মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আমার এক অভিভাবককে হারালামঃ ফিরহাদ হাকিম


 ফিরহাদ হাকিম

প্রণবদা চলে গেলেন। খবরটা শোনার পর থেকেই মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে রয়েছে। তাঁর সঙ্গে আমার দীর্ঘ স্মৃতির কথা মনে পড়ছে। 


আমার হাফপ্যান্ট পরা বয়স থেকে প্রণবদার সঙ্গে সম্পর্ক। তখন তিনি সাদার্ন অ্যাভিনিউ-এর বাড়িতে থাকতেন। আমি ছোটবেলা থেকেই কংগ্রেস করতাম। তাঁর সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতেও আমি বহুবার গেছি, তাঁর সঙ্গে কথাও হয়েছে। তিনি আমাকে সব সময় আমার ডাক নাম ‘ববি’ বলে সম্বোধন করতেন। যখন তিনি ভারতের অর্থমন্ত্রী, তখন একদিন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন ববি, তোর আসল নামটা কী? আমি বললাম ফিরহাদ হাকিম। অমিতদাও (অমিত মিত্র) সেখানে ছিলেন।

 

এরপর রাষ্ট্রপতি হিসেবে যখনই তিনি বাংলায় আসতেন, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে আমিই তাঁকে রিসিভ করতাম, অভ্যর্থনা জানাতাম। তিনি সে সময়ও আমাকে ববি বলে ডাকতেন। আমাকে যখন নমিনেশন দেওয়া হয়, তখনও মমতাদি প্রণবদার সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন।

 

আমি সব সময় প্রণবদাকে আমার অভিভাবক হিসেবে গণ্য করেছি। মমতাদিও তাঁকে খ‍ুব শ্রদ্ধা করতেন, অভিভাবক বলে মনে করতেন। প্রণবদা চলে যাওয়াতে আমরা আমাদের অভিভাবককে হারালাম। 


প্রণবদা ছিলেন আদ্যপান্ত একজন সেক্য‍ুলার মানুষ। তাঁর ছিল সোশ্যালিস্ট ভাবধারা। কিন্তু একটা বিষয়ে আমি খ‍ুব দ‍ুঃখ পেয়েছিলাম। আর তা হচ্ছে, যখন তিনি ২০১৮ সালের মাঝামাঝি নাগপুরে আরএসএস সদর দফতরে যান। স্বীকার করছি, আমার খ‍ুব কষ্ট হয়েছিল। তাঁকে  ভালোবাসতাম বলেই হয়তো এরকম মনে হয়েছে। আমি প্রণবদার প্রয়াণে তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ব্যক্ত করছি। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only