বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তুলে পিটিয়ে খুন করার ঘটনা বৃহত্তর দিল্লিতে , এবারে প্রাণ হারালেন ক্যাবচালক আফতাব আলম



পুবের কলম প্রতিবেদকঃহুদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিংসার পেছনে মূল কারণ হিসাবে দেখা যাচ্ছে উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মান্ধতাকে। সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল আবার। বৃহত্তর দিল্লিতে আফতাব আলম নামে এক ক্যাবচালক নিহত হয়েছেন। নিহতের ছেলে মুহাম্মদ সাবিরের অভিযোগ উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতেই খুন হয়েছেন তার বাবা।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘দ্য ওয়্যার’ জানিয়েছে রবিবার দিল্লির ৪৫ বছর বয়সি ক্যাবচালক আফতাবের গাড়িতে রাত ৮টা নাগাদ দুই ব্যক্তি ওঠে। বুলন্দশহর থেকে দিল্লি পর্যন্ত যাওয়ার কথা ছিল তাদের। রাত ৮.৪০ নাগাদ ছেলের সাথে ফোনে শেষ কথা হয় তার। সেই সময় ফোনে কথা শুনে সন্দেহ হওয়ায় পরে আর যোগাযোগ করতে না পেরে থানায় খবর দেয় তার ছেলে। তার পুত্র মুহাম্মদ সাবির এ দিন রাতে তার বাবা আফতাব আলমের মোবাইল থেকে একটা ফোন কল পেয়েছিলেন। কিন্তু তার বাবা একটা কথাও বলতে পারেননি। পরবর্তী প্রায় ৪০ মিনিট ধরে সেই মোবাইলে কথাবার্তা হয় যা শুনতে পায় তার ছেলে সাবির। সেসব শোনার পর ২০ বছর বয়সি সাবির জানতে পারেন তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। আফতাব আলমের দেহ গভীর রাতে উদ্ধার হয় তার নিজের একটি গাড়িতে বাঁধা অবস্থায়। পুলিশই ফোন করে সাবিরকে এ খবর দেয়।
আফতাব আলমের মোবাইলে যে কথাবার্তা হয়েছিল তা নিউজ পোর্টাল ‘দ্য ওয়্যার’ হাতে পেয়েছে বলে জানান ওই পোর্টালের এক সাংবাদিক। সেই অডিও ফাইল সূত্রে দ্য ওয়্যার জানিয়েছে– আফতাব আলমকে হত্যার সময় ঘাতকদের বলতে শোনা যায় ‘জয় শ্রীরাম বোল, বোল জয় শ্রীরাম’। এই নিউজ পোর্টাল জানিয়েছে, সাবির যখন দেখেন তার বাবার কোনও কথা পাওয়া যাচ্ছে না, বরং অন্যদের কথা পাওয়া যাচ্ছে তখন নিজের ফোনের কল রেকর্ডিং শুরু করে দেন। সেই রেকর্ডিং করা অডিও ফাইল উল্লেখ করে দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, রাত ৮.৩৯ মিনিট নাগাদ একজনকে বলতে শোনা যায় ‘জয় শ্রীরাম বোল, বোল জয় শ্রীরাম’।
জোন ২ নয়ডার এসিপি রাজিভ কুমার জানিয়েছেন, ‘রাত ৯.৩০ নাগাদ দাদরি পুলিশ রিপোর্ট পাওয়ার পর সুইফট ডিস্যায়ারটির খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। খানিকক্ষণ পরে গাড়িটি খুঁজে পাওয়া যায়। ভেতর থেকে মাথার বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত নিয়ে আহত অবস্থায় আফতাবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃতু্য হয়।
আফতাবের ২২ বছর বয়সি ছেলে সারিব অবশ্য দাবি করেছে, ৮.৪০ নাগাদ ফোনে সে ধস্তাধস্তির আওয়াজ পেয়েছিল। দুজন ব্যক্তির একজন ‘বোল জয় শ্রীরাম’, ‘তু জয় শ্রীরাম বোল’ বলে ক্রমাগত ধমক দিচ্ছিল অন্য ব্যক্তির গলা ফোনে শোনা যায়নি।
সাবির জানিয়েছেন তার বাবা বুলন্দ শহরে তাদের এক বৃদ্ধ খরিদ্দারকে ছাড়তে গেছিলেন। রাত সাতটা নাগাদ সেখান থেকে বাড়ির পথে ফিরতে থাকেন। পথে ফাস্ট ট্যাগ রিচার্জ করার জন্য তাকে বলেন। রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ তাকে ফের ফোন করেন। এরপর সম্ভবত কিছু লোকের মাঝখানে পড়েন। আর তখন মনে হয় ফোনটা পকেটেই ছিল।
সাবির আরও জানান যে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে মোবাইলের কল রেকর্ড করেন যতক্ষণ না সুইচড অফ হয়। তখন ময়ূর বিহার থানায় গিয়ে সাহায্য চান তিনি। ওই থাকার সাব ইন্সপেক্টর সঞ্জয় তাকে সাহায্য করেন। সিম কার্ডের লোকেশন দেখে জানাজ , শেষ লোকেশন বলরামপুর থানা এলাকায়। সেখানে পুলিশ তার বাবাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। যদিও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সাবির জানিয়েছেন তার বাবার জিভে বাজে ভাবে আঘাত করা হয়েছিল। কান দিয়ে রক্ত ঝরছিল। তার মুখে বড় ক্ষতের চিহ্ন ছিল। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল এটা পিটিয়ে হত্যা। তবে বলরামপুর থানার পুলিশ এই ঘটনাকে লিঞ্চিং না বলায় হতাশ সাবির।
যদিও পুলিশ তার দাবি নস্যাৎ করে জানিয়েছে মদ্যপ অবস্থায় দুই ব্যক্তি আফতাব আলমের ক্যাবটি চুরির লক্ষ্য নিয়ে তাতে ওঠে। কোনও জিনিস কেনার জন্য তারা ক্যাবটি দাঁড় করায় এবং তারা নিজেদের মধ্যেই ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিচ্ছিল। আফতাবের মৃত্যুর  সঙ্গে ধর্মীয় যোগ নেই বলেই পুলিশের দাবি।
৩০২ নং ধারায় (খুন) মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে বাদলপুর থানার পুলিশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only