মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মুসলিম বলেই ঠাঁই হল না সল্টলেকের গেস্ট হাউসে!

 


ফারুক আলম ,কলকাতা: একবিংশ শতাব্দীর কুড়িটি বছর পেরিয়ে যেতে বসেছে। দেশ যে ধর্মের উর্ধ্বে উঠতে পারেনি এখনও তার অভিযোগ রয়েছে ভূরি-ভূরি। আমরা অবশ্য কলকাতাকে মরুদ্যান বলে মনে করি।  বর্তমানে ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষের এই যুগে কলকাতারই অভিজাত অঞ্চল সল্টলেকে আরও একটি ভেদাভেদের ঘটনা এই প্রশ্নটি পুনরায় উসকে দিয়ে গেল। গাল ভর্তি দাড়ি। মাথায় টুপি। অধিকাংশের পরনে লম্বা পাঞ্জাবি। এরা সকলেই মাদ্রাসার শিক্ষক। এসেছিলেন বিকাশ ভবনে। কেবল ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার কারণে সল্টলেকের একটি গেস্ট হাউস থেকে বিতাড়িত ও হেনস্থা হতে হল মালদা থেকে আগত মেহবুব আহমেদ, রফিক উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম সহ ১০ জনের একটি শিক্ষক দলকে।


এই ‘জাতিগত বিদ্বেষ ও অপমানে’র বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সোমবার সল্টলেকের অভিযুক্ত গেস্ট হাউজ ‘ট্রিনিটি’র বিরুদ্ধে পুলিশি দ্বারস্থ হয়েছে শিক্ষকদের সংগঠন ‘পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ’। তারা লিখিত নালিশ জানিয়েছেন বিধাননগর কমিশনারেট পুলিশের শীর্ষকর্তা ও বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশের কাছে। বিধাননগর কমিশনারেট পুলিশের বক্তব্য যে ঘটনাটির তদন্ত চলবে। প্রয়োজনে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার ধারা প্রয়োগের রাস্তাও খোলা থাকছে।  


এই ঘটনা সম্পর্কে শিক্ষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মইদুল ইসলাম জানিয়েছেন " অভিযোগ জানানো পর বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক শীর্ষকর্তা ফোন মারফত বিষয়টির নিন্দা করে ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। মইদুল আরও বলেন " ‘রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের বাংলায় এই ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার জন্য নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী দফতরে অভিযোগ করা হয়েছে’। 


এদিকে শিক্ষক সংগঠনের ওই অভিযোগকে নস্যাৎ করে ট্রিনিটি গেস্ট হাউজের কর্তাদের দাবি" এই ঘটনার সঙ্গে বিদ্বেষ বা ধর্মের যোগ নেই "।  


ঘটনাটি কী এমন ঘটেছিল? শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে " নিজেদের পেশাগত কাজে মালদার ১০ জনের একটি শিক্ষক দল সল্টলেকে বিকাশ ভবনে অবস্থিত মাদ্রাসা দফতরে এসেছিলেন। সোমবার সকাল ৬টা নাগাদ তাঁরা সল্টলেকে পৌঁছন। বিশ্রামের জন্য বিকাশ ভবন সংলগ্ন সল্টলেক ডিএল ব্লকের ৩৯-এর ‘ট্রিনিটি’ ওই গেষ্ট হাউসে ওঠেন শিক্ষকদলটি। অগ্রিম টাকা দিয়ে বুকিং করা গেস্ট হাউজের ২০১-২০৩ নম্বর রুমে উঠতে নিজেদের পরিচয়পত্র দিয়ে রেজিস্টারও করে ছিলেন মালদার মাদ্রাসা শিক্ষকেরা। অভিযোগ, ঘণ্টা দু’য়েক পর এই গেস্ট হাউজ থেকে পাশের সিএল ব্লকের ১৬৪ নম্বরের গেস্ট হাউজে চলে যাওয়ার জন্য শিক্ষকদের বলা হয়। এক শিক্ষক জানিয়েছেন এরপরে ওই হোটেলে নিয়ে গিয়েও দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে হয়রানি করা হয়। বলা হয় স্থানীয়দের আপত্তিতে নাকি মুসলিম ধর্মালম্বী হওয়ার কারণে ওই গেস্ট হাউজে রুম দেওয়া হবে না। এই কথা শিক্ষকদেরকে জানান হোটেল ম্যানেজার। এ দিকে হোটেলে চূড়ান্ত অপমান এবং বাইরে তুমুল বৃষ্টি। অগত্যা শিক্ষকেরা গেস্ট হাউজ ছাড়তে বাধ্য হন।  


এই ঘটনায় ধিক্কার জানিয়েছেন সমাজের বিশিষ্ট জনেরা। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন "পুলিশ নিশ্চয়ই ঘটনাটির তদন্ত করে দেখে ব্যবস্থা নেবে"। সিপিএম নেতা প্রাক্তন সাংসদ মুহাম্মদ সেলিম এ সম্পর্কে বলেছেন "মোদি সরকার এবং আরএসএস গোটা দেশের ইকো সিস্টেমটাকে পালটে দিয়েছে। ধর্মীয় প্রোফাইলিং করা আইনের পরিপন্থী।  তাঁর দাবি অবিলম্বে ওই গেস্ট হাউজের সেই লাইসেন্স বাতিল করতে হবে "। 


শেষ খবরে জানা গিয়েছে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৫ জনকে বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ আটক করেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only