মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

প্রকৃত দেশপ্রেমীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কেন? দিল্লি পুলিশকে নিরপেক্ষ তদন্তের আর্জি প্রাক্তন পুলিশকর্তা জুলিয়োর



নয়াদিল্লি, ১৫সেপ্টেম্বরঃ নিজের কর্মজীবনে দুঁদে পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এখন অবশ্য অবসর নিয়েছেন। কিন্তু তাতে কি! এখনও তিনি সমান অকুতোভয়। সোজা কথা সোজাভাবে বলতে দ্বিতীয়বার ভাবেন না। তিনি জুলিয়ো রিবেইরো। মুম্বইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার। দিল্লি সহিংসতা নিয়ে এবার তিনি মুখ খুলেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। দিল্লি পুলিশের কাছে তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানিয়ে কড়া চিঠি দিয়েছেন। 


উল্লেখ্য, রিবেইরো পুলিশ মহলে এক প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ১৯৫৩ সালে তিনি আইপিএস-এ যোগ দেন। প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে ১৯৮৭ সালে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে ভূষিত হন। তাঁকে গুজরাত পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলও করা হয়। ২০০২ সালে গুজরাত দাঙ্গা যখন থামার লক্ষণই দেখা দিচ্ছিল না তখন সেই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য রিবেইরোকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি কড়া হাতে গুজরাত দাঙ্গা দমন করেছিলেন। ১৯৮০ সালে পঞ্জাবের অস্থির পরিস্থিতিও তিনি সামলেছিলেন দক্ষ হাতেই।


চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘দিল্লি পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধেই। কিন্তু যাঁরা ঘৃণা ও বিদ্বেষ ভাষণ দিলেন, যা থেকে দাঙ্গা ছড়াল তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হল।’ দিল্লির বর্তমান পুলিশ কমিশনার এস এন শ্রীবাস্তবকে চিঠিটি দিয়েছেন তিনি। সেখানে তিনি দিল্লি সহিংসতার ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন। 


পুলিশকর্তা শ্রীবাস্তবকে লেখা চিঠিতে তিনি বলেছেন, ‘আমি খুব মনকষ্টে আপনাকে এই চিঠি লিখছি। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে এবং  ‘ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস’ (আইপিএস)-এর একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে আমি আপনাকে অনুরোধ করছি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যে ৭৫৩টি এফআইআর হয়েছে, তার স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য, যাঁরা একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পক্ষপাত ও ঘৃণা থেকে জন্ম নেওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। 



দিল্লি পুলিশ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু ভেবেচিন্তেই সেইসব লোকদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ পুলিশ নথিভুক্ত করেনি, যারা বিদ্বেষ ভাষণ দিয়েছিল এবং যা থেকে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে দাঙ্গা ছড়িয়েছিল। এটা আমার মতো অরাজনৈতিক মানুষকে খুব কষ্ট দেয়, কেন কপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুর এবং পরবেশ ভার্মাকে এখনও আইন-আদালতে তোলা হয়নি? 


অথচ অন্যদিকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিম মহিলা, ধর্মের ভিত্তিতে হওয়া বৈষম্যের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের একসঙ্গে মাসের পর মাস জেলে পুরে রাখা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ হর্ষ মান্দার এবং প্রফেসর অপূর্বানন্দর মতো প্রকৃত দেশপ্রেমিকদের যেভাবে ফৌজদারি মামলায় ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে, তা উদ্বেগের আরও একটি বিষয়। আমরা যারা পুলিশ ফোর্সে রয়েছি এবং ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) থেকে আনা পুলিশকর্তাদের একটি কর্তব্য রয়েছে এবং বাধ্যবাধকতা রয়েছে দেশের সংবিধানকে শ্রদ্ধা করার এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ না দেখে নিরপেক্ষভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। 


দয়া করে দিল্লিতে আপনার অধীনে থাকা পুলিশের পদক্ষেপ পুনর্যাচাই করুন এটা নির্ধারণ করার জন্য যে তাঁরা তাঁদের সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সময় নেওয়া শপথের প্রতি বিশ্বস্ত কিনা।---ইতি আপনার বিশ্বস্ত জুলিয়ো রিবেইরো।’ 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only