শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

লন্ডনে লাভ-জিহাদ মামলায় জাকির নায়েকের নাম!



চেন্নাই, ৪ সেপ্টেম্বর­‍‌: ‘লাভ জিহাদ’-এর কোনও সংজ্ঞা বর্তমান আইনে নেই, এমনকী চেন্নাইয়ে এই ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে কোনও মামলাও দায়ের করা হয়নি। ভারতীয় সংবিধানের ২৫নং অনুচ্ছেদে  জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতা ও তার অনুশীলন ও প্রচারের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। কেরলের উচ্চ আদালত-সহ বিভিন্ন আদালত এই মতামতকে সমর্থন করেছে। এই কথিত ‘লাভ জিহাদ’ শব্দবন্ধকে ভারতীয় দণ্ডবিধির কোথাও সংজ্ঞায়িত করা নেই। কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থাই ‘লাভ জিহাদ’-এর কোনও কেস দায়ের করেনি। 


এ দিকে তামিলনাড়‍ুতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ ‘লাভ জিহাদ’ সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত করছে এবং এফআইআর গ্রহণ করেছে। জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) একটি হাইপ্রোফাইল লাভ জিহাদ মামলার এফআইআরএ ইসলাম ধর্মের প্রচারক ও বক্তা জাকির নায়েক এবং পাকিস্তানের বংশোদ্ভ‍ূত দুই ধর্ম প্রচারককের নাম দিয়েছে। এই  মামলাটিতে চেন্নাইভিত্তিক ব্যবসায়ী এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিএনপির সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশের শীর্ষ রাজনীতিকের ছেলে জড়িত বলে সংবাদ সংস্থাসূত্রে জানানো হয়েছে।


এনআইএ এখন লন্ডনে ভারতীয় ব্যবসায়ীর মেয়ে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিবিদের ছেলের বিয়ে নিয়ে তদন্ত করছে। সংবাদসংস্থার তথ্য অনুসারে, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী জাকির নায়েককে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী পাকিস্তানি বংশোদ্ভ‍ূত এক ধর্ম প্রচারককের নাম এই মামলায় অভিযুক্ত হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মেয়ের বাবা প্রথমে মে মাসে চেন্নাই কেন্দ্রীয় অপরাধ  শাখায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। 


লন্ডনে পড়াশোনা করা তাঁর মেয়ে এক বাংলাদেশি মুসলিম যুবককে বিয়ে করেছে এবং তাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, তাঁর মেয়েকে লন্ডন থেকে অপহরণ করে কয়েকজন বাংলাদেশি নাকি বাংলাদেশে নিয়ে গিয়েছে। বিষয়টিতে বিদেশে তদন্তের প্রয়োজন থাকায় এই মামলাটি জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)‌-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। চেন্নাইয়ের পুলিশ কমিশনার মহেশ কুমার আগরওয়াল এক সংবাদসংস্থাকে এ কথা জানিয়েছেন। 


তিনি বলেন, মামলার বিষয়ে  বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব নয়। এনআইএ-র এফআইআরএ উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন জাকির নায়েক, পাশাপাশি ইয়াসির কাদি ও নওমান আলি খান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ইসলাম প্রচারক। প্রধান আসামি হলেন, বিএনপির নেতা সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ছেলে নাফিস। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে নরসিংদী-৪ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাখাওয়াত হোসেন বকুল।


উল্লেখ্য, ইদানীং ‘লাভ জিহাদ’ নামে বিচিত্র এবং বিতর্কিত এক শব্দ ভারতের উগ্র রাজনৈতিক হাওয়ায় ভাসছে। মুসলিম যুবক হিন্দু মেয়েকে প্রেমের টোপ দেখিয়ে বিয়ে করার পর তাকে ধর্মান্তরিত করছে এমনটাই অভিয়োগ কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির। মুসলিম বিদ্বজ্জন মুকররাম আহমেদ বলেন, ‘লাভ জিহাদ’ শব্দটি সমাজকে বিভক্ত করার একটা রাজনৈতিক চালমাত্র। ইসলাম ধর্মের অনুশাসন অন্য ধর্মে মাথা গলানোর কথা বলে না। এই নিয়ে অপপ্রচার চলছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only