সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

তালিবানদের সঙ্গেও এক টেবিলে বসতে পারে তবে কাশ্মীরিদের সঙ্গে নয় কেন? কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেছেন উপত্যকার রাজনীতিকরা



শ্রীনগর,১৪ সেপ্টেম্বরঃ কাতারের দোহায় তালিবান-আফগান শান্তি বৈঠককে স্বাগত জানিয়ে তাতে যোগ দিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রতিনিধি তালিবানদের সঙ্গে হওয়া কোনও বৈঠকে যোগ দিলেন। যদিও তালিবানদের বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধির অংশগ্রহণকে কটাক্ষ করেছেন কাশ্মীরের একাধিক রাজনৈতিক নেতা। 


উপত্যকার নেতাদের বক্তব্য, তালিবানদের সঙ্গে এক টেবিলে বসতে পারে কেন্দ্র। কিন্তু কাশ্মীরিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে না। তালিবানদের প্রতি ভারত আন্তরিকতা দেখাতে পারছে, কিন্তু কাশ্মীরিদের ক্ষেত্রে তারা সেটা পারে না। তাঁদের প্রশ্ন, কাশ্মীরের প্রতি কেন দিল্লি এই ধরনের কোনও ‘সমন্বয়মূলক দৃষ্টিভঙ্গি’ দেখাতে পারে না? কেন সমস্ত ‘বর্বরতা’ শুধু কাশ্মীরিদের জন্যই? 


পিডিপি’র প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী নঈম আখতার ট‍ুইটে একরাশ ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেছেন, ‘তালিবানদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেওয়ায় কোনও সমস্যা হচ্ছে না। তবে মেহবুবা মুফতিকে অবশ্যই কারাগারে থাকতে হবে। আর কাশ্মীরি যুবক-যুবতীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বন্দুক ছাড়া আর অন্য কিছু নেই।’ আখতার আরও বলেন, ‘এই অঞ্চলে শান্তির সমস্ত রাস্তা কাশ্মীর হয়েই যায়। দিল্লি (পড়ন কেন্দ্র) এখন তালিবানদের সঙ্গে এক টেবিলে বসতে পারছে। অথচ, একদিন আগেও ভারত তালিবানদেরকে সমস্ত সমস্যার উৎস বলে মনে করত। কিন্তু কাশ্মীরে দিল্লি কেবল বন্দুকের নল দিয়ে কথা বলে। ৩৭০ রদ করে কেন্দ্র জম্মু-কাশ্মীরকে একটি পুরসভায় পরিণত করেছে।’ 


আখতার আরও বলেন, ‘দিল্লি যদি জম্মু-কাশ্মীরের মর্যাদার আরও অবনতি ঘটনায় এবং জনবিন্যাস পালটে দেওয়ার নীতি চালিয়েও যায় তা সত্ত্বেও কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের জন্য এখনও আলোচনার পথই অবলম্বন করতে হবে।’ ‘পিপলস কনফারেন্স’ নেতা সাজাদ গণি লোন বলেন, দিল্লির বর্বরতা শুধু কাশ্মীরিদের জন্যই। বিস্মিত হচ্ছি, তালিবানদের সঙ্গে আলোচনার সময় ভারতের পেশি শক্তি কোথায় অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।’


উল্লেখ্য, আফগান-তালিবান বৈঠক নিয়ে পরে ট‍ুইট করে জয়শংকর বলেছিলেন, ‘শান্তি প্রক্রিয়া অবশ্যই আফগান-নেতৃত্বাধীন, আফগান-অধীনস্থ ও আফগান-নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। দোহা বৈঠকে উচিত আফগানিস্তানের জাতীয় সর্বভৌমত্ব ও প্রাদেশিক অখণ্ডতাকে সম্মান করা। মানবাধিকার ও গণতন্ত্রকে তুলে ধরা। সংখ্যালঘু, মহিলা ও দুর্বলদের স্বার্থ সুনিশ্চিত করা। কার্যকরী পদক্ষেপ করে সারাদেশে সহিংসতার সমাধান করা।  আফগানিস্তানের সঙ্গে আমাদের দেশের মানুষদের বন্ধুত্বর সাক্ষ্য আফগানিস্তানের সঙ্গে আমাদের ইতিহাসে রয়েছে। 


আফগানিস্তানের এমন কোনও অংশ নেই যা আমাদের ৪০০-র বেশি উন্নয়নমূলক প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত নয়। আমি আত্মবিশ্বাসী যে দু’দেশের এই সভ্যতার সম্পর্ক বাড়তেই থাকবে।’ রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, তালিবানদের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে জয়শংকরের এই মন্তব্যগুলি তো কাশ্মীরের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাহলে কাশ্মীরের প্রতি এইসব কথা কেন বলতে পারছে না কেন্দ্র? তাহলে কি কাশ্মীরিদের থেকেও তালিবানদের প্রতি ভারত সরকার বেশি আন্তরিক?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only