মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

দিনমজুরের ছেলে হতে চলেছে যুগ্ম বিডিও, প্রস্তুতি শুরু ইউপিএসসি-এর

 


রাবিয়া বেগম, বহরমপুরঃ দিনমজুরের ছেলে হতে চলেছে জয়েন্ট বিডিও। ২০১৮ সালের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ফাইনাল রেজাল্ট প্রকাশ হয়েছে কিছুদিন আগে। সিভিল সার্ভিস গ্রুপ ‘সি’ জয়েন্ট বিডিও পদের ৯৪ জনের যে নামের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে সেই তালিকায় ২৬ নম্বরে নাম দিলবার হোসেন-এর। ডোমকল থানার কুশাবাড়িয়া গ্রামের দিনমজুর পরিবারের মেধাবী ছাত্র দিলবার হোসেন কয়েক মাস পরেই জয়েন্ট বিডিও হিসাবে কাজে যোগ দেবেন। এখানেই থামতে রাজি নয় দিলবার হোসেন। যথারীতি পড়াশোনা শুরু করে দিয়েছেন ইউপিএসসি অর্থাৎ আইএএস পরীক্ষার জন্য।

দিলবার হোসেন অবশ্য বর্তমানে রাজ্য সরকারের গ্রুপ ‘ডি’ পদে বহরমপুর মেন্টাল হাসপাতালে কর্মরত। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে গ্রপ ‘ডি’ পদে কাজে যোগ দেন।

কুশাবাড়িয়া হাইস্কুল থেকে ২০০৯ সালে মাধ্যমিকে ৮৩ শতাংশ নিয়ে পাশ করে আল-আমীন মিশন পাথর চাপড়ি শাখা থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন ২০১১ সালে। এখানে নম্বর ৮৭ শতাংশ। তারপর বহরমপুর কে.এন কলেজ থেকে গণিতে অনার্স নিয়ে ফাস্ট ক্লাস। তারপর সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে কলকাতায় যান। কলকাতায় ভয়েস কোচিং সেন্টারের ডিরেক্টর ডব্লিউ বিসি এস এক্সুকিউটিভ মনিরুল ইসলামের সহযোগিতায় পিএসসি পরীক্ষার পর গ্রুপ ‘সি’তে জয়েন্ট বিডিও তালিকায় ২৬ নম্বরে নাম দিলবার হোসেনের।

নিজের থানা শহর ডোমকল থেকে ১৮ কিমি দূরের প্রত্যন্ত গ্রাম কুশাবাড়িয়া গ্রামে বাড়ি। বাবা মোস্তাক আহম্মেদ দিনমজুর। দিলবার হোসেন জানান ‘নিজের লক্ষ্য স্থির রেখে নিষ্ঠার সঙ্গে পড়াশোনা করলে সফলতা আসবে। তবে আল্লাহর ইচ্ছায় আমি এই জায়গায় এসেছি। আবার ইউপিএসসি-র জন্য পড়াশোনা শুরু করেছি। বাবা দিন মজুরের কাজ করে আমার পড়াশোনার খরচ চালাতে পারেননি। অনার্স পড়ার সময় তিন বছর টিউশনিতে কোনও টাকা নেননি রিপন স্যার। আমার এই সাফল্যে জন্য ভয়েস-এর ডিরেক্টর মনিরুল ইসলাম স্যার আল-আমীন মিশনেরর অবদান যথেষ্ট। ২০০৯ সালে মাধ্যমিক পাস করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছি। ১১ বছর পর সফলতা এসেছে। রাজ্য সরকারের  গ্রুপ ডি ’ পরীক্ষায় সফল হয়ে গ্র&প ‘এ’-র চাকরিতে যোগ দিয়েছি গত বছর জানুয়ারি মাসে। জয়েন্ট বিডিও হিসাবে কাজে যোগ দেওয়ার আগে পর্যন্ত এই কাজটা করে যাব। 

দিলবার হোসেনের বাবা মোস্তাক আহম্মেদ জানান–‘দিলবার যা করেছে তা নিজের চেষ্টায়। আমি বাবা হিসাবে তেমন কিছুই করতে পারিনি ছেলের জন্য। দিন মজুরের কাজ করে জীবিকা চালিয়েছি। ছেলেকে কোনও টাকা দিতে পারিনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only