শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অতিরিক্ত টাকা চেয়ে রোগীর পরিবারকে হুমকি, রুবি হাসপাতালের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা স্বাস্থ্য কমিশনের



পুবের কলম প্রতিবেদক­: সামান্য টাকা জমা করতে না পারার জন্য রোগী ভর্তি নেওয়া হয়নি এবং বিনা চিকিৎসায় রোগী মারা গিয়েছে, এমন অভিযোগ উঠেছিল ডিসানের বিরুদ্ধে। তারপরেই হইচই পড়ে যায় রাজ্যজুড়ে। বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ‘বাগে আনতে’ কয়েকদফা নির্দেশিকাও জারি করেছিল রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন। কিন্তু আখেরে বেসরকারি হাসপাতালগুলি যে সরকারি বা স্বাস্থ্য কমিশনের নির্দেশিকাকে অমান্য করেই চলেছে– ফের সেই ছবি প্রকাশ্যে এল। তবে স্বাস্থ্য কমিশনও চুপ করে নেই। অভিযোগ পেয়েই হাপাতালকে ভর্ৎসনা করার পাশাপাশি তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিল কমিশন। পৃথক একটি মামলায় হাপাতালের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন।


করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় মাত্রাতিরিক্ত বিল চাপানো ও টাকা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছিল ইএম বাইপাসের ধারে রুবি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগেই মান্যতা দিল রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন। শুধু তাই নয়, কড়া ব্যবস্থাও গ্রহণ করলেন কমিশনের চেয়ারম্যান প্রাক্তন বিচারপতি অসীম কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন সূত্রে খবর, দীপালি বিশ্বাস নামে নোয়াপাড়ার এক বৃদ্ধা ১৪ দিন রুবি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি মারা যান। অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির সময় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা আগাম জমা করা হয়েছিল। 


চিকিৎসার সময় ওষুধ কেনার সমস্ত বিল মেটানোর পরেও মৃত্যুর পর রোগীর পরিবারের কাছে আরও ৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা দিতে হবে বলে দাবি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, টাকার জন্য রীতিমতো হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছে মৃতের পরিবার। সেই ঘটনার কথা জানিয়ে রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনের দ্বারস্থ হয় দীপালি বিশ্বাসের পরিবার। আগের সপ্তাহে শুক্রবার ছিল সেই মামলার শুনানি। কিন্তু হাসপাতাল গরহাজির ছিল। ফের এ দিন রুবি কর্তৃপক্ষকে তলব করা হয়। এ দিনই শুনানি শেষে রায় প্রদান করেছে স্বাস্থ্য কমিশন। কমিশন ঠিক করেছে, অনৈতিকভাবে দাবি করা ৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা চাইতে পারবে না রুবি হাসপাতাল। বরং বিল হিসাবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ধার্য্য হবে। তবে একলপ্তে নয়, মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে কিস্তিতে সেই টাকা পরিশোধ করতে পারবে মৃতের আত্মীয়রা।


এ দিন আরও একটি মামলার ক্ষেত্রে রিপোর্ট তলব করেছে স্বাস্থ্য কমিশন। ৩ জুলাই বেহালার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন এক অন্তঃসত্ত্বা। অভিযোগ, ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বাকে আয়রন ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন। এ দিন সেই মামলার শুনানিতে সেই সময়েই কর্মরত ডাক্তার, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের ইনচার্জ ও ইঞ্জেকশন প্রদানকারীর বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only