শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কুৎসামূলক অনুষ্ঠান কেন‍? স‍ুদর্শন টিভির কাছে কৈফিয়ত চাইল সুপ্রিম কোর্ট



পুবের কলম, নয়াদিল্লিঃ সুদর্শন টিভির ‘বিন্দাস বোল’ অনুষ্ঠানকে সুপ্রিম কোর্ট সমালোচনা করার পর এই চ্যানেল সংস্থা জানিয়েছে যে তারা এই সপ্তাহের শেষের দিকে এফিডেভিট দায়ের করবে। ওই অনুষ্ঠানে দাবি করা হয়েছিল, সরকারি চাকরিতে ঢোকার জন্য মুসলিমরা চক্রান্ত করছে। এই চ্যানেল কর্তা সুরেশ চাবহানকে একটি নতুন টার্মেরও জন্ম দিয়েছেন ‘ইউপিএসসি জিহাদ’। 


তাঁর দাবি, দেশের আমলাতন্ত্রের মধ্যে ‘অনুপ্রবেশ’-এর জন্য মুসলিমরা ষড়যন্ত্র করে চলেছে। টিভিতে যা সম্প্রচারিত হয়েছে সেই ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের ‘আশঙ্কাকে নিবৃত্ত’ করতে সুদর্শন নিউজের পরিকল্পনা কী, তা জানতে চেয়েছিলেন বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। তারই প্রতিক্রিয়ায় এই সংস্থা এফিডেভিটের কথা জানিয়েছে। বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেছেন, ‘আমরা সাংবাদিকতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে চাই না। আদালত হিসাবে আমরা জানি, ইমারজেন্সির সময় কী ঘটেছিল। তাই, আমরা বাক্-স্বাধীনতা ও নতুন চিন্তাকে সুরক্ষা দেব। আমরা সেনসরশিপ চাই না। আমরা সেনসর বোর্ড নই। আমরা চাই, আসামিরা কীভাবে আমাদের আশঙ্কাকে নিবৃত্ত করবে সেই ব্যাপারে আমাদের জানাক।’ 


তিনি আরও বলেছেন, তাঁরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সম্মনা করেন। তবে এই বার্তাটিও মিডিয়ার কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন যে, কোনও সম্প্রদায়কে নিশানা করা যাবে না। কারণ হিসাবে বলেছেন, ‘একটাই জাতি হিসাবে আমাদের অস্তিত্ব। সম্মিলিতভাবে থাকতে হবে সবাইকে। কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে নয়।’ সুরেশ চাবহানকের অনুষ্ঠানকে উদ্দেশ্য করে তিনি এই কথাগুলি বলেছেন। 


এ দিকে সুরেশের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তিনি বিজেপির আদর্শত গুরুপ্রতিষ্ঠান আরএসএসে ‘বালক স্বয়ংসেবক’ হিসাবে যোগ দিয়েছেন। শীর্ষ আদালতে করা একটি পৃথক এফিডেভিটে সুদর্শন টিভি জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের প্রতি খারাপ মনোভাব তাদের নেই এবং দেশের স্বার্থে তারা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে থাকে। তবে একটি গোটা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কুৎসামূলক অনুষ্ঠান কেন করা হল সেই ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট কৈফিয়ত চেয়েছে সুদর্শন টিভির কর্মকর্তাদের কাছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only