মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

রোহিঙ্গাদের ভোটাধিকার দিতে রাষ্ট্রসংঘের আহ্বান



নিউ ইয়র্ক, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ আগামী ৮ নভেম্বর মায়ানমারে পার্লামেন্ট নির্বাচন। এই মর্মে রোহিঙ্গা মুসলিম সহ সব জাতিগোষ্ঠীর ভোট দানের অধিকার সুনিশ্চিত করতে আহ্বান জানাল রাষ্ট্রসংঘ। শনিবার নিরাপত্তা পরিষদে মায়ানমার ইস্যুতে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা গণহত্যা ও শরণার্থী সংকটের ৩ বছর রাখাইনে সহিংসতা, কোভিড-১৯, কোফি আন্নান কমিশনের রিপোর্টের বাস্তবায়ন এবং রোহিঙ্গাদের নিজভূমে ফেরানোর প্রক্রিয়া ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ১৫ সদস্যের মধ্যে ৮ সদস্য দেশ রোহিঙ্গাদের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মায়ানমারকে চাপ প্রয়োগের ব্যাপারে সহমত পোষণ করে।


উল্লেখ্য, ৩ বছর কেটে গেলেও কোনও দেশ বা রাষ্ট্রসংঘ রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তেমন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। ৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে দেশছাড়া করা হয়েছে, খুন-ধর্ষণের কোনও খতিয়ান নেই। এমতাবস্থায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘিঞ্জি কলোনিতে কোনও রকমে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে রয়েছে। তারা নিজভূম মায়ানমারে ফিরতেই পারেনি। অথচ নিরাপত্তা পরিষদ আহ্বান জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য। এর থেকে হাস্যকর আর কী হতে পারে। বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে তারা কীভাবে ভোটের অধিকার প্রয়োগ করবে। 


রোহিঙ্গা গণহত্যায় অভিযুক্ত নোবেলজয়ী আউন সাং সু কি এবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। কিন্তু রোহিঙ্গা সহ দেশটির অন্যান্য মুসলিমদের মধ্য থেকে এবার সম্ভবত কোনও প্রার্থী থাকছে না। কারণ, নানান অজুহাতে তাঁদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। যদিও রোহিঙ্গা মুসলিমদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে অনেককাল আগেই। ১৯৮২ সালে তদানীন্তন সামরিক জান্তা সরকার আইন করে এটা করেছে। 


রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য মুসলিম জনগোষ্ঠী গতবারের নির্বাচনে আশায় বুক বেঁধেছিলেন, এবার গণতন্ত্রী নেত্রী সু কি ও তাঁর দল জিতলে হয়ত তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু না, ২০১৬ সালে সু কি সরকার ক্ষমতায় এলেও রোহিঙ্গাদের তিমির এতটুকু বদলায়নি। নাগরিকত্ব ফিরে তো পায়ইনি, উলটে সু কি সরকার যেভাবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিকেষ অভিযান, গণধর্ষণ ও গণহত্যা চালিয়েছে, যার জেরে প্রায় ৮ লক্ষাধিক মানুষ প্রতিবেশী বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। সু কি-র আগের কোনও সরকার রোহিঙ্গাদের প্রতি এত পাশবিক, বর্বরোচিত ও নারকীয় সহিংসতা চালায়নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only