধরেছে। এই গ্রেফতারির পিছনের রহস্য উদ্ঘাটন ও প্রকৃত তথ্য জানতে তারা সফর করেছেন সরেজমিনে। তবে এখন রাজ্যের আনাচে-কানাচে কান পাতলেই যেটা শোনা যাচ্ছে তা হল,  এই ৯ মুসলিমকে গ্রেফতার অনেকটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। 


গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ জানাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গে আর কয়েক মাস পরেই বিধানসভা ভোট। এই সময় মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে নাকি রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে কেন্দ্র। এ ঘটনার পর পরই আরএসএস ও বিজেপির নেতারা যেভাবে বিবৃতি দিয়েছেন,  তা থেকে বিষয়টি পরিষ্কার বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 


তারা এই জঙ্গি সন্দেহভাজনদের ‘জঙ্গি’ বলেই ধরে নিয়েছেন তদন্ত শেষ না হতেই। আর এর দায় পুরোপুরি চাপিয়ে দিচ্ছেন ম‍ুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর। তিনিই নাকি সংখ্যালঘ‍ুদের তোষণের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন ভোটব্যাঙ্ক পলিটিক্স করার জন্য। মমতাই এই ধরনের কাল সাপ পুষেছেন, এই ধরনের ব্যক্তি ও রাজনৈতিক আক্রমণ থেকেই বিজেপির উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তারা স্পষ্টত এই রাজ্যের হিন্দু ভোটকে মেরুকরণ করতে চাইছে অর্থাৎ হিন্দুরা যেন মনে করে যে মুসলিমরা সব জঙ্গি হয়ে গেছে। ওদের হাত থেকে বাঁচতে হলে এখন বিজেপিই একমাত্র আশ্রয়। 


অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অফ সিভিল রাইটস-এর রাজ্যনেতা আবদুস সামাদ জানাচ্ছেন, মুর্শিদাবাদের ৯ অভিযুক্তই শ্রমিক এবং তারা দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। আমরা তাদের পরিবারগুলোর কাছে গিয়েছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে যেটা বুঝেছি, গ্রেফতারকৃতরা পুরোপুরি অরাজনৈতিক দরিদ্র মানুষ। তারা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে একদমই সচেতন নয়। বরং কীভাবে দু’বেলা খাবার জুটবে, সে চিন্তাই করত সবসময়।


 এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমের নেতা আবদুস সামাদ আরও জানাচ্ছেন, আমরা চাই সত্য সামনে আসুক। সত্যি যদি কেউ অপরাধী হয়ে থাকে সাজা পাক। তবে যেভাবে এনআইএ-কে উদ্ধৃত করে অযৌক্তিক দাবি করা হচ্ছে, তাতে সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


মুর্শিদাবাদের এই গ্রেফতারি নিয়ে বেশকিছু সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল নানা গল্প লিখতে বসেছে। বেশ কয়েকটি বাংলা সংবাদপত্র ও টিভি প্রচার করে যে গ্রেফতারকৃত এক ব্যক্তির বাড়িতে নাকি ‘সুড়ঙ্গ’ পাওয়া গেছে। তারপর বলা হতে থাকে, সুড়ঙ্গ-টুড়ঙ্গ নয়, আসলে সেটি  ‘বাঙ্কার’। কিন্তু পরবর্তীতে তদন্ত করে দেখা গিয়েছে বাড়ি সংলগ্ন ওই সুড়ঙ্গ একটি নির্মীয়মাণ সেপটিক ট্যাঙ্ক। ওই গ্রামের অনেকের বাড়িতেই রয়েছে এমন ট্যাঙ্ক। 


জামায়াতে ইসলামি হিন্দের রাজ্য সভাপতি আবদুর রফিক এ বিষয়ে বলেন, এইসব প্রচারে এনআইএ তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। শাসক দল বিজেপি তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সংস্থাকে ব্যবহার করছে। আগামীতে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে, সেজন্যই মেরুকরণের উদ্দেশ্যে একটি চিহ্নিত মহলের এই কৌশল। 


রাজ্যের সবচেয়ে বড় মানবাধিকার সংগঠন এপিএইচআর-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট রঞ্জিত সুর আবদুর রফিকের দাবিকেই মান্যতা দিচ্ছেন। তাঁর মতে, বিজেপির রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডাকেই বাস্তবায়ন করতে চলেছে এনআইএ। রঞ্জিত বলেন, এর আগে মহারাষ্ট্র এলগার পরিষদ ও সম্প্রতি ছত্রধর মাহাতোর বিরুদ্ধে মামলা পুনরায় চালু করায় মনে হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এনআইএ-কে ব্যবহার করা হচ্ছে।

্ 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only