শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

করোনা-ভীতিকে নস্যাৎ করে মানবিকতার নজির গড়ছেন টোটোচালক মুনমুন



শিলিগুড়ি, রুবাইয়া

‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে’, মানবতার এই বাণী আজও যে একেবারে শেষ হয়ে যায়নি, তার চমকপ্রদ নজির শিলিগুড়ি শহরের মাঝবয়সি মহিলা টোটোচালক মুনমুন সরকার। শিলিগুড়িতে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করে চলেছেন মুনমুন। 


বর্তমান সময়ে আশপাশের কেউ করোনা পজিটিভ হলেই সকলে ভয়ে সিটিয়ে থাকে। নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিতে চেষ্টা করেন। এমনকী করোনা আক্রান্ত পরিবারকে একঘরে করে দেওয়ার মতো ঘটনাও বহুবার সামনে এসেছে। ঠিক তখনি মুনমুন ভয়ভীতি ভুলে নিজের টোটোতে চাপিয়ে করোনা আক্রান্তকে পৌঁছে দিচ্ছেন হাসপাতালে। পজিটিভ রোগীর বাড়ির অন্যান্যদেরও করোনা টেস্ট করাতে জীবনের পরোয়া না করে নির্দ্বিধায় নিয়ে যাচ্ছেন মুনমুন। ইউনিক ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার টিমেও আছেন তিনি। 


সম্প্রতি সাহিত্য পত্রিকা ফুলেশ্বরী নন্দিনীর একজন সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন শিলিগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হসপিটালে। চিকিৎসক ওই করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির স্ত্রী, মেয়ে ও নাতিকে টেস্ট করানোর কথা বলেন। কিন্তু তাদের কোনও টোটোচালক নিয়ে যেতে রাজি হননি।  সেই সময় মুনমুন হাজির হন তাঁর টোটো নিয়ে। শুধু তাই নয়, বিনা পারিশ্রমিকেই সে এভাবে কাজ করে চলেছে। 


উল্লেখ্য, শিলিগুড়ির প্রথম মহিলা টোটো চালক মুনমুন সরকার। ২০১২ সালে সংসারের হাল ধরতে টোটো চালাতে শুরু করেন। তারপর চলার পথে এসেছে বহু বাধাবিপত্তি ও কটূক্তি, কিন্তু হাজার বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও দমে যাননি লড়াকু মুনমুন। বহু মহিলা টোটোচালকের কাছে আজ মুনমুন অনুপ্রেরণা। তাঁকে দেখে অনেকেই এই পেশায় এসেছেন এবং দিব্যি শিলিগুড়ির বুকে টোটো চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। তবে মুনমুনের মতো মানুষ যেমন করোনায় আক্রান্তদের সহায়তা করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন, ঠিক উলটো ছবিও দেখা যায়। সম্প্রতি শিলিগুড়ি শহরে শিউরে ওঠার মতো একটি ঘটনা সামনে এসেছে।  


শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে করোনা আক্রান্ত এক বৃদ্ধকে তাঁর স্ত্রী অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যেতে পারেননি। বারবার সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করেছেন স্বামীকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলতে, তবুও কেউ এগিয়ে আসেননি সাহায্যের জন্য। অতঃপর হাসপাতাল চত্বরেই মৃত্য‍ু হয় বৃদ্ধের। 


তাই মুনমুনের সাহসিকতা এবং কোভিড আক্রান্তদের জন্য ভয়ভীতি বা নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা না ভেবে এগিয়ে আসা, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সারা ভারতের জন্যই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কিন্তু মুনমুনরা কেউই সহজে স্বীকৃতি পান না। তাঁদের এই ধরনের আত্মত্যাগমুখী কর্মকাণ্ডকে পুরস্কৃত করতে সমাজ কিন্তু এগিয়ে আসে না। তাই ‘করোনা যোদ্ধা’ পুরস্কার এখনও মুনমুনের কপালে জোটেনি। হয়তো মুনমুনরা তার আশাও করেন না। নীরবেই তাঁরা কাজ করে যান।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only