রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

৯/১১ এর ২০ বছর, মার্কিন আদালতের তলব ২৪ সাউদি নাগরিককে



ওয়াশিংটন, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ  ৯/১১ হামলার ১৯ বছর পূর্ণ হয়ে ২০ বছরে পড়ল। এই উপলক্ষ্যে শনিবার এক মার্কিন আদালত সউদি সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, তাদের ২৪ নাগরিককে জেরা করার জন্য আমেরিকায় পাঠাতে হবে। এর মধ্যে সউদি রাজপরিবারের এক সিনিয়র সদস্য এবং বেশ কয়েকজন প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মকর্তার নামও রয়েছে। ম্যানহাটন ফেডারেল কোর্টের বিচারক সারাহ নেটবার্ন শনিবার তাঁর রুলিংয়ে বলেন, ২০০১ সালের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তরফে ৪ বছর আগে এই আবেদন জানানো হয়। তার ভিত্তিতেই এ দিন আদালত বলে, অভিযুক্ত সউদি নাগরিকদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করাটা স্বজনহারা শহিদ পরিবারের সদস্যদের অধিকারের মধ্যে পড়ে। তাই সউদি সরকারকে আদালত নির্দেশ দিল, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ২৪ নাগরিককে আমেরিকা পাঠানোর জন্য।


১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ আমেরিকার ম্যানহাটনে অবস্থিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সদর দফতর পেন্টাগন এবং পেনসিলভানিয়ার এক ফাঁকা মাঠে সন্ত্রাসী হামলা হয়। যাতে সবমিলিয়ে প্রায় হাজার তিনেক মানুষের প্রাণহানি হয়। আমেরিকা অভিযোগ করে, ৩টি বিমান হাইজ্যাক করে আল-কায়দা সন্ত্রাসীরা একযোগে তিন জায়গায় হামলা চালায়।আল-কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেন জন্মসূত্রে সউদি নাগরিক হওয়ায় পরোক্ষে সউদি আরবকে অভিযুক্ত করা হয়।


যদিও পরবর্তীতে বিভিন্ন পশ্চিমা মিডিয়ায় ফাঁস হতে থাকে ৯/১১ সংক্রান্ত নানান অনুসন্ধানী রিপোর্ট ও গবেষণামূলক প্রতিবেদন। যেগুলোতে বলা হয়, ৯/১১ পুরোপুরি পরিকল্পনামাফিক এক নিপুণ ষড়যন্ত্রের ফসল। তদানীন্তন যুদ্ধবাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জুনিয়র বুশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ষড়যন্ত্র করে ওই হামলা ঘটায়। আর দায় চাপানো হয় আল-কায়দা এবং মুসলিমদের ওপর। একে একে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন, লিবিয়ার মতো মুসলিম দেশগুলোতে নারকীয় হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। প্রেসিডেন্ট বুশের সঙ্গে হাত মেলান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।  


সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভুল ও বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে কথিত সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে ৮ মুসলিম দেশে গণহত্যা ও ধ্বংসের পরেও ক্ষান্ত হয়নি পশ্চিমারা। তারপর প্রহসনের বিচারে ফাঁসিতে ঝোলানো হয় ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেনকে। ক্ষমতাচ্য‍ুত করার পর গুপ্তহত্যা করা হয় লিবিয়ার নয়া র‍ূপকার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মর গদ্দাফিকে। 


এ সবের অনেক পরে শিলকট কমিটির তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হলে জানা যায়, সম্পূর্ণ ভুয়ো গোয়েন্দা রিপোর্টে ভিত্তিতে ৮ মুসলিম দেশকে ধ্বংসস্ত‍ুপে পরিণত করা হয় এবং কঙ্কালসার করে দেওয়া হয়েছিল। সাদ্দাম হুসেন এমন কোনও মারণবোমা ও মারণাস্ত্র গোপন ডেরায় মজুত করেননি, যা প্রয়োগ হলে আমেরিকা-ইউরোপ ধূলিসাৎ হয়ে যেত। তবুও সেই সাজানো অভিযোগ তুলেই ইরাককে ধ্বংস করা হয়।


অন্যদিকে, আরেক ষড়যন্ত্রের তত্ত্বে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর নানান তথ্য। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সউদি ও ইসরাইলি নাগরিকদেরকে আগেভাগেই স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। সেই সময় অন্য কোনও দেশের নাগরিকদেরকে ফেরত পাঠানো হয়নি বা ফিরে যেতে দেওয়া হয়নি। আরেক তত্ত্বে বলা হয়, বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রে কর্মরত একজন ইহুদিও ৯/১১ তারিখে ওই ব্যস্ততম বহুতলে হাজির ছিলেন না। ষড়যন্ত্রের এরকম সব নানান শিহরণ জাগানো তথ্য ও তত্ত্ব উঠে এসেছে।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only