শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

‘দেশদ্রোহিতার’ চার্জশিটে জুড়ল এম.ফিল থিসিসও



পুবের কলম, নয়াদিল্লিঃ জেএনইউর ছাত্র শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগপত্রে দিল্লি পুলিশ দেশ বিভাগের সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিষয়ক তার এম.ফিল থিসিসকে উদ্ধৃত করেছে। এ ছাড়া কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের বই ‘কেন আমি হিন্দু’ ব্যবহার করার অভিযোগ, হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে বৈষম্য ও ব্রাহ্মণ্যবাদের কথা প্রতিনিয়ত উল্লেখ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন’ বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। 


শারজিল ইমাম সাতটি মামলায় অভিযুক্ত, একটি ইউএপিএ মামলা সহ উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গার বিষয় সহ আরও ৬টি মামলায় তাকে যুক্ত করা হয়েছে। ২৮ জানুয়ারি গ্রেফতার হওয়া, শারজিল বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন। তার আইনজীবী অভিযোগপত্রের বিষয়বস্তু নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, শীঘ্রই তাঁরা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিনের আবেদন করবেন।


তাঁর বিরুদ্ধে করা ৬০০ পাতার চার্জশিট দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতে অতিরিক্ত দায়রা জজ ধর্মেন্দ্র রানার কাছে দাখিল করা হয়েছে, প্রমাণ হিসাবে জেএনইউর মুসলিম শিক্ষার্থী নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্র‍ুপের আড্ডার বাইরে ইমামের চারটি সিএএ-বিরোধী বক্তৃতাকে যুক্ত করেছে। বলা হয়েছে দিল্লি পুলিশের সিএএ নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছিল জেএনইউ ছাত্র শারজিল ইমাম। শারজিলের বিরুদ্ধে দেশের একাধিক রাজ্যে দায়ের হয়েছিল এফআইআর। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় চার্জশিট গঠন হয় শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে।


দিল্লি পুলিশ অভিযোগপত্রে লিখেছেন যে, জামিয়া-কাণ্ডের আগের দিনই সিএএ নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালাতে মসজিদে মসজিদে প্যামফ্লেট বিলি করছিল শারজিল। এরপরই বিহার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল জেএনইউ ছাত্র শারজিল ইমামকে। 


পরে বিহারের জেহানাবাদ থেকে গ্রেফতার করার পর ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়। শারজিলের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪ এ, ১৫৩ এ ও ৫০৫ ধারায় প্ররোচনামূলক বক্তব্য ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ ছড়ানোর অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলা রুজু হয়।


চার্জশিটে শারজিল ইমামের ধর্মান্ধতা সম্পর্কে তিনি যে বইগুলি পড়েছেন, সেগুলোকেই দায়ী করা হয়েছে। ইমামের এম.ফিল থিসিস, ‘দেশ বিভাগের পূর্বে ১৯৪৬ সালে বিহারের মুসলমানদের উপর হামলা’ সম্পর্কেও পুলিশ অভিযোগ করেছে। তিনি যেসব বই পড়েছেন, তার মধ্যে একটি ছিল ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, দাঙ্গা এবং আধুনিক ভারতে গণহত্যা ‘ইত্যাদি  অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে যে বইটি গত ছয় দশক ধরে ভারতে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের যৌথ সহিংসতার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে দাঙ্গা এবং গণহত্যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


পুলিশ জানিয়েছে যে, ইমাম তাঁর থিসিস চলাকালীন একই রকম বই পেয়েছিলেন, যেটি তার মনে তৈরি করেছিল যে মুসলমানরা দীর্ঘকাল থেকেই নিপীড়িত এবং তাঁর ধর্মীয় গোঁড়ামিকে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি বিশ্বাসের অভাব নিশ্চিত করে।


শারজিল ইমাম জেএনইউ থেকে আধুনিক ইতিহাসে পিএইচডি করছিলেন। বম্বে আইআইটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক তিনি। প্রথম থেকেই শাহিনবাগ আন্দোলনে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। গ্রেফতারের আগে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ প্রসঙ্গে শারজিল ইমাম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছিলেন, ‘আমি শান্তিপূর্ণ পথে প্রতিবাদ, সড়ক অবরোধের কথা বলেছিলাম। আসলে চাক্কা জামের কথা বলেছিলাম।’ তাঁর যে ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়েছে তা সম্পাদিত অংশ বলে অভিযোগ করেন জেএনইউয়ের স্কলার। তাঁর কথায়, ‘সম্পাদিত ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়েছে। ওটা থেকে আমার বিরুদ্ধে পুলিশ কিছুই প্রমাণ করতে পারবে না।’


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only