বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অনলাইন ক্লাসের স‍ুবিধা থেকে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীরাই বঞ্চিত



২ করোনার কারণে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। বিদ্যালয়কেন্দ্রিক প্রচলিত পাঠদানও বন্ধ। ফলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই ক্ষতি কিছুটা হলেও লাঘব করার উদ্দেশে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যালয়গুলি দূরশিক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। চালু হয়েছে অনলাইন পাঠদান। শিক্ষক-শিক্ষিকারা অনলাইন ক্লাস নিচ্ছেন আর পড়‍ুয়ারা বাড়িতে বসে মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে সেই পাঠ নিচ্ছে। প্রযুক্তিকেন্দ্রিক এই পাঠদানের সুবিধা কিছু পড়‍ুয়া অবশ্যই নিতে পারছে। তারা উপকৃত হচ্ছে। 


তবে বিপুল সখ্যক পড়‍ুয়া অনলাইন ক্লাসের সুবিধা নিতে পারছে না। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ মন্ত্রকের উদ্যোগে সিবিএসই ও এনসিইআরটি একটি সমীক্ষা করেছে। এই সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, ৫০ শতাংশ পড়‍ুয়া সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। অনেকের কাছে এটা বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনলাইন ক্লাস করার জন্য একটা স্মার্টফোন বা কম্পিউটার এবং নিরবিচ্ছিন্ন নেট পরিষেবা প্রয়োজন। প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, ২৭ শতাংশ পড়‍ুয়ার ল্যাপটপ, মোবাইল কিছুই নেই। বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যাহত হওয়ায় সমস্যায় পড়েছে ২৮ শতাংশ পড়‍ুয়া। গ্রামে-গঞ্জে এখনও অনেকের বাড়িতে বিদ্যুৎই নেই। যাদের স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ রয়েছে, দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে অনেকেই সমস্যায় পড়েছে। হাতের কাছে প্রয়োজনীয় বই না থাকাই বেশিরভাগ পড়‍ুয়াই সমস্যায় পড়েছে। 


অনলাইন ক্লাসের জন্য যে পূর্ব প্রস্তুতি দরকার তারা তা নিতে পারছে না। অনেক পড়‍ুয়াই শিক্ষক-শিক্ষিকার কাছ থেকে সমস্যা বুঝে নিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করছে না। শিক্ষকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে না পারায় তাদের পাঠগ্রহণে অসুবিধা হচ্ছে। বহু পড়‍ুয়ার বাড়িতে অনলাইন পাঠগ্রহণের সহায়ক পরিবেশের অভাব রয়েছে। অনেকেই আবার যন্ত্রের মাধ্যমে শিক্ষায় সড়গড় হতে পারছে না।


প্রযুক্তি নির্ভর এই পাঠদান প্রক্রিয়ায় পড়াশোনা ও তৎসম্পর্কিত আনুসঙ্গিক বিষয় নিয়ে শিশু-পড়‍ুয়ারা সারাদিন ব্যস্ত থাকছে। এতে পড়‍ুয়ার মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে। প্রলোভনের এই বস্তুটি (স্মার্টফোন) হাতে পেয়ে তাদের কেউ কেউ এর অপব্যবহার করছে। চ্যাট বা এই ধরনের বিষয়গুলি নিয়ে মগ্ন থাকছে। পক্ষান্তরে এই ব্যবস্থায় ছাত্রেরা অনেক বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। 


শিক্ষকের শেখানো ও ছাত্রের শেখার মধ্যে অগোচরে অনেক ফাঁকফোকর থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়ে যাচ্ছে। ভার্চুয়াল ক্লাস নিয়ে শিক্ষক ভাবলেন পড়‍ুয়া অনেক কিছুই শিখে গেল, কিন্তু হাতে-কলমে কাজ না করায় ছাত্ররা আসলে হয়তো কিছুই শিখল না। স্মার্টফোনের স্মার্টনেস আর বিভ্রান্তির আড়ালে চাপা পড়ে গেল তাদের না-বোঝা, না-শেখার বিষয়টি।


শিক্ষা দফতর অনলাইন ক্লাসের ওপর যতই জোর দিক না কেন, মনে রাখতে হবে সব জায়গা কলকাতা বা দিল্লি নয়। বাস্তব বলছে, অনলাইন ক্লাস সব পড়‍ুয়ার কাছে পৌঁছাচ্ছে না। বিকল্পের সন্ধান অবশ্যই করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার। কোনও পড়‍ুয়াই যাতে তা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা সরকারকে দেখতে হবে। অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থায় যে বৈষম্য ও বিচ্য‍ুতি তা দূরীকরণে ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়া আশু প্রয়োজন। শিক্ষা হোক সবার ও সার্বজনীন।

জুলেখা রহমান

পুরন্দরপুর, মুর্শিদাবাদ


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only