রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে বিদ্রোহের সুর রাহুল সিনহার



পুবের কলম প্রতিবেদক­‌: একুশের বিধানসভা ভোট যত এগোচ্ছে ততই বঙ্গ বিজেপির অন্দরে ‘নব্য’ বনাম ‘আদি’ লড়াই তীব্র হয়ে উঠেছে। শনিবার সাংগঠনিক রদবদলে জাতীয় সম্পাদকের পদ থেকে বাদ পড়েই সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন বঙ্গ বিজেপির অন্যতম শীর্ষনেতা রাহুল সিনহা। ৪০ বছর দল করার পরে এমন পুরস্কার পেয়ে এতটাই ক্ষুব্ধ রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি যে সরাসরি প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ‘১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যেই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঠিক করবেন।’


একুশের বিধানসভা ভোটের দিকে নজর রেখে এ দিনই সাংগঠনিক রদবদলে মুকুল রায়কে দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদে বসানো হয়েছে। মুকুল-ঘনিষ্ঠ বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরাকে জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে। আর তা করতে গিয়ে বঙ্গ বিজেপির প্রবীণ নেতা রাহুল সিনহাকেই ছেঁটে ফেলেছে বিজেপি শীর্ষনেতৃত্ব। এমন চরম অপমান মোটেই ‘হজম’ করতে পারছেন না একসময়ে রাজ্য যুব মোর্চার সভাপতি এবং রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব সামলানো নেতা। 


জাতীয় সম্পাদকের পদ হারিয়ে ‘অনুশাসনে’র তোয়াক্কা না করে মুখ খুলেছেন রাহুল। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, ‘চল্লিশ বছর ধরে বিজেপির একজন সৈনিক হিসাবে দলের সেবা করে এসেছি। জন্মলগ্ন থেকে বিজেপির সেবা করার পুরস্কার এটাই যে একজন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা আসছেন, তাই আমায় সরতে হবে। এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্যের কিছু হতে পারে না।’ এখানেই থামেননি তিনি কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে বলেছেন, ‘দল যে পুরস্কার দিল, তার পক্ষে-বিপক্ষে আপাতত কিছুই বলছি না। যা বলার দশ-বারো দিনের মধ্যে বলব। আমার ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ঠিক করব।’


রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ‘দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ‘সবক’ শেখাতে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে নাম লেখাতে পারেন রাহুল। আর সেটা একুশের বিধানসভা ভোটের আগে বড় ধাক্কা হবে দলের কাছে।’ আবার অন্য অংশ মনে করছেন, ‘ক্ষোভ উগরে দিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছেন রাহুল সিনহা। আসলে রাজ্যপাল বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্যই তাঁর এমন বিদ্রোহ।’ 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only