রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বাদল অধিবেশনের আগে জিএসটি নিয়ে সরকারের বির‍ুদ্ধে একজোট হচ্ছে বিরোধীরা



পুবের কলম, নয়াদিল্লিঃ জিএসটি-র ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা কীভাবে পাওয়া যাবে--- কেন্দ্রকে এই প্রশ্নে ঘিরে ধরতে প্রস্তুত যূথবদ্ধ বিরোধী দল। আগামী সোমবার থেকে করোনা সংক্রান্ত বিশেষ নিরাপত্তার ঘেরাটোপে শুরু হতে চলেছে সংসদের বাদল অধিবেশন। এই অধিবেশনের আগেই কংগ্রেস, তৃণমূল, আম আদমি পার্টি এবং তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি যৌথভাবে কৌশল ঠিক করে ফেলেছে।


কারণ, জিএসটি ক্ষতিপূরণের টাকা না পেলে রাজ্যগুলির উন্নয়নের কাজ থমকে যাবে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করতে চাইছে বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলি। কংগ্রেসের ডেপুটি লিডার (রাজ্যসভা) আনন্দ শর্মা জানিয়েছেন, রাজ্যগুলিকে জিএসটি ক্ষতিপূরণ না দেওয়া আসলে সংসদে পাশ হওয়া আইনের উল্লঙ্ঘন। এতে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আঘাত করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলি এক সঙ্গেই এই ইস্যু তুলে ধরবে সংসদের বাদল অধিবেশনে। করোনা আবহে যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধীদের প্রশ্ন করার সময় কমিয়ে দিয়েছে, তাহলে কীভাবে এই ইস্যু সংসদে সফলভাবে তোলা যায়?


সূত্রের খবর, বিরোধীরা দৃষ্টি আকর্ষণ প্রস্তাবের (কলিং অ্যাটেনশন মোশন) মাধ্যমে জিএসটি ক্ষতিপূরণের ইস্যুটি সংসদে তুলতে পারেন। লোকসভা রুল ১৯৭-এর মাধ্যমে জনস্বার্থে জড়িত যেকোনও ইস্যু দৃষ্টি আকর্ষণ প্রস্তাবের মাধ্যমে তোলা যায়। সাধারণত ৫ সাংসদকে দৃষ্টি আকর্ষণ প্রস্তাব তোলার অনুমতি দেওয়া হয়। তারপর এই ইস্যুর উপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তাঁর বক্তব্য রাখেন। এরপর সাংসদরা ইস্যু সংক্রান্ত প্রশ্ন করেন। তারপর চূড়ান্ত বক্তব্য রাখেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের মন্ত্রী।


সম্প্রতি রেটিং এজেন্সি ইকরা তাদের সমীক্ষায় জানিয়েছে যে, জিএসটি ক্ষতিপূরণ যদি রাজ্যগুলিকে না দেওয়া হয় তাহলে তারা যৌথভাবে রাজ্যের স্বার্থে খরচ কমাতে বাধ্য হবে। ইকরার সমীক্ষা অনুযায়ী উন্নয়নের স্বার্থে রাজ্যগুলি জমি, মেশিনপত্র এবং স্থায়ী সম্পদে (ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট) ৩ লাখ কোটি টাকা খরচ করা থেকে বঞ্চিত হবে। এর প্রভাব পড়বে রাজ্যগুলির অর্থনীতির উপর। 


গত মাসে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন জানিয়েছিলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব যেহেতু ‘দৈব বিপর্যয়’ বা ‘অ্যাক্ট অফ গড’, তাই কেন্দ্রের কিছু করার নেই। জিএসটি বা পণ্য পরিষেবা কর এই মহামারির সময় যথেষ্ট আদায় হয়নি। আদায় লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক কম হয়েছে। তাই রাজ্যগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব নয়। রাজ্যগুলি চাইলে তারা ঋণ নিয়ে তাদের কাজ চালাক। ইকরা রেটিং এজেন্সি তাদের সমীক্ষায় জানিয়েছে, যদি রাজ্যগুলি ঋণ নিয়ে ক্ষতিপূরণের অভাব পূরণ করতে যায়, তাহলে তাদের রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ৪.২৫ থেকে ৫.৫২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। যার সামগ্রিক প্রভাব পড়বে রাজ্যগুলির অর্থনীতির উপর। 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only