সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

হিন্দু পুরোহিতরাও মাসিক ভাতা পাবেন, সঙ্গে বাড়ি ! বিজেপির হিন্দুত্বের তাসকে ভোঁতা করে দিয়ে মমতার মাস্টারস্ট্রোক ?

 




পুবের কলম প্রতিবেদক: বাংলায় একুশের বিধানসভা ভোটে সাফল্য পেতে হিন্দুত্বের অস্ত্রেই শান দিচ্ছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। ধর্মের বিষ ছড়ানোর ষড়যন্ত্র করছিলেন জেপি নাড্ডা-দিলীপ ঘোষরা। সোমবার এক মাস্টারস্ট্রোকে বিজেপির সেই ‘ষড়যন্ত্র’ ভেস্তে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ওয়াকফ বোর্ডের’ সম্পত্তির আয় থেকে ইমাম-মোয়াজ্জেনদের ভাতা দেওয়ার জন্য যিনি বিজেপি নেতাদের কাছে ‘হিন্দুবিরোধী’ হিসেবে বিদ্ধ হচ্ছিলেন, এদিন সেই মুখ্যমন্ত্রীই ঘোষণা করলেন, ‘পুজোর মাস থেকে রাজ্যের ৮ হাজার গরিব সনাতনী ব্রাহ্মণ অর্থা‍ৎ পুরোহিতদের মাসিক এক হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। সঙ্গে বাংলা আবাস যোজনায় বাড়িও করে দেওয়া হবে।’

মুখ্যমন্ত্রীর এমন আকস্মিক ঘোষণায় চমকে গিয়েছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ধর্মের বিষ ছড়ানোয় পারদর্শী গেরুয়া শিবিরের নেতাদের মুখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে। অকারণে স্মো-পাউডার মেখে ‘দালাল’ টিভি চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে যারা প্রতিক্রিয়া জানান, সেই বিজেপি নেতারা মুখে লিউকোপ্লাস্ট গুঁজেছেন। রাজ্যের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানোর মতো স‍ৎ সাহসটুকু দেখাতে পারছেন না, পাছে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ‘কৃতিত্ব’ পেয়ে যান। 

নবান্নে এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বহু হিন্দু

ব্রাহ্মণ রয়েছেন যারা পুজোর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের অনেকেই আর্থিক কষ্টে রয়েছেন। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সনাতনী ব্রাহ্মণ সংগঠনের পক্ষ থেকে সেই গরিব পুরোহিতদের আর্থিক সাহায্যের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ইতিমধ্যেই আমাদের কাছে আর্থিক দিক থেকে অস্বচ্ছ্বল ৮০০০ পুরোহিতদের তালিকা জমা পড়েছে। আমরা ঠিক করেছি, তাদের প্রতি মাসে সাম্মানিক হিসেবে এক হাজার টাকা করে ভাতা দেব। জানি এক হাজার টাকা খুবই কম। তবুও আমরা সম্মান জানাতে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই সঙ্গে যাদের নিজস্ব বাড়ি নেই, তাদের ধীরে-ধীরে বাংলার আবাস যোজনায় নিজস্ব বাড়িও তৈরি করে দেব। আপাতত ৮০০০ পুরোহিতকে মাসিক ভাতা দিলেও, ওই সংখ্যাটা বাড়বে। যারা অস্বচ্ছ্বল তাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে।’

ইতিমধ্যেই সনাতন পুরোহিতদের জন্য মন্দির সহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরির জন্য এক টাকার বিনিময়ে কোলাঘাটে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জমি দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নবদ্বীপের মায়াপুরে অন্যতম হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন ‘ইসকন’কে ৭০০ একর জমি ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। হিন্দু পুরোহিতদের ভাতা দেওয়ার বিষয়টি অন্যভাবে না দেখার অনুরোধ জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা সব ধর্মকে সমান চোখে-সমানভাবে দেখি। কাল যদি গরিব কোনও পাদ্রি সাহায্য চান, তাহলে আমি তাদের সাহায্য করব। কোনও ধর্ম-রং দেখে মানুষকে বিচার করি না। অসহায়দের পাশে শুধু দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।’ 

মুসলিমদেরই ‘ওয়াকফ’ সম্পত্তি থেকে ইমাম-মোয়াজ্জেনদের 

ভাতা দিতে গিয়ে বিজেপি সহ কট্টর হিন্দু সংগঠনগুলির নেতাদের কম আক্রমণ সহ্য করতে হয়নি মুখ্যমন্ত্রীকে। লোকসভা ভোটের আগে হিন্দুত্বের ভাবাবেগে সুড়সুড়ি দিয়ে ইভিএমে ফসল তুলতে সক্ষম হয়েছিল ধর্মের বিষ ছড়ানো গেরুয়া শিবিরের নেতারা। একুশের বিধানসভা ভোটের আগে ফের হিন্দুত্বের শস্ত্রে নতুন করে শান দিতে শুরু করেচিল। কিন্তু তা এদিন এক মাস্টারস্ট্রোকে ভেস্তে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

অন্যদিকে করোনা আবহে বাংলার দুর্গাপুজো নিয়ে রাজ্য সরকারের গায়ে হিন্দু বিরোধী তকমা সেঁটে দিতে সুগভীর চক্রান্ত শুরু করেছিল গেরুয়া শিবির। হোয়াটসঅ্যাপে গুজব ছড়ানো শুরু হয়েছিল। বেশ কয়েকজন নাটের গুরুকে পুলিশ পাকড়াও করেছে। এদিন নবান্নে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় গঠিত গ্লোবাল অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘আসন্ন দুর্গাপুজো কীভাবে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর পুজো কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।’ 

তবে করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে যাতে এবার খোলা মণ্ডপে পুজো করা হয়, তার জন্যও পুজো কমিটিগুলিকে পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তাঁর কথায়, ‘পুজো কমিটিগুলিকে অনুরোধ করব, খোলামেলা প্যান্ডেল করার জন্য। তার কারণ প্যান্ডেলের একাংশ খোলা থাকলে হাওয়া-বাতাস বইবে। জীবাণু থাকলে তা বেরিয়ে যাবে। বদ্ধ প্যান্ডলে ভেন্টিলেটরে তা সম্ভব নয়। তবে সবটা খোলা রাখতে হবে, সেটা বলছি না। মানুষ যেখানে দাঁড়িয়ে অঞ্জলি দেবেন বা প্রতিমা দর্শন করবেন সেই জায়গাটা খোলা রাখতে বলছি।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only