শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

‘আধারে’ আটকে অসমের লক্ষ লক্ষ  বাঙালিদের নাগরিকত্বের ভবিষ্যৎ



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ এ যেন শেষ হয়েও হচ্ছে না শেষ। দুঃশ্চিন্তার মেঘ কেটে যাওয়ার পরও ঘুরে ফিরে আসছে আতঙ্কের এনআরসি। অসমে বসবাসকারী বাঙালি সহ অন্যান্য অসমীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের এই নাগরিকপঞ্জির আতঙ্ক এখনও ধাওয়া করে চলেছে। যে ১৯ লক্ষাধিক মানুষের নাম নেই এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকায় তাদের যেমন দুশ্চিন্তার অন্ত নেই ঠিক তেমনিভাবে তারাও আতঙ্কিত তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে।

এনআরসি-তে যাঁদের নাম নেই তারা নাগরিকত্বের দাবি নিয়ে পুনরায় আবেদন জানাতে পারবেন ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে। তার জন্য দরকার এনআরসি দফতরের দেওয়া ‘রিজেকশন সার্টিফিকেট’। সেই সার্টিফিকেট এখনও ইস্যু করা শুরু হয়নি। অধিকাংশ এনআরসি সেবাকেন্দ্র বন্ধ পড়ে আছে কোভিড পরিস্থিতির কারণে। আর যাদের নাম রয়েছে চূড়ান্ত এনআরসি তালিকায় তাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ নতুন করে আবার সমস্যায় পড়েছেন। সমস্যাটা হল আধার কার্ড নিয়ে। তালিকায় নাম থাকা বহু মানুষের এখনও আধার কার্ড হয়নি। ফলে নতুন করে ভোগান্তি বেড়ে গেছে লক্ষ লক্ষ মানুষের। এমনকী ব্যক্তিগতভাবে আধার কার্ডের জন্য আবেদন করার পরও ইউডিআই-এর তরফ থেকে ‘হোল্ড’ দেখানো হচ্ছে। আবেদনকারীকে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে রাজ্যের গৃহ দফতরের সঙ্গে। গৃহদফতরে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে এনওসি আনার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে ইউডিআই-এ।

বিষয়টি যে অসমের স্বরাষ্ট্র দফতরের অজানা তা মোটেই নয়। যদিও তাদের কিছু এ বিষয়ে করার নেই কারণ বিষয়টি রেজিস্টার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার (আরজিআই) আওতায় রয়েছে। তাই বিষয়টি আরজিআই-এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে অসমের স্বরাষ্ট্র দফতর। এক সূত্রে জানা গেছে অসম সরকারের ‘হোম অ্যান্ড পলিটিক্যাল’ দফতরের তরফ থেকে আরজিআইকে নয়া আধার কার্ড তৈরির বিষয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কিছু করার নেই বলে দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে অসমের বিজেপি সরকার। অর্থাৎ আরজিআই-এ বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। বিষয়টির গভীরতার দিকে তাকিয়ে এখন প্রশ্ন হচ্ছে,রেজিস্টার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া,এনআরসি কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকারের এহেন টানাপোড়েন নাকাল হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ আবেদনকারী। এঁরা কোন দিকে যাবেন ,কি করবেন। কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না। এমনকী আধারের জন্য নতুন করে আবেদন করতে পারলেও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়া যাচ্ছে না। আর বায়োমেট্রিক না হলে মিলবে না আধার কার্ডও। আধার কার্ড না থাকার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের পেনশন,বেতন,গ্যাসের সংযোগ, ব্যাঙ্কের কাজকর্ম করতে বিস্তর ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। কেন-না এখন যে কোনও সরকারি কাজে কেন্দ্র সরকার আধার কার্ডকে বাধ্যতামূলক করেছে। এখন সেই আধার সমস্যায় দীশেহারা হয়ে পড়েছেন অসমে বসবাসকারী অসমীয়া সেই ৪০ লক্ষ মানুষ যাঁরা চূড়ান্ত এনআরসি খসড়া থেকে বাদ পড়েছিল। পরে অর্ধেক মানুষের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও তারাও পড়েছেন আধারের দোরগোড়ায়। এদের মধ্যে বেশি সংখ্যায় বাঙালি হিন্দু।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only