মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চিনা নজরদারিতে রয়েছে রামনাথ-মোদি-মমতা সহ ভারতীয় ১০ হাজার বিশিষ্ট ব্যক্তি



নয়াদিল্লি, ১৫ সেপ্টেম্বর‌: লাদাখে সাম্প্রতিক ভারত-চিন সীমান্ত বিবাদের পরিস্থিতিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি, বর্তমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, দু’ডজন মুখ্যমন্ত্রী সহ ১৩৫০ জন রাজনীতিক ও সেনাপ্রধানের উপর চিনা সরকার নজরদারি চালাচ্ছে। এই খবর সোমবার ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত হওয়ার পর ভারতের রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন শুরু হয়ে গেছে। সোমবার কংগ্রেস নরেন্দ্র মোদি সরকারকে প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছে তারা চিনা নজরদারির ব্যাপারে আদৌ কি জানত? কংগ্রেস দাবি করেছে সরকার যেন অবিলম্বে চিনের সরকারকে নজরদারির কাজ করার ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়।


বেজিংকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া দরকার, তারা যেন এই ঘৃণ্য কাজ করা থেকে বিরত থাকে। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপর চিনের নজরদারি চালানোর বিষয়টা খুবই গম্ভীর কারণ লাদাখে ভারত-চিন সীমান্তে চিনের ক্রমাগত তার আগ্রাসী মনোভাব দেখিয়ে চলেছে। কংগ্রেসের মুখপাত্র রকদীপ সিং সুরজেওয়ালা সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, গত মে মাস থেকে সীমান্তে উত্তেজনা রয়েছে অথচ সরকার কোনও সামাধান করছে না। সুরজেওয়ালা সরকারকে প্রশ্ন করেন, সরকার কি বুঝতে পারছে চিনা নজরদারির প্রশ্ন কতটা গম্ভীর? কেন সরকার বুঝতে পারল না যে, ভারতীয়দের উপর গোয়েন্দাগিরি করছে একটি আগ্রাসী দেশ? কেন্দ্র সরকার পর পর আমাদের সীমান্ত রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে?


প্রসঙ্গত, সোমবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রে যে তদন্তমূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দাবি করা হয়েছে চিন সরকার এবং চিনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত শেনজেন ইনফর্মেশন টেকনলজি নামক সংস্থা অনলাইনে ভারতীয়দের উপর নজরদারি চালাচ্ছিল। তারা এর জন্য ওভারসিজ কি ইনফর্মেশন ডেটাবেস তৈরি করেছিল। এই ডেটাবেসের মাধ্যমেই গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয়দের উপর নজরদারি চালাচ্ছিল শেনজেন নামক সংস্থা। 


এই নজরদারির আওতা থেকে কেউই বাদ যায়নি। মন্ত্রী থেকে মেয়র ও পঞ্চায়েত প্রধান, বিধায়ক, সাংসদ কেউ বাদ যায়নি চিনা নজরদারি থেকে। এতে রয়েছেন যেমন কংগ্রেস নেতারা, তেমনি রয়েছেন বিজেপির নেতারাও। বাদ যাননি কর্মী দলের নেতারাও। শেনজেন তাদের আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ডেটা টেকনিক ব্যবহার করে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে যাদের তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অন্তত ৪০ জন বর্তমান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাদের পরিসরের সদস্যরা। এঁরা বিজেপি ও কংগ্রেস-শাসিত রাজ্যগুলি থেকেই এসেছেন। এই তালিকায় যেমন রয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, তেমনি রয়েছেন দু’জন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও তাঁদের পরিবার। এঁরা হলেন প্রয়াত এ পি জে আবদুল কালাম এবং প্রয়াত প্রণব মুখার্জি। 


এই তালিকায় যেমন আছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তেমনি রয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত নরসিমা রাও, এইচ ডি দেবেগৌড়া, মনমোহন সিং এবং প্রয়াত অটল বিহারী বাজপেয়ী। এই তালিকায় নাম রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ও রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট।


চিনা নজরদারির তালিকায় যেমন রয়েছেন সোনিয়া গান্ধি ও তাঁর পরিবার তেমনি রয়েছেন প্রধান বিচারপতি ও মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এই তালিকাতে বাদ পড়েনি প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এবং করুণানিধিও। রয়েছে ভারতের সিডিএস বিপিন রাওয়াতের নামও। সিনেমা জগৎ থেকে যাঁরা রাজনীতিতে এসেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হেমা মালিনী, অনুপম খের, মুনমুন সেন, পরেশ রাওয়াল প্রমুখের। মোট ১০ হাজার রাজনীতিক এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপর নজরদারি চালাচ্ছে চিন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only