রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রঘুবংশ প্রসাদ সিং, শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর



নয়াদিল্লি, ১৩ সেপ্টেম্বর: প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রঘুবংশ প্রসাদ সিং। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। রবিবার দিল্লির এইমসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। জনপ্রিয় প্রকল্প 'মনরেগা' তাঁরই মস্তিষ্ক প্রসূত বলে মনে করা হয়।


কোভিড আক্রান্ত হয়ে সপ্তাহ খানেক আগে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন রঘুবংশ। শনিবার রাতে শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ভেন্টিলেশনে রাখা হয় তাঁকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ৭৪ বছর বয়সি এই দুঁদে নেতা। তিন দিন আগে হাসপাতালে বসেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সামনে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন। সবাইকে চমকে আরজেডি সুপ্রিমো লালু প্রসাদ যাদবকে চিঠি লিখে দল ছাড়ার ঘোষণা করেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে বিহারের রাজনীতিতে নয়া জল্পনা শুরু হয়ে যায়।


ভারতের বৃহত্তম জনকল্যাণ কর্মসূচির (মহাত্মা গান্ধি ন্যাশনাল রুবাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট বা মনরেগা) স্থপতি ছিলেন তিনিই। প্রাথমিকভাবে সেই প্রকল্পের খসড়া তৈরি করেছিল সোনিয়া গান্ধির নেতৃত্বাধীন জাতীয় উপদেষ্টা কাউন্সিল। তবে সেই প্রকল্পে গতি দিয়েছিলেন রঘুবংশ প্রসাদ সিং। 


প্রায় ৩২ বছর রঘুবংশ ছিলেন লালুর ছায়াসঙ্গী। জননায়ক কর্পূরি ঠাকুরের মৃত্যুর পর দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে ওঠেন রঘুবংশ। ১৯৭৭ সাল থেকে রাজনীতির ময়দানে। বৈশালী লোকসভা কেন্দ্র থেকে পাঁচবার সাংসদ। ১৯৯৬ সালে জনতা দল এবং ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত আরজেডির হয়ে লোকসভার সাংসদ হয়েছেন। তবে, মোদি ঝড়ের কাছে শেষ দুবার পরাস্ত হন তিনি। গত লোকসভা নির্বাচনে লোক জনশক্তি পার্টির বীণা দেবীর কাছে কার্যত গোহারা হারেন তিনি। 


এর আগেও একবার দল ছাড়তে চেয়েছিলেন রঘুবংশ। কিন্তু সে যাত্রায় লালু প্রদাসের হস্তক্ষেপে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল আরজেডি। পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি কাণ্ডে লালু প্রসাদ যাদবের কারাবাসের পর থেকেই আরজেডিতে গুরুত্ব কমতে থাকে রঘুবংশের। লালু পুত্র তেজস্বী যাদবের হাতে দলের রাশ আসতেই কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এরপর গত বিধানসভা নির্বাচনে নীতীশ কুমারের সঙ্গে হাত মেলানোয় দল বিরোধী কিছু মন্তব্য করতে শোনা যায় তাঁকে। যা নিয়ে রঘুবংশের বিরুদ্ধে তেজস্বীর প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়।


কয়েক দিন আগেই হাসপাতালে বসে লালুকে চিঠি দিয়ে রঘুবংশ লেখেন, কর্পূরি ঠাকুরের মৃত্যুর পর ৩ দশক ধরে আপনার সঙ্গে আছি। তবে, আর নয়। বিহারের সাধারণ মানুষ তথা দলের কর্মীদের থেকে প্রচুর ভালবাসা পেয়েছি। এমন সিদ্ধান্তের জন্য তাঁদের কাছে দুঃখিত। লালুও জেল থেকে একটি হৃদয় বিদারক চিঠি লেখেন। তাঁকে দল না ছাড়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু রঘুবংশ যে পাল্টা চিঠিটা লেখেন, তা লালুকে নন, বিহারের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের উদ্দেশে। তারপরই জোরালো হয় জল্পনা।


তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ দিন তিনি ট্যুইটারে লিখেছেন, 'রঘুবংশ প্রসাদ সিং আমাদের মাঝে আর নেই। তাঁর এই মৃত্যুতে বিহারের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শূন্যতা তৈরি হয়েছে'।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only