রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

দোহাতে তালিবান-আফগান বৈঠক, উ‍পস্থিত ভারত সহ ৩০ দেশ

 



দোহা, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ দুনিয়া কাঁপানো ৯/১১-র ২০ বছর উপলক্ষ্যে তালিবানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হল। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পেও-এর মধ্যস্থতায় শনিবার কাতারে এই বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন তালিবান শীর্ষ নেতৃত্ব এবং আফগানিস্তান সরকারের কর্তাব্যক্তিরা। কাবুল প্রশাসনের তরফে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আফগানিস্তান হাই কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন এবং প্রধান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ। 


অথচ ২০০১ সালে ঘটা ভয়াবহ ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার জন্য তদানীন্তন বুশের আমেরিকা এই আফগানিস্তান থেকেই সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধ শুরু করেছিল। আল-কায়দাকে দায়ী করে শুরু হওয়া সেই একতরফা যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয় আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন প্রভৃতি মুসলিম দেশে। হত্যা করা হয় পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে লুকিয়ে থাকা ওসামা বিন লাদেনকে। কিন্তু ১৯ বছর ধরে যুদ্ধ করে ৮টা মুসলিম দেশের ৮ লক্ষাধিক নিরীহ মানুষকে হত্যা করলেও সন্ত্রাস নির্মূল হয়নি। উলটে সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধের নামে পালটা সন্ত্রাসের বিষবৃক্ষ রোপণ করেছে পশ্চিমারা। 


এ দিকে তালিবান প্রসঙ্গে অবস্থান পুরোপুরি বদলে ফেলতে বাধ্য হল ভারত সরকার। এতকাল তালিবানকে ভয়াবহ সন্ত্রাসী সংগঠন বললেও এ দিন দোহা বৈঠককে স্বাগত জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এই প্রথম ভারতীয় প্রতিনিধি তালিবানের সঙ্গে কোনও বৈঠকে প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিলেন। বিদেশমন্ত্রকের যুগ্মসচিব জে পি সিং কাতারে গিয়েছেন। ভারত সহ সেখানে আমন্ত্রিত হিসেবে গিয়েছে ৩০ দেশের প্রতিনিধি।  


অন্যদিকে, ৯/১১ হামলার পর শুরু হওয়া কথিত সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধ চাপিয়ে ২০০১ সালেই তালিবান সরকারকে উৎখাত করেছিল আমেরিকা ও ন্যাটো। আর এখন ৯/১১-র ২০ বছরের মাথায় সেই ‘সন্ত্রাসী’ তালিবানের সঙ্গে বৈঠক ও চুক্তি করছে আমেরিকা। আবার টানা ৬ মাস টানাপড়েনের পর অবশেষে কাতারে শান্তি বৈঠক বসল শনিবার। সমন্বয়কারীর ভূমিকা নিয়ে কাতারে গিয়েছেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পেও। আফগান সরকারের সঙ্গে তালিবানের এই আলোচনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 


কারণ এর আগে তালিবানের সঙ্গে ১২ দফা বৈঠক ও চুক্তি করেছে আমেরিকা। রাশিয়া এবং চিনের সঙ্গেও কয়েক দফা বৈঠক করেছে তালিবান নেতৃত্ব। এতদিন তালিবান বলে আসছিল, আফগানিস্তানকে যেহেতু পরিচালনা করে আমেরিকা, তাই তারা আলোচনা বা চুক্তি যা কিছু করবে সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে। আফগান সরকারের সঙ্গে বৈঠকে তারা নিমরাজি ছিল। এ নিয়ে মার্চ থেকেই তরজা জারি ছিল। ফেব্র‍ুয়ারিতে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি সই করে তালিবান। সেইমতো তাদের ৫ হাজার বন্দিকে মুক্তিও দিয়েছে কাবুল প্রশাসন। তাই এবার আফগানিস্তান সরকারের সঙ্গে ম‍ুখোম‍ুখি বসল তারা।


কাতারের রাজধানী দোহায় এ দিন উভয় তরফের ২১ জন করে প্রতিনিধি আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। গতমাসে এই বৈঠক হবে কি না, সে সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী লয়া জিরগা। রাজনীতিবিদ ছাড়াও সমাজের সব স্তরের ৩২০০ প্রতিনিধি তালিবানের সঙ্গে বৈঠকের পক্ষে মতদান করেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only