শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

"শিক্ষকতা থেকে আজ সহকারী কমার্শিয়াল ট্যাক্স অফিসার " নাছোড় বান্দা মুর্শিদাবাদের মাফিকুল ইসলাম

 



পুবের কলম প্রতিবেদক:­চোখে স্বপ্ন থাকলে সেই স্বপ্নকে কীভাবে লালন করতে হয় তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ মুর্শিদাবাদের ডোমকল থানার রঘুনাথপুর গ্রামের মাফিকুল ইসলাম। আর্থিক অনটনের জন্য যিনি নিজের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ভেস্তে দিয়েছিলেন সেই মাফিকুল ইসলাম আজ রাজ্যের রাজস্ব বিভাগের সহকারী কমার্শিয়াল ট্যাক্স অফিসার। গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালের রাজ্যের সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার গ্র&প ‘সি’ বিভাগের ৯৪ জনের চূড়ান্ত ফলাফলের তালিকা প্রকাশিত হয় এবং তাতে   চূড়ান্ত  প্রার্থী তালিকায় স্থান পায়  মাফিকুল ইসলাম ।

মাফিকুলের পিতা রমজান আলি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে নিজের সামান্য জমিতে চাষাবাদ করে দিন গুজরান করতেন।  

মাফিকুল ১৯৯৭ সালে ডোমকল ভবতারণ হাইস্কুলে উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং ৬২.৮ নম্বর নিয়ে ১৯৯৯ সালে পাসও করেন। ডোমকল কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না থাকায় বাইরে গিয়ে পড়াশোনার কথা ভাবেননি। এমনকী বহরমপুরের ‘মুর্শিদাবাদ কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’র ইঞ্জিনিয়ার বিভাগে সুযোগ পেয়েও যেতে পারেননি আর্থিক কারণে। এরপর সংসারের হাল ধরতে বহরমপুর পিটিটিআই কলেজে ভর্তি হন প্রাথমিক শিক্ষক হওয়ার প্রশিক্ষণ নিতে।

২০০২ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। চাকরি পেয়ে আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলেও উচ্চশিক্ষা লাভের স্বপ্ন তখনও মরেনি মন থেকে। তাই তিনি ২০০৫ সালে দূরশিক্ষার মাধ্যমে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয় নিয়ে এমএ পাস করেন ৫২.২৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে। এই ফলাফলের ভিত্তিতে তিনি ২০০৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেন এবং ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে ন্যাশনাল এনট্রান্স হাইস্কুলে যোগদান করেন। 

তাঁর কথায়– আমার চাকরি পাওয়ার পর আব্বা-মা খুশি হলেও সব সময় দুঃখ করতেন– কাঁদতেন। আক্ষেপ করে বলতেন– ‘অভাব না থাকলে হয়ত আমি আরও ভালো চাকরি পেতাম।’ তাঁদের এই আক্ষেপের জন্যই সিদ্ধান্ত নিই রাজ্য সরকারের সমস্ত সর্বোচ্চ পরীক্ষাগুলোতে বসব। 

এরপর রাজ্য সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় ২০১৫ সালে উত্তীর্ণ হন এবং সিভিল সার্ভিসেসের গ্র&প ‘ডি’তে ইন্টারভিউর ডাক পান। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকাতে তিনি স্থান করে নিতে পারেননি। 

 স্নাতকোত্তরে ইংরেজিতে ৫৫ শতাংশ না থাকায় কলেজের অধ্যাপক হওয়ার পরীক্ষায় সুযোগ তাঁর ছিল না। তাই তিনি পুনরায় দূরশিক্ষায় ২০১৬ সালে ইগ্নুতে ইতিহাস নিয়ে এমএ’তে ভর্তি হন এবং ৬৯ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাস করেন। 

তাঁর এই শ্রম বৃথা যায়নি। তিনি রাজ্যের কলেজেগুলিতে অধ্যাপনার পরীক্ষায় (সেট) সাফল্য লাভ করেন। ২০১৮ সালের সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় তিনি রাজস্ব বিভাগের সহকারী কমার্শিয়াল ট্যাক্স অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হন। 

প্রতিকূলতাকে হারিয়ে মাফিকুলের এই সাফল্য দরিদ্র মেধাবী ছেলেমেয়ের অনুপ্রেরণীয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only