মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ট্রেন নেই, অ্যাম্বুলেন্সই ভরসা রোগী ও পরিজনদের



স‍েখ কুতুবউদ্দিন 

বাস-মেট্রো চললেও চলেনি এখন ট্রেন, তবুও দূর-দূরান্তের রোগীদের ঠাসা ভিড় এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরে। সপ্তাহ দু’য়েক আগের চিত্রটা একদম পালটেছে। হুড়হুড় করে রোগী পরিজনদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। যাতায়াতের মাধ্যম এখন বাস  হলেও দূরের রোগীদের জন্য ভরসা একমাত্র ‘অ্যাম্বুলেন্স’। এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরে রোগী-পরিজনদের যেমন ভিড়, তেমনি ভিড়ে ঠাসা অ্যাম্বুলেন্স এবং পাবলিক গাড়ি। 


এক অ্যাম্বুলেন্স চালক শাহজাহান আলি জানালেন, অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এক সপ্তাহে তিনবার এসেছি। রাত-বিরেত না মেনে রোগীদের আসা-যাওয়ার কাজ আগে থেকে অনেকটাই বেড়েছে। বাড়িতে বসে থাকার সময় নেই। কখনও বহরমপুর, আবার কখনও কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতাল ‘চষে’ বেড়াচ্ছি।


এ দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রথম দিকে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স যে সহজে পাওয়া যাচ্ছিল না, তা সকলের জানা। সমীরণ দাস নামে এক অ্যাম্বুলেন্স চালক স্বীকার করে বলেন, কোনও রোগীর সর্দি, কাশি, জ্বর, ঠান্ডা লাগা প্রভৃতির লক্ষণ থাকলে তাদের নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছিল। কারণ একটাই করোনার আতঙ্ক।


উলুবেড়িয়া থেকে এসেছেন আনিসুর রহমান। অ্যাম্বুলেন্স চালক আনিসুর বলেন, করোনার শুরুর দিকে সমস্যা হয়েছে। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাসপাতাল যেতে বিশেষ অসুবিধা হচ্ছে না। রোগী নিয়ে আসা-নিয়ে যাওয়াই তাদের কাজ। তাই আল্লাহর উপর ভরসা রেখে রোগী পরিষেবা চালিয়ে যেতে চান তাঁরা। 


আরও কয়েকজন অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সরকারি হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সের জন্য সুরক্ষা পোশাক, হ্যান্ড গ্লাভস সহ অন্যান্য সুরক্ষাসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যাদের ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সুরক্ষাবিধির উপর জোর দেওয়া থাকলেও তা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। চালকদের কথায়, অ্যাম্বুলেন্স চালকদের কাজ রোগী নিয়ে আসা নিয়ে যাওয়া। এই সময়ে যদি আমরা কাজ না করি, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়? রোগী নিয়েই তো গাড়ি চালাই। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only